img

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৮:৪৭, ০৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা

বাংলাদেশ ব্যাংক নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছে, যেখানে নীতি সুদহার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মতে, মূল্যস্ফীতি এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় নামেনি, তাই আপাতত নীতি শিথিল করার সুযোগ নেই।

আজ সোমবার বাংলাদেশ ব্যাংকের সভাকক্ষে গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।

মুদ্রানীতিতে আগামী জুন নাগাদ বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন বাড়িয়ে ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ৫০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে যা ৮ শতাংশ ধরা হয়েছিলো। গত ডিসেম্বর পর্যন্ত অর্জিত হয়েছে ৬ দশমিক ১০ শতাংশ। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ দশমিত ২০ শতাংশ। গত মুদ্রানীতিতে ডিসেম্বর নাগাদ সরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন ২০ দশমিক ৫০ শতাংশ ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ২৮ দশমিক ৯০ শতাংশ।

আগামী জুন নাগাদ ২১ দশমিক ৬০ শতাংশ ধরা হয়েছে। আর মুদ্রা সরবরাহ গত ডিসেম্বর নাগাদ ৭ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকলেও অর্জিত হয় ৯ দশমিক ৬০ শতাংশ। আগামী জুনে ১১ দশমিক ৫০ শতাংশে উন্নীত করা হবে। মূলত কেন্দ্রীয় ব্যাংক বাজার থেকে  ৪৩০ কোটি ডলার কেনায় ৫০ হাজার কোটি টাকা বাজারে দিয়েছে। যে কারণে মুদ্রা সরবরাহ বাড়তির দিকে রয়েছে।

গভর্নর বলেন, সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। গভর্নর হিসেবে এই সরকারের সময়ে পরিচালনাগত দিক দিয়ে তিনি স্বাধীনতা ভোগ করেছেন।  কোনো চাপ অনুভব করেননি। তবে তার আক্ষেপ রয়ে গেলো কয়েকটি আইন না হওয়া। বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার, ব্যাংক কোম্পানি আইন, অর্থ ঋণ আদালত আইন সংশোধনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা হয়নি। এই সরকারের সময়ে এটা হওয়া দরকার ছিলো। অবশ্য এ সময়ে যা হয়েছে তা কম না।

তিনি বলেন, বিশ্বের সব সরকারই চায় স্বল্প মেয়াদি অর্থনীতিকে বুস্ট করতে। আর কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দায়িত্ব টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জন। এজন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ক্ষমতা থাকা দরকার। যে কারণে বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডিনেন্সে বিভিন্ন সংশোধনীর চেষ্টা করা হয়েছিল। আগামী সরকারের শুরু থেকেই এটা নিয়ে আলোচনা করা হবে।

পরবর্তী সরকারের সময়ে সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে না পারলে দায়িত্বপালন করবেন কিনা জানতে চাইলে হেসে উঠে গভর্নর বলেন, ‘এটা তখন বোঝা যাবে। ব্রিজের কাছে গিয়ে বলা যাবে ব্রিজ পার হবো কিনা। যে সরকারি আসুক আর্থিক খাতের শৃংখলা রক্ষা কাজ করতে হবে।’

বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতি ছয় মাসের আগাম মুদ্রানীতির ভঙ্গি প্রকাশ করে। যেখানে মূল্যস্ফীতি ও জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য অর্জনে মুদ্রা সরবরাহ কেমন রাখা হবে, তার একটি ধারণা দেওয়া হয়। আর মুদ্রা সরবরাহ বাড়ানো-কমানোর অন্যতম টুল হিসেবে ব্যবহৃত হয় নীতি সুদহার। ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে। দীর্ঘদিন মূল্যস্ফীতি দুই অঙ্কে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণের জন্য ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর দুই মাসে তিন দফায় ১৫০ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করা হয় নীতি সুদহার। ওই বছরের নভেম্বরে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ছিল সর্বোচ্চ ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশ। পরের মাস থেকে কমতে কমতে গত অক্টোবরে ৮ দশমিক ১৭ শতাংশে নামে। সেখান থেকে টানা তিন মাস বেড়ে জানুয়ারিতে ৮ দশমিক ৫৮ শতাংশ হয়েছে।

মুদ্রানীতি ঘোষণার শুরুতে ডেপুটি গভর্নর ড. হাবিবুর রহমান বলেন, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রাক্কলন কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীল সরকার আসলে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা বাড়বে। তিনি বলেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ আইএমএফ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে রয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের দিক থেকে সংস্থাটির সব ধরনের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়েছে।


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

১০ কোম্পানির ডিভিডেন্ড-ইপিএস আসছে চলতি সপ্তাহে

প্রকাশিত :  ১৪:৫৬, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত ১০ কোম্পানি চলতি সপ্তাহে ডিভিডেন্ড ঘোষণা ও ইপিএস প্রকাশ করবে। তন্মমধ্যে ৬ কোম্পানি ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫ পর্যন্ত সমাপ্ত অর্থবছরের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে। ডিএসই সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

যেসব কোম্পানি ডিভিডেন্ড ঘোষণা করবে সেগুলো হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, হাইডেলবার্গ সিমেন্ট, পিপলস ইন্স্যুরেন্স, এশিয়া ইন্স্যুরেন্স, কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্স এবং ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স। একই সভায় ন্যাশনাল ব্যাংক ও পিপলস ইন্স্যুরেন্স ডিভিডেন্ড ঘোষণার পাশাপাশি ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত প্রথম প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

এদিকে, ৩১ মার্চ, ২০২৬ পর্যন্ত সিঙ্গার বিডি, ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ার ও পাইওনিয়ার ইন্স্যুরেন্স প্রথম প্রান্তিকের এবং শাহজীবাজার পাওয়ার তৃতীয় প্রান্তিকের অনিরিক্ষীত আর্থিক প্রতিবেদন প্রকাশ করবে।

নিচে কোম্পানিগুলোর বোর্ড সভার তারিখ ও সময় তুলে ধরা হলো-

১৯ এপ্রিল: দুপুর আড়াইটায় পাইওনিয়র ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

২০ এপ্রিল: বিকাল ৩টায় শাহজীবাজার পাওয়ার কোম্পানির বোর্ড সভা।

                  বিকাল ৪টায় ইউনিলিভার কনজুমার কেয়ারের বোর্ড সভা।

২২ এপ্রিল: দুপুর আড়াইটায় ইস্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

                 বিকাল ৩টায় এশিয়া ইন্স্যুরেন্স এবং সিঙ্গার বিডির বোর্ড সভা।

২৩ এপ্রিল: বিকাল ৩টায় পিপল ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

                 বিকাল সোয়া ৩টায় হাইডেলবার্গ সিমেন্টের বোর্ড সভা।

                 বিকাল ৪টায় কর্ণফুলী ইন্স্যুরেন্সের বোর্ড সভা।

২৫ এপ্রিল: দুপুর ১২টায় ন্যাশনাল ব্যাংকের বোর্ড সভা।

অর্থনীতি এর আরও খবর