img

৭ গোলের থ্রিলার ম্যাচে আল হিলালের ইতিহাস, ম্যানসিটির বিদায়

প্রকাশিত :  ০৫:৫৪, ০১ জুলাই ২০২৫
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:৫৭, ০১ জুলাই ২০২৫

৭ গোলের থ্রিলার ম্যাচে আল হিলালের ইতিহাস, ম্যানসিটির বিদায়

ব্রাজিলের ফ্লুমিনেন্স দিনের শুরুতে ইন্টার মিলানকে বিদায় করে চমক দিয়েছিল। তবে দিনের সবচেয়ে বড় চমকটা তুলে রেখেছিল সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলাল। ফ্লোরিডায় ম্যানচেস্টার সিটিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে ক্লাব বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেছে দলটা।

৯০ মিনিটে খেলা ২-২ এ শেষ হলে অতিরিক্ত সময়ে ম্যাচ গড়ায়। ১১২ মিনিটে মার্কোস লিওনার্দো নিজের দ্বিতীয় গোল করে আল হিলালকে এগিয়ে দেন। প্রথমার্ধের অতিরিক্ত সময়ে ফিল ফোডেন গোল করে সিটি সমর্থকদের আশা জাগিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সৌদি আরবের দল আল হিলাল ম্যাচ জিতে ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে গেল। 

বলের দখল থেকে গোলে শট, সবকিছুতে আধিপত্য বিস্তার করেছে ম্যানসিটি। ম্যাচের প্রথম গোলটাও সিটিই পেয়েছিল। নবম মিনিটে বের্নার্দো সিলভার করা গোলটা নিয়ে আল হিলাল প্রশ্ন তুলেছিল যদিও। রায়ান আইত-নৌরির ডান হাতের বাইসেপে বল লাগার পর সিলভার কাছে আসে। সিলভা বাঁ পায়ে শট নিয়ে বল জালে পাঠান। আল হিলালের খেলোয়াড়রা আপত্তি তুললেও রেফারি তাতে কান দেয়নি। বিরতিতে দলটা যায় ১-০ গোলে এগিয়ে থেকে। 

তবে পরিস্থিতি বদলে যায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই। আল হিলাল শুরুতে দুটি গোল করে ২-১ গোলে এগিয়ে যায়। ৪৬ সেকেন্ডের মাথায় নাসের আল দাওসারির শট এডারসন ঠেকান। ফিরতি শট মালকম নিলেও ডিফেন্ডারে লেগে বল লিওনার্দোর কাছে আসে। তিনি সহজেই হেডে গোল করেন। ৫২ মিনিটে আবারও আল হিলাল এগিয়ে যায়। জোয়াও কানসেলো বল ক্লিয়ার করে মালকমের কাছে পাঠান। মালকম বল নিয়ে ড্রিবল করে বাঁ পায়ে শট নিয়ে এডারসনকে পরাস্ত করেন।

এর তিন মিনিট পর ম্যানসিটি সমতা ফেরায়। কর্নার থেকে হালান্ডের হেড ব্যর্থ হলেও বল তার কাছে ফিরে আসে। হালান্ড বাম পায়ে শট নিয়ে বনোর পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান। দ্বিতীয়ার্ধের শেষ দিকে ম্যানসিটির বেশ কয়েকটি সুযোগ ছিল। ৮৪ মিনিটে মানুয়েল আকাঞ্জির হেড পোস্টে লাগে। ফিরতি বলে হালান্ড শট নিতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু আল হিলালের আলি লাজামি বল গোললাইন থেকে সাফ করেন। এক মিনিট পর রুবেন দিয়াসের দূরপাল্লার শট বনো কর্নারে পাঠান। ফলে খেলাটা ২-২ সমতায় থেকে চলে যায় অতিরিক্ত সময়ে।

সেখানে চতুর্থ মিনিটে কুলিবালি হেডে গোল করে আল হিলালকে ৩-২ তে এগিয়ে নেন। রুবেন নেভেস কর্নার কিক নেন। কুলিবালি লাফিয়ে বল এডারসনের বাঁদিকে পাঠান। এরপর ফিল ফোডেন গোল করে আশা দেখান ম্যানসিটিকে।

তবে ম্যাচের ফল নির্ধারণ হয়ে যায় গোল আসে সের্গেই মিলিনকোভিচ সাভিচের হেডার থেকে। এডারসন সেই হেড ঠেকালেও বল লিওনার্দোর গায়ে লেগে গোললাইনের সামনে চলে আসে। সেখান থেকে লিওনার্দো ডান পায়ে শট নিয়ে জাল খুঁজে নেন।

ফলে ৭ গোলের থ্রিলারে শেষ হাসিটা হাসে আল হিলাল। শেষ আটে তারা খেলবে ব্রাজিলের দল ফ্লুমিনেন্সের বিপক্ষে।

img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।