img

আলো দেখা যাচ্ছে—চোখে নয়, মনে! ঘোর অন্ধকারের পরেই তো ভোর নামে...

প্রকাশিত :  ১৩:৩৮, ০৮ জুলাই ২০২৫

আলো দেখা যাচ্ছে—চোখে নয়, মনে! ঘোর অন্ধকারের পরেই তো ভোর নামে...

বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরেই যেন এক ধরনের অচলাবস্থায় আটকে ছিল—একজন অসুস্থ রোগীর মতো নিস্তেজ ও ক্লান্ত। কোথাও গতি নেই, কোথাও উত্তেজনা নেই। বিনিয়োগকারীদের চোখেমুখে হতাশার ছাপ, মনে সংশয়, আর টাকায় নেই সেই পুরোনো সাহস। তবে সময় কখনোই স্থির থাকে না। আজকের সূচকে যে সামান্য ঊর্ধ্বগতি দেখা গেল, তা নিঃসন্দেহে আশার আলোর ক্ষীণ একটি রেখা—একটি ছোট্ট কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ উত্থান, যেটিকে অবহেলা করার সুযোগ নেই।

আমরা প্রায়শই ভুলে যাই—উন্নতির পথ কখনোই সরল হয় না। কখনো চড়াই, কখনো খাড়া ঢাল, কখনো বা তীব্র ধাক্কা থাকে সেই পথে। পুঁজিবাজারও ঠিক তেমনই। আজকের এই সামান্য ঊর্ধ্বমুখী গতি, যদিও অনেকটাই স্বল্প মূলধনী শেয়ারের ওপর নির্ভরশীল, তবুও এটিই হতে পারে সম্ভাব্য জাগরণের এক সূচনা। তবে এখনই উচ্ছ্বাসে ভেসে যাওয়ার সময় নয়। বরং এখন সময়—আরও বেশি সতর্ক, আরও বেশি প্রস্তুত হওয়ার।

হতাশ হবেন না—কারণ সংকটই সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দেয়।

যারা পুঁজিবাজার থেকে প্রকৃত মুনাফা অর্জন করেছেন, তাঁদের বেশিরভাগই সেটা করেছেন বাজারের মন্দাবস্থায়। তারা হতাশ হয়ে বিক্রি করেননি, বরং বিচক্ষণতার সঙ্গে বিনিয়োগ করেছেন। কারণ, সেটাই ছিল ‘সঠিক সময়, সঠিক সিদ্ধান্ত’-এর মুহূর্ত। তাই আপনার জন্য এখনই সেই সময়—ভয়ের আবরণ সরিয়ে সাহসিকতার খাতায় নিজের নাম লেখানোর।

মনে রাখবেন, কম দামে ভালো শেয়ার কেনা মানেই ভবিষ্যতে উচ্চ মুনাফার সম্ভাবনা। আজ যে স্বল্প মূলধনী শেয়ারে লেনদেন বেড়েছে, তা একদিকে যেমন বাজারের ঝুঁকির ইঙ্গিত দেয়, তেমনি নতুন বিনিয়োগকারীদের আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার চেষ্টাও প্রকাশ করে। অনেকেই আবার বাজারে ভরসা রেখে ধীরে ধীরে ফিরছেন। এটাই হতে পারে বাজারের প্রাণ ফিরে পাওয়ার সূচনা।

যে থেমে যায়, সে পিছিয়ে পড়ে। যে এগিয়ে চলে, সে-ই গড়ে ইতিহাস।

বাজার যখন স্থবির থাকে, তখনই ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মিত হয়। এই সময় যদি আপনি হতাশ হয়ে বসে থাকেন, তাহলে আপনার জন্য অপেক্ষমাণ সুযোগ অন্য কেউ নিয়ে নিতে পারে। তাই এখনই উপযুক্ত সময়—নিজের লক্ষ্য নির্ধারণ, জ্ঞানকে কাজে লাগানো এবং ধীরে ধীরে এগিয়ে যাওয়ার।

বিশ্বের বড় বড় বিনিয়োগকারীরা কখনোই বাজারের চূড়ায় প্রবেশ করেননি—তাঁরা বিনিয়োগ শুরু করেছেন বাজারের সবচেয়ে নিচে, যখন সবার মধ্যে ভয় আর অনিশ্চয়তা কাজ করেছে। আর তারাই পরিণামে হয়েছেন সফল।

