img

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

প্রকাশিত :  ১১:০৬, ০২ মে ২০২৬

অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে বড় পরিবর্তন, এইচএসসি পরীক্ষাও হবে ডিসেম্বরে

সরকার এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করে দ্রুততম সময়ে ফল প্রকাশের পরিকল্পনা নিয়েছে । একইসঙ্গে সংশোধন করা হচ্ছে কারিকুলামও। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক জানিয়েছেন, সম্ভব হলে ২০২৭ সাল থেকেই নতুন এই ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

বর্তমান অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী এসএসসি পরীক্ষা ফেব্রুয়ারিতে এবং এইচএসসি পরীক্ষা এপ্রিলে শুরু হয়। তবে বৈরী আবহাওয়া ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে এই পরীক্ষাগুলো প্রায়ই পিছিয়ে যায়। এছাড়া উচ্চ মাধ্যমিক শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রক্রিয়ায় দীর্ঘ বিরতি তৈরি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থী পড়াশোনার ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে পারে না। এই বাস্তবতাকে সামনে রেখেই সরকার অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে।

নতুন কারিকুলাম প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, \'আমরা যদি ডিসেম্বরের মধ্যে পরীক্ষা নিতে পারি, তাহলে সিলেবাস, কারিকুলাম, ক্লাস টেস্ট এবং বোর্ড পরীক্ষা—সবই শেষ হবে। এরপর তারা জানুয়ারিতে সঙ্গে সঙ্গেই উচ্চ মাধ্যমিকে ভর্তি হবে। এতে দুই বছরের মধ্যেই তাদের কারিকুলাম ও সিলেবাস সম্পন্ন হবে।\'

তিনি আরও জানান, ডিসেম্বর হবে অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডারের শেষ মাস, যা পরীক্ষার জন্য নির্ধারিত থাকবে। এই সময়ের মধ্যে বোর্ডগুলোকে পরীক্ষা নিতে হবে এবং দ্রুততার সঙ্গে ফল প্রকাশ করতে হবে। ফল প্রকাশের পরপরই শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পাবে।

নতুন কারিকুলাম কবে থেকে কার্যকর হবে— এ প্রশ্নে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, \'শিক্ষার্থীরা ১৬ বছর বয়সে এসএসসি পাস করবে, ১৮ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করবে এবং কোনো সেশন জট ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়ে যাবে। আমরা কারিকুলাম নিয়ে কাজ করছি। যদি সম্ভব হয়, ২০২৭ সাল থেকেই এটি কার্যকর করা হবে।\'

তবে নতুন সময়সূচি ২০২৭ সালের এসএসসি থেকে কার্যকর হবে কি না, তা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিলেবাস শেষ করার ওপর নির্ভর করবে বলে জানান তিনি। এহছানুল হক বলেন, \'এখন ২০২৬, ২০২৭, ২০২৮ কিংবা ২০২৯—এসব পরের বিষয়। আগে আমাদের পরিকল্পনা করতে হবে আমরা কী চাই। ডিসেম্বরেই অ্যাকাডেমিক বছর শেষ হবে, এবং আমরা ডিসেম্বরেই সব সম্পন্ন করব।\'

দেশের আবহাওয়া ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে পাবলিক পরীক্ষার সময় নির্ধারণ করে একটি নতুন অ্যাকাডেমিক ক্যালেন্ডার প্রণয়ন করা উচিত বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

২০২৭ সালের এসএসসি পরীক্ষা শুরু হতে পারে ৩১ ডিসেম্বর

প্রকাশিত :  ০৭:০৮, ১৪ মে ২০২৬

শিক্ষা মন্ত্রণালয় ২০২৭ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ৩১ ডিসেম্বর শুরু করে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার পরিকল্পনা করছে। তবে বিষয়টি চূড়ান্ত নয়। 

গতকাল বুধবার (১৪ মে) শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা-সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মতামত বিবেচনায় নিয়ে প্রাথমিকভাবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর ডিসেম্বরে পরীক্ষা নেওয়ার ঘোষণার সঙ্গে শিক্ষার্থীদের জানুয়ারিতে পরীক্ষার দাবির সমন্বয় করে ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এতে পুরো জানুয়ারিজুড়ে লিখিত পরীক্ষা এবং ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে ব্যবহারিক পরীক্ষা শেষ করার পরিকল্পনা রয়েছে। 

প্রাথমিক খসড়া অনুযায়ী, ৩১ জানুয়ারির মধ্যে তত্ত্বীয় পরীক্ষা শেষ হবে। এরপর ১ থেকে ৭ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়া হবে। সম্ভাব্য রোজার ছুটি শুরুর আগেই পরীক্ষা শেষ করতে এই সময়সূচি বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী দু-একদিনের মধ্যে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে। একইসঙ্গে ২০২৭ সালের এসএসসিতে প্রথমবারের মতো সারা দেশে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে। এছাড়া ভবিষ্যতে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার সময়সূচি ডিসেম্বরের মধ্যে আনতেও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে বলেও জানা গেছে। 

বৈঠকে অংশ নেওয়া শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, ৮-৯ ফেব্রুয়ারি থেকে রোজার ছুটি শুরু হতে পারে। তার আগেই এসএসসি পরীক্ষা শেষ করা যায় কি না, তা শিক্ষামন্ত্রী বিবেচনা করতে বলেছেন। তিনি ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু ধরে এবং ৭ ফেব্রুয়ারি শেষ ধরে একটি পূর্ণাঙ্গ খসড়া সময়সূচি তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। সেটি তৈরির পর আবার পর্যালোচনা করা হবে।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, শিক্ষামন্ত্রী ডিসেম্বরে এসএসসি পরীক্ষা শুরুর ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি এটি বারবার বলে আসছেন। এ কারণে ডিসেম্বরেই পরীক্ষা শুরুর বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর পরীক্ষা শুরু হবে। আর শিক্ষার্থী-অভিভাবকরা যেহেতু হুট করে পরীক্ষা এগোনোর বিপক্ষে এবং তারা জানুয়ারিতে পরীক্ষা নিতে প্রস্তাব দিয়েছেন। সেদিক বিবেচনা করে ডিসেম্বরের শেষ দিনে পরীক্ষা শুরু করে পুরো জানুয়ারিতে রুটিন সাজানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এতে মন্ত্রীর কথা থাকছে এবং শিক্ষার্থীদের চাওয়াও পূরণ হচ্ছে।