img

পদত্যাগের পর মোনামির পোস্ট

প্রকাশিত :  ০৭:৫৯, ১১ মে ২০২৬

পদত্যাগের পর মোনামির পোস্ট

শেহরীন আমিন ভূঁইয়া (মোনামি) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক।

আজ সোমবার (১১ মে) তিনি পদত্যাগ করেন বলে জানা গেছে। বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও নিশ্চিত করেছেন তিনি নিজেই।

পদত্যাগের পর পরই ফেসবুকে দেওয়া পোস্টে সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতার কথা জানান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এ শিক্ষক।

পোস্টে শেহরীন আমিন ভূঁইয়া লেখেন, ‘আমি আনুষ্ঠানিকভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।’

সহকারী প্রক্টরের দায়িত্ব গ্রহণের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘শিক্ষকতা পেশার ৭ বছরে (২০২৪) কখনো এক মুহূর্তের জন্য প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব পালনের ইচ্ছা আমার হয়নি। বিইউপি, জগন্নাথ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন কখনো ভাবিনি আমি প্রশাসনিক কোনো দায়িত্ব কখনো নেব।’

‘তবে ২৮ আগস্ট, ২০২৪-এ প্রক্টর স্যার আমাকে কল দিয়ে বললেন, তিনি আমাকে সহকারী প্রক্টর হিসেবে চান,’ বলেন ঢাবির এ শিক্ষক।

এমন প্রস্তাবে অনেক ‘এক্সাইটেড’ ছিলেন জানিয়ে সদ্য সাবেক এ সহকারী প্রক্টর বলেন, ‘আমি সামান্য লেকচারার, তার চেয়েও সামান্য একজন মানুষ, এত বড় দায়িত্ব যা সচরাচর একটু সিনিয়র শিক্ষকরা পান, সে দায়িত্বে আমি!!’

তিনি আরও লিখেন, ‘একে তো নতুন বাংলাদেশ। অনেক আশা, অনেক স্বপ্ন আমাদের সবার চোখে। নিজের দেশ, নিজের আলমা ম্যাটারের জন্য যদি ভালো কিছু করতে পারি, তবে এর চেয়ে সৌভাগ্যের কি হতে পারে! তার উপর আমার ডিপার্টমেন্টের বড় ভাই-স্যার, আমি মানা করব!???’

গত ২ বছর ‘সাইফুদ্দীন স্যারের’ কাছে থেকে শিখেছেন উল্লেখ করে সহকারী অধ্যাপক মোনামি লিখেন, ‘কীভাবে একজন প্রক্টরকে, অতিমানব মাত্রার ধৈর্য ধরতে হয়, উত্তপ্ত পরিস্থিতি কীভাবে হাসিমুখে নির্বিকার থেকে ট্যাকেল দিতে হয় আর সর্বপরি কীভাবে নিজের আত্মসম্মান সমুন্নত রাখতে হয়।’

ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ক্ষমা ও মমতায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদ্য সাবেক প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ শিক্ষার্থীদের আগলে রেখেছিলেন বলে জানান তিনি। শেহরীন আমিন লিখেন, ‘ওনার টিম মেম্বার হিসেবে আমরাও তাই করার চেষ্টা করেছি, করছি। আমার টেনিউরে আমি কি করতে পেরেছি, কতটা সফল ছিলাম এসব হিসাব করব না। আমি জানিও না বি ট্রু।’

কেবল একজন অসাধারণ মানুষের নেতৃত্ব, চমৎকার একটি টিমের সঙ্গে একটা অভাবনীয় অভিজ্ঞতা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থান ও তার পরবর্তী পরিস্থিতি এমন সময় আর পরিস্থিতি আদৌ দেশে আর আসবে কিনা জানি না। সম্ভবত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আর কোনো প্রক্টর ও তার টিম এমন সিচুয়েশন ফেস করেনি, সম্ভবত করবেও না।

পোস্টের শেষে তিনি লিখেন, ‘আমার দলের সঙ্গে এবং আমাদের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্যারের নেতৃত্বে কাজ করতে পারা ছিল এক পরম সম্মানের বিষয়।

আমাদের নতুন প্রক্টর এবং তার দলকে অভিনন্দন। এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এই দলের জন্য রইল অনেক অনেক শুভকামনা।’


শিক্ষা এর আরও খবর

img

ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজে বিক্ষোভ

প্রকাশিত :  ২১:১৫, ০৯ মে ২০২৬

ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধের দাবিতে মধ্যরাতে ইডেন মহিলা কলেজের মূল ফটকের তালা ভেঙে বিক্ষোভে নেমেছেন আবাসিক হলের একদল শিক্ষার্থী। শনিবার (৯ মে) রাত সাড়ে এগারোটার দিকে কলেজ গেটের সামনে বিক্ষোভ করেন এই শিক্ষার্থীরা। 

এ সময় শিক্ষার্থীদের ‘ছাত্ররাজনীতির ঠিকানা, এই ইডেনে হবে না’ এমন স্লোগান দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে তারা ক্যাম্পাসের কয়েকটি গেট ভেঙে ফেলার চেষ্টা করেন।

বিক্ষোভকারীরা গেটে টানানো বিভিন্ন ব্যানার ও ফেস্টুনে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করেন। ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধের দাবি জানান তারা।

এর আগে, শনিবার সন্ধ্যার পর ইডেন কলেজের গেটে লেখা ‘রাজনীতিমুক্ত ক্যাম্পাস’ কথাটি রঙ দিয়ে মুছে দেওয়া হয়। এর জের ধরেই একদল শিক্ষার্থী আন্দোলনে নামেন।

ইডেন কলেজে শিক্ষার্থী সুরাইয়া বেগম জানান, ‘ইডেন কলেজে রাজনীতি নিষিদ্ধ’ এটা সবাই জানে। এরকম একটা লেখা গেটে লেখা ছিল। সন্ধ্যায় দেখলাম সেই লেখা মুছে ফেলা হয়েছে। 

এই শিক্ষার্থীর মতে, “গুটিকয়েক শিক্ষার্থী স্থিতিশীল ক্যাম্পাসে আবার ছাত্র রাজনীতি এনে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার পাঁয়তারা করছে। যার প্রতিবাদে আজ আমরা মধ্যরাতে আন্দোলন করছি।” 

এই প্রতিবেদন লেখার আগ পর্যন্ত ইডেন কলেজে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ক্যাম্পাসে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করছে।