ভয় নয়, প্রয়োজন বিশ্লেষণ আর প্রতিজ্ঞার।

আজ কিছু খাতে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে—বিশেষ করে বীমা, ব্যাংক, ওষুধ ও প্রকৌশল খাতে। যারা গভীরভাবে বিশ্লেষণ করেন, তাঁরা ইতিমধ্যেই বুঝে গেছেন কোথায় রয়েছে ভবিষ্যতের সম্ভাবনা। যারা ধৈর্য ধরে এগোবেন, তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত নেবেন, তাঁদের জন্য এখনই সময় একটি শক্তিশালী ও নিরাপদ পোর্টফোলিও গড়ে তোলার।

সাহস ছাড়া বড় কিছু অর্জন সম্ভব নয়।

পুঁজিবাজারে ওঠানামা থাকবে—এটাই স্বাভাবিক। দেশের অর্থনীতি, মুদ্রানীতি কিংবা বৈশ্বিক বাজার—সবকিছুর প্রভাব পড়ে এখানে। কিন্তু আপনি যদি প্রতিটি সংকটকে শিক্ষার সুযোগ হিসেবে দেখেন, তাহলে এই বাজারই হতে পারে আপনার সবচেয়ে বড় আয়ের মাধ্যম।

আজকের অনিশ্চয়তা—হতে পারে আগামীর অর্জনের ভিত্তি।

আপনার বিনিয়োগ যেন অলস পড়ে না থাকে। একে ভাবুন একজন সৈনিকের মতো, যে সঠিক কৌশলে, সঠিক সময় মাঠে নামলে যুদ্ধে জয়লাভ করে। আপনার পরিকল্পনা, ধৈর্য এবং সময়জ্ঞানই তাকে সফল করে তুলবে।

সূচক উঠছে বা নামছে—এটাই মুখ্য নয়। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, আপনি মানসিকভাবে কতটা প্রস্তুত। বাজার পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়ানোর আগেই যদি আপনি নিজের কৌশল ঠিক করেন, তবে আপনি সামনে আসা সুযোগগুলো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারবেন।

ভয় নয়—সচেতনতা ও সাহসিকতাই হোক আপনার মূলমন্ত্র।

আজ থেকেই শুরু করুন নিজের প্রস্তুতি। নিজের ভেতরের বিনিয়োগকারীকে জাগিয়ে তুলুন। মনে রাখবেন—সময়ের আগেই হার মেনে নিলে সময় আপনার জন্য যা এনেছিল, তা আপনি আর কখনোই পাবেন না।

ঘোর অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, নতুন ভোর আসবেই।

শুধু প্রশ্ন হলো—আপনি কি সেই ভোরকে স্বাগত জানাতে প্রস্তুত?

শুভ বিনিয়োগ। সাহস নিয়ে এগিয়ে চলুন। ভবিষ্যৎ আপনাকেই ডাকছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

১০ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস আসছে চলতি সপ্তাহে

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানি চলতি সপ্তাহে ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে। তন্মমধ্যে ৬ কোম্পানি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে সেগুলো হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স। একই সভায় ন্যাশনাল ব্যাংক ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

এদিকে, ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গার বিডি, ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রথম প্রান্তিকের এবং শাহজীবাজার পাওয়ার তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

নিচে কোম্পানিগুলোর বোর্ড সভার তারিখ ও সময় তুলে ধরা হলো-

১৯ এপ্রিল: দুপুর আড়াইটায় পাইওনিয়র ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

২০ এপ্রিল: বিকাল ৩টায় শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানির বোর্ড সভা।

                  বিকাল ৪টায় ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ারের বোর্ড সভা।

২২ এপ্রিল: দুপুর আড়াইটায় ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

                 বিকাল ৩টায় এশিয়া ইন্স্যুরেন্স এবং সিঙ্গার বিডির বোর্ড সভা।

২৩ এপ্রিল: বিকাল ৩টায় পিপল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

                 বিকাল সোয়া ৩টায় হাইডেলবার্গ সিমেন্টের বোর্ড সভা।

                 বিকাল ৪টায় কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

২৫ এপ্রিল: দুপুর ১২টায় ন্যাশনাল ব্যাংকের বোর্ড সভা।

অর্থনীতি এর আরও খবর