img

সাড়ে ১০ কোটি টাকা বাজেটে ঢাকায় হবে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ

প্রকাশিত :  ১২:০৯, ১৬ অক্টোবর ২০২৫

সাড়ে ১০ কোটি টাকা বাজেটে ঢাকায় হবে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ

১০ কোটি ৪৪ লাখ টাকার বিশাল বাজেট নিয়ে প্রথমবারের মতো ঢাকায় আয়োজিত হতে যাচ্ছে আইকেএফ নারী কাবাডি বিশ্বকাপ। ১৪টি দেশের অংশগ্রহণে নিয়ে মিরপুরের শহীদ সোহরাওয়ার্দী জাতীয় ইনডোর স্টেডিয়ামে আগামী ১৫-২৫ নভেম্বর হবে এই আয়োজন। 

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছে। অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্টের লোগোও উন্মোচন করা হয়েছে।

অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন ভবনে সংবাদ সম্মেলনে নারী কাবাডি বিশ্বকাপ আয়োজনের ঘোষণা দেওয়া হয়

বিশ্বকাপ আয়োজনের বিশাল বাজেট প্রসঙ্গে কাবাডি ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘তারুণ্যর উৎসবের অংশ হিসেবে আমরা বিশ্বকাপ আয়োজন করছি। বিশ্বকাপ আয়োজন যেকোনো দেশের জন্যই মর্যাদার। “বিউটিফুল বাংলাদেশ” ভাবনা নিয়ে আমরা এর সঙ্গে বাংলাদেশ পর্যটন বোর্ডকে সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করছি। জাতীয় খেলা হিসেবে আমরা কাবাডিকে সামনে নিতে চাই। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে ইউরোপের সঙ্গেও আমাদের সম্পর্ক তৈরি হবে।’

এত টাকা খরচ করে বাংলাদেশ এই আয়োজন কেন করবে। এমন প্রশ্নে  এস এম নেওয়াজ সোহাগ বলেন, ‘টিকিটের সাড়ে তিন কোটি টাকা দেবে আন্তর্জাতিক কাবাডি ফেডারেশন (আইকেএফ)। আমরা কোনো টাকা নেব না আইকেএফের কাছ থেকে। সরকারের কাছ থেকে পাব ৫ কোটি টাকা। বাকি টাকা স্পনসরের কাছে থেকে নেব। আমরা মনে করি, দেশের কাবাডিতে বিশ্বকাপের একটা ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। এ কারণেই এই আয়োজন।’

সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্টের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত জানানো হয়

এত বড় আয়োজনে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা থাকবে বলে জানান জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলামের। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আমরা আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা করবো সব বিভাগকে নিয়ে। সশস্ত্র বাহিনীর সাহায্য নেব। ইতিমধ্যে বিভিন্ন টুর্নামেন্টে সশস্ত্র বাহিনীর সহায়তা আমরা নিয়েছি। এ ক্ষেত্রে বিশেষ নজর দিতে হবে; কারণ, খেলোয়াড়েরা সবাই নারী।’

img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।