img

মোটা চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি: সিপিডি

প্রকাশিত :  ১২:০৭, ০২ জুন ২০২৪
সর্বশেষ আপডেট: ১২:১৬, ০২ জুন ২০২৪

মোটা চালের দাম বেড়েছে সবচেয়ে বেশি: সিপিডি

২০১৯ সালের তুলনায় ২০২৪ সালে পাঁচ বছর ব্যবধানে মোটা চালের দাম বেড়েছে ৩০ শতাংশ। একই সময়ে পাইজামের দাম বেড়েছে ১৫ ভাগ এবং মিনিকেট চালের দাম ১৭ ভাগ । অর্থাৎ মুনাফাখোররা বেশি লাভ সেখানে করছে, যে পণ্য গরিব ও মধ্যবিত্তরা ব্যবহার করে এবং বাজারে বেশি বিক্রি হয়। যা আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি। এক্ষেত্রে বাজার মনিটরিং ব্যবস্থায়ও দুর্বলতা দেখা গেছে।

রোববার গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বাংলাদেশ অর্থনীতি ২০২৩-২৪: তৃতীয় অন্তর্বর্তীকালীন পর্যালোচনা শীর্ষক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে সংস্থাটির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারা সরকারের জন্য বড় ধরনের ব্যর্থতা। ২০১৯ সাল থেকে খাদ্যমূল্য বিবেচনা করলে মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক। আয় কম, কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়। যার ভুক্তভোগী গরিব ও সাধারণ মানুষ। ধনী ও গরিবের বৈষম্য বেড়েছে। গরিবের আয় বাড়েনি। জিডিপিতে জাতীয় আয় বাড়ছে। কিন্তু কর্মসংস্থানের ভূমিকা রাখতে পারছে না।

গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, মূল্যস্ফীতিতে আমরা ৯ ও ১০ শতাংশে অবস্থান করছি। বর্তমানে শ্রীলঙ্কার চেয়েও বেশি।

তিনি জানান, তাদের পর্যালোচনা দেখা গেছে, গত ৫ বছরে মসুর ডাল ৯৫, আটা ৪০-৫৪, ময়দা ৬০, খোলা সয়াবিন ৮৪, বোতলজাত সয়াবিন ৫৬ ও পামওয়েলে দাম ১০৬ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গরুর মাংসের দামও বেশি। ব্রয়লার মুরগি ৬০ ভাগ, চিনির ১৫২ ভাগ, গুঁড়া দুধ ৪৬-৮০, পেঁয়াজ ১৬৪, রসুন ৩১০ ও শুকনা মরিচের দাম ১০৫ ভাগ বেড়েছে।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ নিম্ন আয়ের দেশ হয়েও বিলাসী দেশে পরিণত হয়েছে। আমরা আয় করি কম। কিন্তু খাবারের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়, যার ভুক্তভোগী গরিব ও সাধারণ মানুষ। আমরা কোন অর্থনীতির দেশে রয়েছি? সরকারের প্রচেষ্টা রয়েছে। সরকার অনেক সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের শুল্ক ট্যারিফ কমিয়ে দেয়। তার সুফল তোলেন এক ধরনের ব্যবসায়ীরা।

ধনী ও গরিবের বৈষম্য বৃদ্ধি পেয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে মাথাপিছু অভ্যন্তরীণ আয় ২৬৭৫ মার্কিন ডলার, আর মাথাপিছু জাতীয় আয় ২৭৮৪ ডলার। মাথাপিছু গড় আয় যতটুকু পেয়েছি, মূলত উচ্চ আয় করেন তাদের কারণে। গরিব মানুষদের কথা বিবেচনা করলে তাদের আয় কমে গেছে। এখানে বৈষম্য বেড়েছে। তাদের উন্নতি হয়নি। বেসরকারি বিনিয়োগ দেখা যাচ্ছে না। এক্ষেত্রে সরকারের নেওয়া অতিরিক্ত ঋণ একটি বড় কারণ। বিষয়টি সরকারকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। সরকারের যে সাড়ে ৭ শতাংশ বিনিয়োগ লক্ষ্যমাত্রা তা অর্জিত হবে না বলে মনে করছি।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ডলারের পতনে ঘুরে দাঁড়াল স্বর্ণের দাম

প্রকাশিত :  ০৭:১৮, ১৫ অক্টোবর ২০২৬

মার্কিন ডলারের দরপতনের পর বিশ্ববাজারে ঘুরে দাঁড়িয়েছে স্বর্ণের দাম। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়েছে।

রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য প্রকাশের পর চলতি মাসে দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার বাড়াতে পারে কি না, তা নিয়ে হিসাব-নিকাশ করছেন বিনিয়োগকারীরা। সেসবের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণের দামে।

এদিন বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় স্পট মার্কেটে প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম ১ শতাংশ বেড়ে যায়। এতে স্বর্ণের দাম ৪ হাজার ১৪৬ ডলার ৭৪ সেন্টে দাঁড়ায়। এর আগের দিন বুধবার স্বর্ণের দাম ৭ অক্টোবরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ডিসেম্বর মাসে সরবরাহের জন্য স্বর্ণের ফিউচার মূল্য ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৬৭ ডলার ৩০ সেন্টে পৌঁছেছে।

বুধবার রাতে ডলারের দাম গত ১৮ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠার পর বৃহস্পতিবার তা কমে আসে। ডলারের দর কমলে অন্যান্য মুদ্রার ব্যবহারকারীদের জন্য ডলারে মূল্য নির্ধারিত স্বর্ণ কেনা তুলনামূলক সস্তা হয়ে যায়। এতে আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের চাহিদা বাড়তে পারে।

বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ক্যাপিটাল ডটকমের জ্যেষ্ঠ আর্থিক বাজার বিশ্লেষক কাইল রডা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সুদের হার নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণেই বাজারে এই ওঠানামা দেখা যাচ্ছে।

বুধবার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়েছে। এর পর চলতি মাসের শেষ দিকে ফেড সুদের হার বাড়াতে পারে—এমন সম্ভাবনাও বেড়েছে। সিএমইর ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা এখন প্রায় ২৯ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের আগে এ সম্ভাবনা ছিল ২২ শতাংশ।

সাধারণত মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা হিসেবে স্বর্ণকে বিবেচনা করা হয়। তবে সুদের হার বাড়লে স্বর্ণের আকর্ষণ কমে যায়। কারণ, স্বর্ণ ধরে রাখলে সুদ পাওয়া যায় না। এখন বিনিয়োগকারীদের নজর যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদক মূল্যসূচক (পিপিআই) ও খুচরা বিক্রির তথ্যের দিকে।

এদিকে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও বেড়েছে। স্পট মার্কেটে রুপার দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৫৬ ডলার ১ সেন্ট হয়েছে। প্লাটিনামের দাম ১ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৬০৮ ডলার ২০ সেন্ট এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ১০৮ ডলার ১৪ সেন্টে দাঁড়িয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর