img

মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৮:২২, ১০ আগষ্ট ২০২৬

মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না: শিক্ষামন্ত্রী

২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে বড় ধরনের পতন দেখা গেছে। গতবারের তুলনায় এবার পাসের হার কমেছে প্রায় ৬ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

ফলাফলের এই নিম্নমুখী প্রবণতা নিয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাসের হার ও জিপিএ-৫ কমে যাওয়ার পেছনে পরীক্ষার মান, মূল্যায়ন পদ্ধতি কিংবা শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতির ঘাটতি—কোন বিষয়গুলো বেশি প্রভাব ফেলেছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।

সোমবার (১০ আগস্ট) সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ফলাফল ঘোষণা করেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সেখানে উঠে আসে এই তথ্য।

পরীক্ষায় পাসের হার কমে যাওয়া নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ‘মন খুলে গান গাওয়া যায়, পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া যায় না।’

সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১০টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ফলাফল প্রকাশ অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি এই মন্তব্য করেন।

শিক্ষকরা খাতা মূল্যায়ন ও নম্বর প্রদানে এবার কঠোর অবস্থান নিয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, মন খুলে গান গাওয়া গেলেও নম্বর দেওয়ার ক্ষেত্রে তেমন উদারতা দেখানোর সুযোগ নেই।

এ বছর গড় পাসের হার আগের বছরের তুলনায় নিম্নমুখী। পরিসংখ্যান বলছে, শূন্য শতাংশ পাসের প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডে এবার শূন্য পাসের প্রতিষ্ঠান দাঁড়িয়েছে ৫৭টিতে, গত বছর যা ছিল ৪৮টি। 

মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডে এ সংখ্যা এবার ২২৬টি, যেখানে ২০২৫ সালে ছিল মাত্র ৮৬টি। কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গত বছর কোনো প্রতিষ্ঠানে শূন্য পাসের হার না থাকলেও এবার তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৯টিতে।

img

ইসলামপুরে ৩ শিক্ষার্থীর জন্য ৯ শিক্ষক, সবাই ফেল

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ১১ আগষ্ট ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি উচ্চবিদ্যালয় এবং অন্যটি দাখিল মাদ্রাসা।

সোমবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য না হওয়ায় সেখানে শতভাগ অকৃতকার্যের হার দেখা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—ইসলামপুরের কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয় এবং বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা।

জানা গেছে, কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে তাদের একজনকেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় আটজন শিক্ষক থাকলেও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যালয়টি গত বছর পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।’

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, ‘কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, ‘শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে আমরা প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে জবাবদিহি চাইব। পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শিক্ষা এর আরও খবর