তিন মাসের মধ্যে প্রাথমিকে ৫০ হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, আগামী তিন মাসের মধ্যে দেশের ৫০ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকা প্রধান শিক্ষকের পদে নিয়োগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে শিক্ষার মান উন্নয়নের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমও আরও গতিশীল হবে।
গতকাল সোমবার দুপুরে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০তম ‘বিশ্ববিদ্যালয় দিবস’ উদ্যাপন এবং ‘ডিনস ও ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড’ প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মরহুম প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও মরহুম প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া দেশের অনগ্রসর শিক্ষাব্যবস্থাকে অধিক গুরুত্ব সহকারে এগিয়ে নিয়েছিল। আমরা অত্যন্ত ভাগ্যবান যে, তাদের সুযোগ্য সন্তান তারেক রহমানের মতো একজন প্রধানমন্ত্রী পেয়েছি। তিনি শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন এবং দেশের ভবিষ্যত্ উন্নয়নে শিক্ষাকে প্রধান হাতিয়ার হিসেবে দেখছেন। একটি শিক্ষিত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে প্রধানমন্ত্রী নিরন্তর কাজ করে যাচ্ছেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, আমরা চাই না শিক্ষা ব্যবস্থায় কোনো বৈষম্য থাকুক। সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষার যেসব বিষয় অভিন্ন-যেমন বাংলা, ইংরেজি, গণিত, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, হিসাববিজ্ঞান, অর্থনীতি ও সমাজবিজ্ঞান রয়েছে, সেসব বিষয়ে অভিন্ন প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, মাদ্রাসা শিক্ষাকে আধুনিকায়ন ও কর্মমুখী করতে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই কারিগরি শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষাসহ পুরো শিক্ষাব্যবস্থাকে ধাপে ধাপে যুগোপযোগী করা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, দেশের জনসংখ্যাকে বোঝা নয়, সম্পদে পরিণত করতে হবে। শিক্ষার্থীদের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে সারা দেশের স্কুলগামী শিশুদের জুতা, মোজা, পোশাক, ব্যাগ, বই ও মধ্যাহ্নভোজ প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষা, পারিবারিক মূল্যবোধ, খেলাধুলা ও সংস্কৃতিচর্চার ওপরও সমান গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ স্থানে একটি বীজ বপন করেছিলেন। সেই বীজ আজ এ অঞ্চলের শিক্ষাকে আলোকিত করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণায় সব ধরনের সহযোগিতায় করার আশ্বাস দেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক গোলাম রব্বানীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন নোয়াখালী-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো. শাহজাহান, নোয়াখালী-৫ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কৃতিত্বের স্বীকৃতি হিসেবে ৫১ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে ডিনস অ্যাওয়ার্ড এবং তিনজনকে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়।


















