img

শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ৪ কোপ, চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত :  ১৮:৫৮, ১৪ জুলাই ২০২৬

শিক্ষিকার মাথায় ছাত্রীর মায়ের ৪ কোপ, চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন
সিঁথি সীমিতা
সিঁথি সীমিতা

কিশোরগঞ্জের ভৈরবে প্রাইভেট পড়ানোর পারিশ্রমিক চাওয়াকে কেন্দ্র করে সিঁথি সীমিতা নামে এক স্কুলশিক্ষিকার ওপর নৃশংস হামলার অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত ছাত্রীর মা ধারালো দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। হামলায় শিক্ষিকার মাথায় চারটি গভীর কোপ লাগে এবং হাতের চারটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

গতকাল সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পানাউল্লাহচর এলাকার এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত ওই নারীর নাম মোছা. প্রিয়া বেগম (২৫)। তিনি পানাউল্লাচারের হোটেল ব্যবসায়ী বায়েজিদ মিয়ার স্ত্রী। পরে এ ঘটনায় স্থানীয়রা ওই নারীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। 

শিক্ষিকাকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে কিশোরগঞ্জ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ জানায়, হামলার পেছনে আরও কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা জানায়, আহত সিঁথি সীমিতা (২৮) শিবপুর ইউনিয়নের ভূইয়া বাড়ির মৃত সুলয়মান মিয়ার মেয়ে ও পানাউল্লাচর এলাকার ইতালি প্রবাসী মো. মুরাদ মিয়ার স্ত্রী। তিনি শিবপুর বিএমএ কিন্ডারগার্টেন স্কুলের শিক্ষিকা। শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি গ্রামের বিভিন্ন শিক্ষার্থীকে গৃহশিক্ষক হিসেবে পড়ান। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো প্রিয়া বেগমের মেয়ে সাফা মনিকে (৪) পড়াতে তার বাসায় যান শিক্ষিকা সিঁথি সীমিতা। এ সময় ওই শিক্ষিকা প্রিয়া বেগমের কাছে প্রাইভেট পড়ানোর বকেয়া থাকা ১ হাজার ৫০০ টাকা চান। প্রাইভেট পড়ানো শেষে বাড়ির উদ্দেশে বের হওয়ার পর আবার ফেলে আসা ছাতা আনতে প্রিয়ার বাসায় যান। তখন ক্ষুব্ধ হয়ে ওই নারী দা দিয়ে শিক্ষিকাকে এলোপাতাড়ি কোপানো শুরু করেন। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এসে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।

ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত প্রিয়া বেগমকে আটক করে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন। 

আহত শিক্ষিকার দেবর সারোয়ার বলেন, ‘আমার ভাবী একটি স্কুলে শিক্ষকতা করেন। পাশাপাশি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়ান। প্রতিদিনের মতো আজও তিনি প্রিয়া বেগমের মেয়েকে পড়াতে গিয়েছিলেন। পড়ানো শেষে বাড়ি ফেরার সময় হঠাৎ প্রিয়া বেগম দা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। পরে আমরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসক তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে ভৈরব থানা উপ-পরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল কবির বলেন, ৯৯৯ এ খবর পেয়ে এসআই আসিবুল ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত এক নারীকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। পরে তাকে হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়। 


শিক্ষা এর আরও খবর

img

পদার্থ বিজ্ঞানের ভুল প্রশ্নের জন্য পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে: শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১২:১৬, ১৪ জুলাই ২০২৬

সিঁথি সীমিতা

এইচএসসি পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এ কথা জানান শিক্ষামন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী অধিবেশনে স্পষ্ট করে বলেন, পদার্থবিজ্ঞানের ভুল দুটি প্রশ্নে সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে। কোনো শিক্ষার্থী যেন ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেজন্য আন্তঃশিক্ষা বোর্ড পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক কমিটি ইতোমধ্যে একটি গণবিজ্ঞপ্তিও জারি করেছে।

তিনি এ সময় বলেন, এইচএসসি পরীক্ষায় পদার্থবিজ্ঞান প্রথম পত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্ন ভুল হয়েছিল। আমরা দায়িত্ব পেয়েছি মাত্র চার মাস। আগের কোয়েশ্চেন মডারেটরই প্রশ্ন প্রণয়ন করেছিল।

স্পিকারের উদ্দেশে শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, আপনি জানেন যে প্রশ্ন মডারেট করতে হলে এই প্রক্রিয়া দুই বছর আগে থেকে শুরু করতে হয়। আমরা এসে কোনো প্রশ্ন তৈরি করিনি। বিগত সরকারের যে মডারেটর ছিল তারাই এই প্রশ্ন করেছে। তবুও, আমরা তাৎক্ষণিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি যে ফিজিক্সের (পদার্থবিজ্ঞান) ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে আমরা ফুল ক্রেডিট (পূর্ণ নম্বর) দিয়ে দেবো।

তিনি বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিয়েছিল। পরীক্ষা চলাকালে সারাদিন সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের (স্টেকহোল্ডার) সঙ্গে যোগাযোগ রাখা হয়েছে। তাদের সবার মূল্যায়ন অনুযায়ী, পরীক্ষা সার্বিকভাবে ভালো হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী জানান, শুধু কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে বৃষ্টির পানি জমে যাওয়ায় কিছুটা অসুবিধা হয়েছিল। তবে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে কেন্দ্রটিতে পরীক্ষা বিলম্বে শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়।

তিনি আরও বলেন, এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। পরে তার পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে নেওয়া হয় এবং সে অনুযায়ী পরীক্ষার সময়ও বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

শিক্ষা এর আরও খবর