img

বিশ্বকাপে না যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য নতুন টুর্নামেন্টের ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৪:১৬, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বিশ্বকাপে না যাওয়া ক্রিকেটারদের জন্য নতুন টুর্নামেন্টের ঘোষণা

নিরাপত্তা উদ্বেগের কারণে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিতব্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাতিল হওয়ায় জাতীয় দলের ক্রিকেটারদের ম্যাচ ফিটনেস ও প্রতিযোগিতামূলক ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশেষ ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের প্রস্তুতি অব্যাহত রাখা এবং জাতীয় দলের বিকল্প পরিকল্পনা বাস্তবায়নই মূল লক্ষ্য।

প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের মতো মেগা ইভেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ায় খেলোয়াড়রা যে আর্থিক ও প্রতিযোগিতামূলক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, তা পুষিয়ে দিতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। 

যুব ও ক্রীড়া সচিব মাহবুব-উল-আলম জানিয়েছেন, ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই টুর্নামেন্টটি আয়োজন করবে। ভেন্যু পরিবর্তনের দাবি আইসিসি কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হওয়ার পর বাংলাদেশের পরিবর্তে স্কটল্যান্ডকে বিশ্বকাপে যুক্ত করা হলেও লিটন-সৌম্যদের খেলার মধ্যে রাখতেই এই বিকল্প ব্যবস্থা।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে সচিব মাহবুব-উল-আলম বলেন যে, খেলোয়াড়দের আর্থিক বিষয়টি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়েও বেশি অগ্রাধিকার পেয়েছে তাঁদের নিরাপত্তা। তিনি জানান যে, বিসিবি সভাপতি খুব শীঘ্রই এই টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক সূচি ও পরিকল্পনা সবার সামনে তুলে ধরবেন।

সরকার সরাসরি এটি আয়োজন না করলেও বিসিবিকে সব ধরনের নীতিগত সহায়তা প্রদান করবে। এই টুর্নামেন্টের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বকাপের অভাব পূরণ করা এবং খেলোয়াড়দের ফিটনেস ও পারফরম্যান্স ধরে রাখা। মূলত নিরাপত্তার প্রশ্নে ভারত সফরে অনীহা প্রকাশ করায় আইসিসি এই কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, যা দেশের ক্রিকেটে এক ধরনের স্থবিরতা তৈরি করেছিল।

নতুন এই টুর্নামেন্টে কেবল বিশ্বকাপের জন্য ঘোষিত প্রাথমিক স্কোয়াডের ১৫-২০ জন খেলোয়াড়ই নন, বরং দেশের অন্যান্য শীর্ষস্থানীয় বা ‘প্রমিনেন্ট’ ক্রিকেটাররাও অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন। সচিবের মতে, একটি পূর্ণাঙ্গ টুর্নামেন্ট সফল করতে হলে জাতীয় দলের বাইরের প্রতিভাবান ক্রিকেটারদেরও অন্তর্ভুক্ত করা প্রয়োজন। 

এতে করে দেশের ক্রিকেটের পাইপলাইন আরও সমৃদ্ধ হবে এবং ক্রিকেটারদের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ কিছুটা হলেও কমবে। প্রধান কোচ ফিল সিমন্স ছুটিতে যাওয়ার আগে এই পরিকল্পনার কথা জেনে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছেন এবং শীঘ্রই খেলোয়াড়দের নিয়ে একটি বিশেষ ক্যাম্পও শুরু হতে যাচ্ছে।

ক্রীড়া বিশ্লেষকদের মতে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে না খেলার যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, এই ঘরোয়া আসরটি তার একটি সাময়িক বিকল্প হতে পারে। তবে বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসর মিস করা বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য দীর্ঘমেয়াদে একটি বড় চ্যালেঞ্জ। 

সরকার ও বিসিবির যৌথ এই প্রয়াস ক্রিকেটারদের মনোবল চাঙ্গা রাখতে এবং তাঁদের পেশাদার ক্যারিয়ার সচল রাখতে সহায়ক হবে। আইসিসি ও বিসিসিআই-এর সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের ভবিষ্যৎ টানাপোড়েনের মধ্যেও এই ঘরোয়া টুর্নামেন্ট আয়োজনের ঘোষণা খেলোয়াড়দের জন্য একটি আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।


img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।