img

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে

প্রকাশিত :  ১৬:১৮, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৪:৪৯, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থককে পিটিয়ে হত্যা, অভিযোগ বিএনপির সমর্থকদের বিরুদ্ধে
নিহত জসিম নায়েব

মুন্সীগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিসতায় একজন নিহত হয়েছেন। সদর উপজেলার আধারা ইউনিয়নের চর আব্দুল্লাহ গ্রামে দুই পক্ষের মধ্যে সংর্ঘের ঘটনা ঘটে। নিহত ব্যক্তির নাম জসিম নায়েব (৩৫), মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন তার বোন জামাই দিদার।

তবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমেন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির জানান, এক ব্যক্তির মৃত্যুর খবর তারা শুনেছেন।

সত্যতা যাচাইয়ে কাজ করছে পুলিশ।

এ সংবাদ লেখা পর্যন্ত (রাত ৯টা) ওই গ্রামে থেমে থেকে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ চলমান। এ ঘটনায় কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি।

স্থানীয়রা জানায়, চর আব্দুল্লাহ গ্রামে নির্বাচনের আগে থেকে ধানের শীষের সমর্থক নাসির ডাক্তার ও শওকত আলী সরকারের সঙ্গে স্থানীয় মাফিক নায়েবের বিরোধ চলে আসছিলে। নির্বাচনের ফল নিয়ে বিএনপি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে কথা-কাটাকাটির জের ধর ধরে সংঘর্ষ শুরু হয়। বিকেলে মাফিক নায়েবের বাড়িতে হামলা করা হয়। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে কুপিয়ে জখম করা হয় জসিম উদ্দিনকে।

জসিমকে উদ্ধার করে প্রথমে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। ঢামেকে নেওয়ার পথেই জসিমের মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন তার বোন জামাই মো. দিদার। মৃত জসিম চর আব্দুল্লাহ গ্রামের মাফিক নায়েবের ছেলে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইমেন অ্যান্ড অপারেশনস) মো. ফিরোজ কবির বলেন, ‘মৃত্যুর সংবাদ আমরা শুনেছি, সত্যতা যাচাই করা হচ্ছে। সকালে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পারিবারিক দ্বন্দ্বের কথা শুনেছে পরে সংঘর্ষের ঘটনা কেউ জানায়নি।

জাতীয় এর আরও খবর

img

আশুলিয়ায় পোশাক কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭

প্রকাশিত :  ১৮:৪৩, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:৩১, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাভারের আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার ভেতরে থাকা একটি লরির গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে সৃষ্ট অগ্নিকাণ্ডে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। নিহতদের মধ্যে একজনের নাম জয়নাব বেগম বলে জানা গেছে।

তিনি কারখানার পাশে একটি কাপড়ের দোকান করতেন। এ ছাড়া বাকি ৬ জনের মরদেহ আগুনে পুড়ে যাওয়ায় তাদের পরিচয় জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম। 

এ ছাড়াও আগুনে কারখানার কর্মচারী ও পথচারীসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছে। তাদেরকে উদ্ধার করে স্থানীয় নারী ও শিশুস্বাস্থ্য হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

তাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠানো হয়েছে। 

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে জামগড়া চৌরাস্তা এলাকার প্রীতি গ্রুপের এফএনএস পোশাক কারখানার লরিতে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ২ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। 

জিরাবো ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার শাহাবুদ্দিন বলেন, সন্ধ্যায় আগুন লাগার খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে আসি।

সাভার ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এবং জিরাবো মডার্ন ফায়ার সার্ভিসের ৬ ইউনিটের টানা দুই ঘণ্টার চেষ্টায় রাত পৌনে ৯টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

ডিইপিজেড ফায়ার সার্ভিসের ওয়্যার হাউস ইন্সপেক্টর আব্দুস সালাম বলেন, কারখানার বাইরে সিলিন্ডার ভর্তি লরিতে বিস্ফোরণের ঘটনায় ওই লরিগুলোর পাশ থেকে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে একজনের লাশ লরির ভেতরে পাওয়া গেছে এবং বাকিদের মরদেহ লরির পাশে পড়েছিল। এ ছাড়া সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে পার্শ্ববর্তী একটি দোকানে গিয়ে পড়লে জয়নাব বেগম নামে সেখানকার এক দোকানি মারা গিয়েছে।

এ ছাড়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আহতদেরকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করেন স্থানীয়রা।

তবে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি তদন্ত সাপেক্ষ বলে জানান এই কর্মকর্তা। 

প্রীতি গ্রুপের এফএনএস কারখানার অ্যাডমিন-ম্যানেজার হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ‘কারখানার সীমানা ঘেরা প্রাচীরের পাশে থাকা লরির সিলিন্ডার বিস্ফোরণে আগুন লাগে। তবে কারখানার ভেতর কোনো শ্রমিক আটকে নেই। এর আগেই সবাই বাইরে চলে এসেছেন। কিন্তু কাভার্ড ভ্যানের পাশে থাকা বেশ কয়েকজন অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছে। 

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী রনি বলেন, ‘বিস্ফোরণের শব্দে ও আগুনে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। আমি নিজে দুজন দগ্ধ ও গুরুতর আহত এক শ্রমিককে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছি। এ ছাড়া কারখানার পাশে রাস্তায় থাকা রিকশাচালকসহ অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন। বিস্ফোরণে বয়লার বা পাইপের লোহার খণ্ড উড়ে গিয়ে পাশের বাড়িঘর ও রাস্তায় পড়ে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে। 

আশুলিয়ার নারী ও শিশু হাসপাতালের ব্যবস্থাপক হারুন অর রশীদ বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমাদের হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ১৬ জন ব্যক্তি ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে তিনজনের শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং তাদের পুরো শরীর দগ্ধ হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে ঢামেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।