img

সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের জয়

প্রকাশিত :  ০৫:৩২, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৭:২৫, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 সুনামগঞ্জের পাঁচটি আসনেই বিএনপির প্রার্থীদের জয়

সুনামগঞ্জের পাঁচটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির ধানের শীষের প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। রাতে ভোট গণনা শেষে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বেসরকারিভাবে এই ফলাফল ঘোষণা করেন। ৫টি আসনের মধ্যে ৪টিতে তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীরা।

সুনামগঞ্জ-১ (ধর্মপাশা, মধ্যনগর, তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ) আসনে ১৭৭টি ভোটকেন্দ্রের ফলাফল শেষে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী কামরুজ্জমান কামরুল। তিনি তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭১ হাজার ১৫৫ ভোট বেশি পেয়ে বিজয় হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রাপ্ত ফলাফল অনুযায়ী, ধানের শীষ প্রতীকে কামরুজ্জমান কামরুল পেয়েছেন ১ লাখ ৬১ হাজার ৫৬১ ভোট। অন্যদিকে, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী তোফায়েল আহমদ পেয়েছেন ৯০ হাজার ৪০৬ ভোট।

সুনামগঞ্জ-২ আসনে (দিরাই -শাল্লা) বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নাছির উদ্দিন চৌধুরী। নিকটতম ছিলেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী মোহাম্মদ শিশির মনির।

১১১টি কেন্দ্রে নাছির চৌধুরী ধানের শীষ প্রতীকে ৯৯ হাজার ৫২২ ভোট পেয়েছেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী শিশির মনির পেয়েছেন ৬৩ হাজার ২২০ ভোট।

সুনামগঞ্জ-৩ (জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ) আসনে বেসরকারি ফলাফলে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী মুহাম্মদ কয়ছর আহমদ বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছেন। মোট ১৪৭ কেন্দ্রে তার প্রাপ্ত ভোট ৯৬ হাজার ৬৬৬। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি স্বতন্ত্র প্রার্থী আনোয়ার হোসেন তালা প্রতিকে পেয়েছেন ৪১ হাজার ৯৮৪ ভোট।

সুনামগঞ্জ-৪ (সুনামগঞ্জ সদর ও বিশ্বম্ভরপুর) আসনে বিজয়ী হয়েছেন বিএনপির মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী নূরুল ইসলাম নূরুল। নিকটতম রয়েছেন জামায়াতে ইসলামি মনোনীত দাঁড়িপাল্লার প্রতিকের নিয়ে মো. সামছ উদ্দিন।

সুনামগঞ্জ–৫ (ছাতক–দোয়ারাবাজার) আসনে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা কলিম উদ্দিন আহমদ মিলনবিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সহ–সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক তিনবারের সংসদ সদস্য মিলন ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৯৯৭ ভোট পেয়ে বেসরকারিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন।

তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মাওলানা আব্দুস সালাম আল মাদানী দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ৯৯ হাজার ৯২৮ ভোট।


সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরী প্রদান না করায় বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া পাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়ে ছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবত দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করে। ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এঘটনার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক কোম্পানী বরাবরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে।

দেওড়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছে মজুরী দিতে, তারপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগান কাজ বন্ধ রেখেছে চা শ্রমিকরা।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মজুরীর দাবীতে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা। কিছু দিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে। অবশেষে কোম্পানীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেমেন্ট দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

এ ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে শারিরীক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এর পর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিরাপত্তার কারণে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কিছুদিন পূর্বে পদত্যাগ পত্র কোম্পানীর কাছে জমা দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপক দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর