img

আসিফ নজরুলকে বাংলাদেশি নয়, ‘বিদেশি এজেন্ট’ মনে হয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

প্রকাশিত :  ১২:২২, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 আসিফ নজরুলকে বাংলাদেশি নয়, ‘বিদেশি এজেন্ট’ মনে হয়: নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী

সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলকে বাংলাদেশি নাগরিকের চেয়ে বিদেশি এজেন্ট বলেই মনে হয় বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। আসিফ নজরুলের ছাগল নিয়ে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তার ছাগল দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একই সঙ্গে সাবেক এই উপদেষ্টাকে ভণ্ড, প্রতারক ও মিথ্যাবাদী বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন এনসিপির এই নেতা।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। এর আগে রংপুর অভিমুখে লংমার্চ উপলক্ষে ১১ দলীয় ঐক্যের লিয়াজোঁ কমিটির জরুরি প্রস্তুতি সভায় অংশ নেন তিনি।

পাটওয়ারী বলেন, আসিফ নজরুলের একটি ছাগল খাওয়া হয়েছে, অথচ তার মতে দুটিই খাওয়া উচিত ছিল। একটি বাদ দেওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের ধিক্কার জানান। একইসঙ্গে আসিফ নজরুলকে ‘খুব ভালো মানুষ নন’ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে আসিফ নজরুল গরু, ছাগল ও মুরগি পালন শুরু করেছিলেন এবং এসব প্রাণী যেখানে রাখা হতো সেখানে পুলিশের সিকিউরিটিও দাঁড় করিয়েছেন।

ছাগল খাওয়ার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা সুযোগ পেলে আরেকটি ছাগলও খেতে পারেন—এমন মন্তব্যও করেন এনসিপির এই নেতা।

তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সম্পর্কে পাটওয়ারী বলেন, ‘আমি আসিফ নজরুলের বাসায় গিয়েছিলাম। তাকে বললাম, রাষ্ট্রপতি যে এখনো রয়েই গেল তাকে তো বাদ দিতে হবে। তিনি বললেন, দ্রুত সরকার গঠন করতে হবে। মানুষের তো খুব বাজে অবস্থা, নিরাপত্তা ছিল না তখন। আমি বললাম এটা হলে (সরকার গঠন) কি পরে রাষ্ট্রপতিকে বাদ দেওয়া হবে? তিনি বললেন, হ্যাঁ। এটা আমার দায়িত্ব।’

এরপর এনসিপি নেতা বলেন, ‘এ জন্য আমি আসিফ নজরুলকে দেখতে পারি না। তিনি দুই নাম্বার লোক। ভণ্ড, প্রতারক, মিথ্যাবাদী। প্রতিশ্রুতি যেটা দিয়েছে তা রাখতে পারেননি। তিনি শিক্ষক মানুষ, খুব সম্মান। তবে মনে হচ্ছে তিনি কোনো বিদেশি এজেন্ট, বাংলাদেশি লোক মনে হয় না।’

এর আগে ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ টকশোতে নিজের মেয়ের পোষা ছাগল চুরির ঘটনা নিয়ে কথা বলেন আসিফ নজরুল। তিনি ঘটনাটিকে তার জীবনের অন্যতম ‘হৃদয়বিদারক ঘটনা’ বলে উল্লেখ করেন।

টকশোতে আসিফ নজরুল জানান, হেয়ার রোডের সরকারি বাসায় একা থাকার কারণে সাড়ে ৯ বছরের ছোট মেয়ের সঙ্গী হিসেবে ছাগলটি কিনে দেওয়া হয়েছিল। ছাগলটির সঙ্গে মেয়ের গভীর সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। প্রতিদিন মেয়েটির স্কুলে যাওয়ার অপেক্ষায় থাকত ছাগলটি এবং স্কুল থেকে ফেরার পর তার সঙ্গে খেলাধুলা করত। এমনকি মেয়েটি ফোনের ওয়ালপেপারে মায়ের ছবির বদলে ছাগলটির গলা জড়িয়ে ধরে থাকা ছবি ব্যবহার করত।

ছাগলটি চুরি হওয়ার পর মেয়েটি প্রচণ্ড ট্রমাটাইজড হয়ে পড়ে বলেও জানান আসিফ নজরুল। কাঁদতে কাঁদতে বমি করে দেয় এবং টানা দেড় দিন কিছু না খেয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে।

আসিফ নজরুল বলেন, ঘটনাটিকে রাজনৈতিক প্রতিশোধ হিসেবে প্রচার করা হলেও মূলত মজা করার জন্যই ছাগলটি নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তবে একটি শিশুর পোষা প্রাণী চুরি করে খেয়ে ফেলার ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নির্মম ও অমানুষিক হিসেবে উল্লেখ করেন।

তিনি আরও জানান, ছাত্রনেতাদের রাজনৈতিক শত্রুতা বা প্রতিবাদস্বরূপ ছাগলটি চুরি করে খাওয়ার বিষয়টি সঠিক নয়।

২০২৪ সালের শেষ দিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আইন উপদেষ্টা থাকাকালে হেয়ার রোডের সরকারি বাংলো থেকে আসিফ নজরুলের ছোট মেয়ের পোষা ছাগল উধাও হওয়ার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছিল।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ময়মনসিংহ মেডিকেলে অগ্নিকাণ্ড, পদদলিত হয়ে শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১৮:১৮, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের একটি ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। আগুনের মধ্যে তাড়াহুড়ো করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় পদদলিত হয়ে এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশুসহ ছয়জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ছয়টার দিকে হাসপাতালের নতুন আটতলা ভবনের ওপরের অংশে এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন—হাজেরা বেগম (৫০), শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮), জাহানারা (৫০) ও কুলসুমা (৩৫)। নিহত অপর শিশুর বয়স ও পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সন্ধ্যার দিকে ভবনের আটতলায় আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গেই চারদিকে ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে। এতে বিভিন্ন ওয়ার্ডে থাকা রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক দেখা দেয়। প্রাণভয়ে সবাই একসঙ্গে অপ্রশস্ত সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করলে হুড়োহুড়ি ও ধাক্কাধাক্কির সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে অনেকেই পা পিছলে পড়ে যান এবং নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই শিশুসহ ছয়জনের প্রাণহানি ঘটে।

ঘটনার পরপরই খবর পেয়ে ময়মনসিংহের পাঁচটি স্টেশনের মোট ১০টি অগ্নিনির্বাপক ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের তৎপরতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে এলে বাড়তি ইউনিটগুলো ফিরিয়ে নেওয়া হয়। তবে সার্বিক পরিস্থিতি তদারকির জন্য ঘটনাস্থলে চারটি ইউনিট প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

অগ্নিকাণ্ডের বিষয়ে ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের লিফটের কন্ট্রোল রুমে থাকা মেশিনের সঙ্গে সংযুক্ত বোর্ডে অতিরিক্ত উত্তাপ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে তদন্ত শেষে বিস্তারিত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আগুনের তীব্রতা খুব বেশি না হলেও কন্ট্রোল রুম থেকে প্রচুর ধোঁয়া ভবনের বিভিন্ন তলায় ছড়িয়ে পড়েছিল, যা সাধারণ মানুষের মাঝে ব্যাপক ভীতির সঞ্চার করে।

হাসপাতালের সার্বিক পরিস্থিতির বিষয়ে উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডে হাসপাতালের চিকিৎসা ওয়ার্ডগুলোর কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। বৈদ্যুতিক সংযোগে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ ত্রুটি ছিল কি না এবং দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ খতিয়ে দেখতে প্রয়োজনীয় তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।