img

মৌলভীবাজার-৪, যেখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন চা শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ০৯:৪৩, ০৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মৌলভীবাজার-৪, যেখানে জয়-পরাজয় নির্ধারণ করবেন চা শ্রমিকরা

মৌলভীবাজার-৪ (শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ) সংসদীয় আসনে বরাবরই ভোটের ভাগ্য নির্ধারণ করেন চা শ্রমিকরা। বিশাল এই শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর ভোট যেদিকে যাবে, জয়ের পাল্লা সেদিকেই ভারি হবে। এমন সমীকরণ মাথায় রেখেই প্রার্থীরা চষে বেড়াচ্ছেন বিভিন্ন চা বাগান এলাকা।

মৌলভীবাজার-৪ আসন এলাকায় ফিনলে, ডানকান ব্রাদার্স, বাংলাদেশ টি বোর্ড, ন্যাশনাল টি কোম্পানি (এনটিসি) এবং ব্যক্তিমালিকানাধীন ছোট-বড় বাগানে লক্ষাধিক চা শ্রমিক ও তাদের পরিবারের সদস্য ভোটার রয়েছেন। ফলে এ আসনের প্রার্থীদের প্রচারের মূল কেন্দ্র চা বাগান। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রার্থীরা চা বাগান চষে বেড়াচ্ছেন এবং চা শ্রমিকদের নানা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।

৪ লাখ ৮৩ হাজার ভোটারের এ আসনে বিএনপি প্রার্থী মো. মুজিবুর রহমান চৌধুরী, ১১ দলীয় জোট মনোনীত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) প্রীতম দাশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী, জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ জরিফ হোসেন, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দলের (বাসদ) মো. আবুল হাসান, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহসিন মিয়া– প্রত্যেকেই শ্রমিকদের মন জয়ের চেষ্টা করছেন।

স্বাধীনতার পর থেকে এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীই বেশির ভাগ সময়ে জয় পেয়েছেন। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ভাষ্য, এবার আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে ভোটের মাঠে বিএনপি প্রার্থী মুজিবুর রহমান চৌধুরী কিছুটা এগিয়ে আছেন। তবে বিএনপি প্রার্থীকে শক্ত চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছেন দলের বিদ্রোহী প্রার্থী মহসিন মিয়া। বিএনপির ভোট দুই বাক্সে ভাগ হওয়ায় ১১ দলীয় জোট মনোনীত প্রীতম দাশ এবং বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের প্রার্থী শেখ নুরে আলম হামিদী জয় পেলে অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

কয়েক দিন ধরে নির্বাচনী এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, প্রার্থীরা সাধারণ পথসভার চেয়ে বাগানভিত্তিক ‘উঠান বৈঠক’ ও শ্রমিক সমাবেশকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। প্রার্থীদের প্রধান প্রধান প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে– বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে মজুরি পুনঃনির্ধারণ, চা শ্রমিকদের দীর্ঘদিনের দাবি ‘ভূমি অধিকার’ নিশ্চিত করা এবং বাগান এলাকায় উন্নত স্কুল প্রতিষ্ঠা ও বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্মাণ।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের মনু-দলই ভ্যালির সভাপতি ধনা বাউরী বলেন, ‘আমাদের চা শ্রমিকদের বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে রয়েছে– মজুরি বৃদ্ধি, আবাসন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাত। প্রার্থীরা প্রতিবারই ভোটের আগে এসে অনেক কথা বলেন। তবে এবার আমরা সচেতন। যে প্রার্থী আমাদের আবাসন ও রেশন সমস্যার স্থায়ী সমাধান করবে, তাঁকেই সংসদ সদস্য হিসেবে দেখতে চাই।’

কানিহাটি চা বাগানের শ্রমিক নেতা সীতারাম বীন বলেন, আমাদের ভোটে যেহেতু জয়-পরাজয়, তাই এবার আমরা হিসাব করেই ভোট দেব। তবে চা বাগানের ভোটারদের হ্যাঁ বা না ভোট বিষয়ে কোনো ধারণা নেই। এ বিষয়ে কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকেও প্রচারণা নেই।

এদিকে নির্বাচনের দিন যতই এগিয়ে আসছে, বাগানগুলোতে প্রার্থীদের কর্মী-সমর্থকদের তৎপরতা তত বাড়ছে। সব মিলিয়ে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জের প্রতিটি চা বাগানে এখন নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। শেষ পর্যন্ত কার প্রতিশ্রুতির ওপর ভরসা রাখবেন চা শ্রমিকরা, তা আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ব্যালটেই প্রমাণিত হবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরী প্রদান না করায় বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া পাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়ে ছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবত দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করে। ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এঘটনার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক কোম্পানী বরাবরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে।

দেওড়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছে মজুরী দিতে, তারপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগান কাজ বন্ধ রেখেছে চা শ্রমিকরা।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মজুরীর দাবীতে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা। কিছু দিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে। অবশেষে কোম্পানীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেমেন্ট দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

এ ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে শারিরীক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এর পর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিরাপত্তার কারণে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কিছুদিন পূর্বে পদত্যাগ পত্র কোম্পানীর কাছে জমা দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপক দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর