img

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

প্রকাশিত :  ১৪:৫২, ১৫ জুন ২০২৫

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য জরুরি নির্দেশনা

দেশজুড়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি এবং করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ছড়িয়ে পড়ার প্রেক্ষাপটে  সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৬ নির্দেশনা দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)।

সেই সঙ্গে সচেতনতা বাড়াতে প্রচারণায় সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।

রোববার মাউশির সহকারী পরিচালক (সাধারণ প্রশাসন) মো. খালিদ হোসেনের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংশ্লিষ্টদের ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত নির্দেশনাটি পাঠানো হয়েছে।

এতে বলা হয়েছে, সারা দেশে করোনাভাইরাসের নতুন সাব-ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত অন্যান্য রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য ‘ডেঙ্গু সচেতনতা: ভবিষ্যতে করণীয়’ সংক্রান্ত সভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সূত্রোক্ত পত্র ২টি এতদসঙ্গে প্রেরণ করা হলো। পত্রদ্বয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী অধিদপ্তরের আওতাধীন সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিচের নির্দেশনাগুলো প্রতিপালনের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নির্দেশনা: সারা দেশে ডেঙ্গু রোগ প্রতিরোধে সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচারণা কাজে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্ত করতে হবে।

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে নির্দেশনা

১. বারবার প্রয়োজনমতো সাবান দিয়ে হাত ধোয়া (অন্তত ২০ সেকেন্ড)।

২.জনসমাগম এড়িয়ে চলা এবং বাইরে বের হলে মুখে মাস্ক পরা।

৩.আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখা।

৪.অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকা।

৫.হাঁচি-কাশির সময় বাহু অথবা টিস্যু বা কাপড় দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখা।


img

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী নাদিয়া হত্যার বিচার শেষ হয়নি ১৫ বছরেও

প্রকাশিত :  ০৭:১৪, ২৫ মে ২০২৬

দীর্ঘ ১৫ বছরেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী কামরুন নাহার নাদিয়া হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়নি । সেই সময়ের চাঞ্চল্যকর এ মামলাটি এখনও সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। অনেক দিন ধরে বিচার চলায় বারবার ডেকেও সাক্ষীদের আদালতে হাজির করা যাচ্ছে না। ভুক্তভোগীর স্বজনের অভিযোগ, নানা কারসাজি ও টালবাহানায় সময়ক্ষেপণ করছে আসামিপক্ষ। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত আদালতের মালখানা থেকে নষ্ট করে ফেলা হয়েছে।  

মামলাটি পরিচালনায় যুক্ত আইনজীবী ফখরুল ইসলাম বলেন, আসামিপক্ষ আবারও সাক্ষীদের জেরা করতে চাওয়ায় নতুন করে তাদের হাজির করতে হচ্ছে। ৪৬ জন সাক্ষীর মধ্যে এ পর্যন্ত পাঁচ-ছয়জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। বাকিদের হাজির করা যাচ্ছে না। এ জন্য গত বছর আবারও তাদের নামে সমন জারি করা হয়েছে। মামলাটির পরবর্তী শুনানির তারিখ রয়েছে ১১ জুন।

তিনি বলেন, দুবার আদালত বদল, বিচারিক প্রক্রিয়ায় কাঙ্ক্ষিত গতি না আসার বড় কারণ বিচারক পরিবর্তন। কারণ, নতুন বিচারকের আবার পুরো ঘটনা জানতে হয়। তাছাড়া মামলার তারিখ হয় দেরি করে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের আগস্টে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এ মামলার গতি আরও কমে যায়। 

২০১১ সালের ২৪ এপ্রিল। নাদিয়ার লাশ গুম করার জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজছিলেন তাঁর স্বামী সিকদার শফিকুর রহমান রেজা। কৌশলে স্ত্রীর মৃতদেহ গাড়ির পেছনের আসনে বসে থাকার ভঙ্গিতে রেখে বিভিন্ন সড়কে ঘুরছিলেন তিনি। যাতে কেউ দেখলে নাদিয়াকে মৃত বলে বুঝতে না পারেন। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। তার গাড়িচালক রবিউল ইসলাম হঠাৎ ঢুকে পড়েন শাহবাগ থানা চত্বরে। ধরা পড়েন রেজা। পরে জানা যায়, এর আগের দিন হাজারীবাগের বাসায় স্ত্রীকে হত্যা করেন তিনি। 

এ ঘটনায় তখন ‘লাশ বসে আছে গাড়িতে!’ শিরোনামে ছবিসহ খবর প্রকাশ হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। হাজারীবাগ থানায় করা মামলাটির তদন্ত করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। রেজা, তার ভাই সাইফুল ইসলাম সোহেল ও তাদের মা নূরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। তিনজনই এখন জামিনে রয়েছেন।

মামলার বাদী ও নিহতের ভাই শরীফ আহমেদ শাহরিয়ার সিরাজী সুজন বলেন, বোনের হত্যাকারীদের সাজার অপেক্ষায় দেড় দশক কেটে গেল। আমরা হতাশ, কতদিন ধরে একটা মামলা এভাবে চলতে পারে। আসামিপক্ষ নানা কৌশলে আদালতের সময় নষ্ট করে চলেছে। তারা টাকা দিয়ে মামলাটি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। 

সুজনের অভিযোগ, রেজা মামলার গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি আলামত আদালতের মালখানা থেকে নিয়ে আর ফেরত দেননি। হত্যাকাণ্ডের পর তার প্রাইভেটকার, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোন, হত্যায় ব্যবহৃত কাঠের বাতি, কাঠের টুকরো ও নাদিয়ার সালোয়ার-কামিজ জব্দ করে পুলিশ। মামলা তদন্তাধীন থাকা অবস্থায় রেজা এসব আলামত পাওয়ার জন্য আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করেন। ২০১২ সালের ২৫ জুন সেগুলো মালখানা থেকে বুঝে নেন রেজা। সাক্ষ্য গ্রহণের পর্যায়ে আদালত কাঠের বাতি ও টুকরো উপস্থাপনের নির্দেশ দিলেও তা দেয়নি আসামিপক্ষ। ফলে আলামত গায়েবের অভিযোগে ওই সময় রেজার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠান আদালত।

অবশ্য আসামিপক্ষের দাবি, বাদীপক্ষ সাক্ষীদের ঠিকমতো হাজির করতে না পারায় আদালতের সময় নষ্ট হচ্ছে। আর মামলার আলামত কাঠের বাতি ও টুকরো তারা আদালতের কাছে চাননি এবং মালখানা থেকেও নেননি।  

বাদীপক্ষের আইনজীবী জানান, ২০১৭ সালে আদালত পরিবর্তনের আবেদন করেন হত্যায় অভিযুক্ত রেজা। তাঁর আবেদনের ভিত্তিতে মামলাটি স্থানান্তর করা হয় চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতে। এর আগেই ১৪-১৫ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন হয়। তবে কয়েকজনের সাক্ষ্য আবারও নেওয়ার আবেদন করে আসামিপক্ষ। এর আগে মামলাটি প্রথমে ছিল প্রথম মহানগর দায়রা জজ আদালতে। পরে সেটি স্থানান্তর করা হয় তৃতীয় মহানগর দায়রা জজ আদালতে। 

শিক্ষা এর আরও খবর