img

এমপিও বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তালিকা প্রকাশ

প্রকাশিত :  ০৮:৩৭, ১৭ জুন ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:৩৫, ১৭ জুন ২০২৬

এমপিও বন্ধ হতে যাওয়া প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের তালিকা প্রকাশ

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে শূন্যপদের ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে তাদের কাছে কারণ ব্যাখ্যা চেয়ে নোটিশ জারি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৬ জুন) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) সহকারী পরিচালক মো. মাঈন উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক নোটিশ জারি করেছে। মাউশির বেসরকারি কলেজ-৩ শাখা থেকে নোটিশটি প্রকাশ করা হয়েছে।

নোটিশ পাওয়ার পর ১০ কার্যদিবসের মধ্যে লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পর্যালোচনা করে সংশ্লিষ্টদের এমপিওভুক্ত বেতন-ভাতা স্থগিতের সুপারিশ করা হতে পারে বলে জানা গেছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) হতে প্রাপ্ত তথ্যাদি যাচাইয়ের নিমিত্তে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরাধীন পরিচালক (সব), আঞ্চলিক কার্যালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ওই চিঠির প্রেক্ষিতে আঞ্চলিক পরিচালকরা কলেজ পর্যায়ের সব শূন্যপদের সঠিকতা যাচাইপূর্বক নিম্নবর্ণিত তথ্যাদি পাঠান। প্রাপ্ত প্রতিবেদনে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃক নিম্নবর্ণিত কারণে ২৩৭টি পদ Incorrect বা ভুল চাহিদা দেওয়া হয়। 

এক্ষেত্রে প্যাটার্ন বহির্ভূত পদে চাহিদা প্রদান; সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কাম্য শিক্ষার্থী নেই; ভুল চাহিদা প্রদান; সংশ্লিষ্ট পদের বিপরীতে মামলা চলমান থাকলেও ই-রিকুজিশনে চাহিদা প্রদান; শিক্ষক প্রাপ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ই-রিকুজিশনে চাহিদা প্রদান; যাচাইয়ের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে যথাসময়ে তথ্য সরবরাহ না করার মতো ঘটনা রয়েছে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান কর্তৃক ভুল চাহিদা প্রাপ্তিতে একদিকে যেমন প্রশাসনিক বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়, অপরদিকে ভুল পদে কোনো ব্যক্তি সুপারিশ/নিয়োগ প্রাপ্তির ফলে এমপিওভুক্তির ক্ষেত্রে অবর্ণনীয় দুর্ভোগের শিকার হন। বিধায় উপর্যুক্ত ভুল চাদিহা প্রদান/ যাচাইয়ের নিমিত্তে প্রতিষ্ঠান প্রধান কর্তৃক যথাসময়ে তথ্য সরবরাহ না করায় জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা ২০২৫ এর ১৮.১(ঘ) মোতাবেক কেন সংশ্লিষ্ট অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে এমপিও স্থগিত/বাতিল করা হবে না তার জবাব এবং গভর্নিং বডির সভাপতির পদ শূন্য ঘোষণাসহ প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে তার মতামত ১০ (দশ) কর্মদিবসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট আঞ্চলিক কার্যালয়ের মাধ্যমে পাঠানোর জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।


শিক্ষা এর আরও খবর

img

বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দোকানে এইচএসসি পরীক্ষার খাতা দেখছিলেন শিক্ষক, ৪০০ খাতা জব্দ

প্রকাশিত :  ১৪:৩৬, ০২ আগষ্ট ২০২৬

অফিস বা বাসায় নয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটকের পাশের একটি চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে এইচএসসি পরীক্ষার বাংলা দ্বিতীয় পত্রের উত্তরপত্র মূল্যায়নের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, খাতা মূল্যায়নের সময় ওই শিক্ষকের সঙ্গে তার কয়েকজন বন্ধুও অংশ নেন। বিষয়টি জানার পর শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের কাছ থেকে ৪০০টি উত্তরপত্র জব্দ করেন। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

শনিবার (১ আগস্ট) রাতে ঘটা এই নজিরবিহীন ঘটনায় শিক্ষা বোর্ড অভ্যন্তর ও পরীক্ষকদের মধ্যে তীব্র তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত পরীক্ষক ইকবাল হোসেন (সোহান) সিলেট মেট্রোসিটি উইমেন্স কলেজের প্রভাষক।

সিলেট মহানগর পুলিশের জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুল হাবিব জানান, প্রকাশ্যে অরক্ষিত অবস্থায় খাতা দেখার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে নিয়ে শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তারা থানায় আসেন। বোর্ডের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে এবং জব্দকৃত ৪০০টি খাতা পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের জিম্মায় নেওয়া হয়েছে।

ঘটনার স্থান ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় গেটের পাশের ফজলুল হকের চায়ের দোকানে বসে খাতা দেখছিলেন ইকবাল হোসেন সোহান। সাথে ছিলেন তাঁর কয়েকজন বন্ধু, যাঁরা শাবিপ্রবির সাবেক শিক্ষার্থী (যার মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাবেক এক সহ-সভাপতিও ছিলেন)। দোকান মালিক ফজলুল হক জানান, আগের দিন শুক্রবার রাতেও তাঁরা একইভাবে সেখানে বসে খাতা মূল্যায়ন করেছিলেন।

তথ্য পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিনের নেতৃত্বে তিন কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে ঝটিকা অভিযান চালান। অভিযোগের সত্যতা পেয়ে পুলিশ ডেকে খাতাগুলো জব্দ করা হয়।

এ বিষয়ে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক বিলকিস ইয়াসমিন জানান, চায়ের দোকানে প্রকাশ্যে খাতা দেখার সময় ওই শিক্ষককে হাতেনাতে ধরা হয় এবং ৪০০ খাতা উদ্ধার করা হয়। ঘটনা তদন্তে কলেজ পরিদর্শককে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি রবিবার সংশ্লিষ্ট কলেজ প্রধানের মাধ্যমে অভিযুক্ত শিক্ষককে শোকজ চিঠি পাঠানো হয়েছে।


শিক্ষা এর আরও খবর