img

বাজেট ২০২৬-২৭: স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে মেয়েদের পড়াশোনা

প্রকাশিত :  ১০:০১, ১১ জুন ২০২৬

বাজেট ২০২৬-২৭: স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে মেয়েদের পড়াশোনা

সরকার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে শিক্ষা ও মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতে বড় ধরনের সংস্কার ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিকল্পনার নিয়েছে । এরই আওতায় বাজেটে নারী শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে মেয়েদের জন্য স্নাতক পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

পাশাপাশি দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল ইউনিফর্ম, জুতা ও ব্যাগ সরবরাহের উদ্যোগ এবং প্রতিবন্ধী ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থাও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাজেটে অগ্রাধিকার খাতগুলোর মধ্যে অন্যতম শিক্ষা, যেখানে কারিকুলাম সংস্কার থেকে শুরু করে প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলারও নানা উদ্যোগ নেওয়া হবে।

বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি হবে বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রথম বাজেট, যার সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এবারের বাজেটে শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সারা দেশে ধাপে ধাপে মিড-ডে মিল কর্মসূচি চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে ছাত্রী ও শিক্ষিকাদের জন্য স্বাস্থ্যকর স্যানিটেশন ও হাইজিন ব্যবস্থাও জোরদার করার কথা বলা হয়েছে।

প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নির্ভর শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই সুবিধা এবং ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের ডিজিটাল শিক্ষার সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা বিকাশে স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে বিতর্ক, বিজ্ঞান মেলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও সাহিত্যচর্চাসহ সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও উৎসাহিত করার কথা বলা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রস্তাবিত এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাবে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

এছাড়া বাজেটে শিক্ষা খাতে সরকারি ব্যয় ধাপে ধাপে মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থাকে দক্ষতাভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে একাধিক নতুন কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, শিক্ষাক্রমে বড় ধরনের রূপান্তর আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নৈতিকতা, সামাজিক দায়িত্ববোধ, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের ওপর জোর দেওয়া হবে। একই সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা, প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে শিক্ষার মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

শিক্ষা ব্যবস্থায় ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ ধারণাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের চাপমুক্ত ও আনন্দময় পরিবেশে শেখার সুযোগ তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ধাপে ধাপে কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাবও রয়েছে।

ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত রয়েছে। বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি জাপানি, কোরিয়ান, ম্যান্ডারিন, আরবি, ফরাসি ও জার্মানসহ একাধিক তৃতীয় ভাষা শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা এবং সেসব দেশে উচ্চশিক্ষায় গমনেচ্ছুদের ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা প্রদানের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এ উদ্যোগের লক্ষ্য আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি তৈরির লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

প্রাথমিক বৃত্তির ফল প্রকাশ, বৃত্তি পেয়েছে ৭৯২৪৬ শিক্ষার্থী, ফল মিলছে দুইভাবে

প্রকাশিত :  ০৮:১১, ১২ জুলাই ২০২৬

আজ রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়েছে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল । প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় বৃত্তি পেয়েছে ৭৯ হাজার ২৪৬ শিক্ষার্থী। এর মধ্যে ট্যালেনপুলে ৩২ হাজার ৯৬৫ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পেয়েছেন। 

আজ রোববার (১২ জুলাই) দুপুর ১২টায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ ফলাফল ঘোষণা করা হয়। প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ফল উদ্বোধন করেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

ফল মিলবে অনলাইনে ও এসএমএসে—

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, ফল প্রকাশের পর অভিভাবকেরা অনলাইন ও মোবাইল এসএমএসের (SMS) মাধ্যমে ফল সংগ্রহ করতে পারবেন। অনলাইনে ফল দেখার অফিশিয়াল মাধ্যম হলো ‘আইপিইএমআইএস’ (IPEMIS) পোর্টাল।

পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের অন্য সব জেলায় ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল ২০২৬ পর্যন্ত এই পরীক্ষা চলে। আর পার্বত্য তিন জেলা—রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবানে বিশেষ সময়সূচিতে ১৭ থেকে ২০ এপ্রিল পর্যন্ত পরীক্ষা নেওয়া হয়।

এ বছর মোট পরীক্ষার্থী ছিল ৬ লাখ ৪০ হাজারের কিছু বেশি। তার মধ্যে সাড়ে ৫ লাখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এবং ৯০ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের (কিন্ডারগার্টেন) শিক্ষার্থী।

শিক্ষা এর আরও খবর