img

বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেবে মালয়েশিয়া

প্রকাশিত :  ১৮:১৭, ১৫ জুলাই ২০২৫

বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেবে মালয়েশিয়া

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেছেন, মালয়েশিয়ায় বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা দেবে মালয়েশিয়ান সরকার। মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) আসিফ নজরুল তার ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

আসিফ নজরুল ভিডিও বার্তার কিছুক্ষণ পর আরেকটি পোস্ট করেন। সেখানে তিনি লেখেন—মালয়েশিয়া ১৫টি দেশ থেকে কর্মী নিয়ে থাকে।

এরমধ্যে শুধুমাত্র বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসার পরিবর্তে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছিল। এটি নিয়ে প্রবাসীদের অনেক ভোগান্তি হতো। 

গত মাসে আমি, লুৎফে সিদ্দিকী ভাই একটি প্রতিনিধিদলসহ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিং করি। উনাকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার পর তিনি দ্রুত এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেন।

এরপর থেকে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় ও মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের দূতাবাসের কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রেখেছিলেন। অবশেষে এ বিষয়ে সুসংবাদটি নিশ্চিত করা হলো অফিশিয়াল সোর্স থেকে। 

১. ১০ জুলাই ২০২৫ তারিখ মালয়েশিয়া ইমিগ্রেশনের মহাপরিচালকের পক্ষে একটি পত্রে স্বাক্ষরে মালয়েশিয়ায় প্রবাসী বাংলাদেশি কর্মীদের বিদ্যমান সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসাকে (এসইভি) বর্ধিত করে মাল্টি এন্ট্রি ভিসা সুবিধায় উন্নীত করে পত্র জারি করেছে। 

২. যেসব বাংলাদেশি কর্মীর এটি জারির আগে সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা এবং টেম্পোরারি এমপ্লয়মেন্ট ভিজিট পাস (পিএলকেএস) ইস্যু করা হয়েছে, তাদের নতুন করে মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা (এমইভি) আবেদন করতে হবে না।

 পিএলকেএস নবায়নের সময় এমইভি নিজে থেকেই ইস্যু করা হবে বলে জানিয়েছে। 

৩. মালয়েশিয়ার সব আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরগুলোতে এই পত্রের মাধ্যমে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যে, যেসব বাংলাদেশি কর্মীর (এসইভি) ছিল এবং PLKS বৈধ আছে, তারা নতুন এমইভি ছাড়াই মালয়েশিয়া আসা-যাওয়া করতে পারবেন।

এর আগে কুয়ালালামপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের ভেরিফায়েড ফেসবুক স্ট্যাটাসে জানানো হয়, বাংলাদেশ সরকারের ধারাবাহিক ও নিরবচ্ছিন্ন কূটনৈতিক প্রচেষ্টার ফলে মালয়েশিয়ার সরকার বাংলাদেশি কর্মীদের মাল্টিপল এন্ট্রি ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহে একটি নোটিফিকেশন জারি করা হয়েছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে

প্রকাশিত :  ১৩:২৯, ২৬ জুলাই ২০২৬

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হলে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, তা নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর