img

সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি: এমপি হাজী মুজিব

প্রকাশিত :  ০৫:১১, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৫:১৮, ২৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা-সংস্কৃতি রক্ষায় কাজ করবে বিএনপি: এমপি হাজী মুজিব

সংগ্রাম দত্ত: শপথ গ্রহণের পর প্রথমবারের মতো নিজ নির্বাচনী এলাকা শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সফরে এসে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মুজিবুর রহমান চৌধুরী (হাজী মুজিব) সকল জাতিগোষ্ঠীর ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন।

রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দেশের অন্যতম পর্যটন নগরী ও চায়ের স্বর্গরাজ্য শ্রীমঙ্গলের প্রবেশদ্বার ‘চা কন্যা ভাস্কর্য’ প্রাঙ্গণে দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের ফুলেল শুভেচ্ছায় সিক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।

মৌলভীবাজার-৪ আসনের এ সংসদ সদস্য বলেন, শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ অঞ্চলে চা-জনগোষ্ঠী ও নৃগোষ্ঠীসহ মোট ২৯টি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে। প্রতিটি জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এ এলাকার বৈচিত্র্যকে সমৃদ্ধ করেছে। তিনি বলেন, এসব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং সরকার এ বিষয়ে আন্তরিকভাবে কাজ করবে।

নিজের বিজয় প্রসঙ্গে হাজী মুজিব বলেন, “এই বিজয় শুধু আমার একার নয়; এটি এলাকার নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ মানুষের দীর্ঘদিনের পরিশ্রমের ফল।” ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ করে তিনি তা শ্রীমঙ্গল উপজেলা ও পৌরবাসীর প্রতি উৎসর্গ করেন। তাঁর লক্ষ্য শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জকে পরিকল্পিতভাবে সাজিয়ে এলাকার মানুষের কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখা।

এ সময় তিনি পর্যটনকেন্দ্রিক উন্নয়নের বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন। জেলার প্রবেশদ্বার সাতগাঁও ইউনিয়নের ‘চা কন্যা ভাস্কর্য’ সংলগ্ন সড়কটিকে ঝুঁকিপূর্ণ উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক পর্যটক সেখানে ছবি তুলতে আসেন। কিন্তু হাইওয়ে সড়কের পাশে অবস্থানের কারণে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। সড়কটি প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য সড়ক ও জনপথ বিভাগের দায়িত্বশীলদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রীমঙ্গলে প্রবেশের পর সংবর্ধনা পেলেও তিনি নির্ধারিত পথসভা বাতিল করেন। পরে তিনি শ্রীমঙ্গল সরকারি হাসপাতালে প্রবেশ করে হাসপাতালের সার্বিক কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগী, কর্তব্যরত চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং তাদের বিভিন্ন সুবিধা-অসুবিধার বিষয়ে অবগত হন।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভাষা-সংস্কৃতি সংরক্ষণ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ঘোষণার পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নেও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ উন্নয়নের নতুন ধাপে এগিয়ে যাবে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে মজুরি বন্ধ, আন্দোলনে শ্রমিকরা

প্রকাশিত :  ১৩:২১, ১৭ এপ্রিল ২০২৬

মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ উপজেলাস্থ রহিমপুর ইউনিয়নের বাংলাদেশ টি বোর্ডের নিয়ন্ত্রাধীন দেওড়াছড়া চা বাগানে ৩ সপ্তাহ ধরে চা শ্রমিকদের তলব বা মজুরী প্রদান না করায় বাগানের শ্রমিকরা বিক্ষোভ ও আন্দোলন করেন। একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা অফিসের মেইন গেইটে তালা ঝুলিয়ে দেন।

এরপর বৃহস্পতিবার বিকেলে বকেয়া পাওয়া শুরু হলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে আসে।

জানা যায়, মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার রহিমপুর ইউনিয়নের দেওড়াছড়া চা বাগানে গত ৩ সপ্তাহ ধরে শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করতে পারছেন না। এতে করে বিপাকে পড়েছেন কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক। চা শ্রমিকরা মজুরী প্রদানের দাবি জানালেও বাগান কৃতর্পক্ষ নিশ্চুপ রয়েছে। দেওড়াছড়া চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির পক্ষ হতে গত ১২ এপ্রিল শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়ে ছিল। কিন্তু ৪/৫ দিন অতিবাহিত হলেও কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় বৃহস্পতিবার সকালে চা বাগানের বিক্ষুদ্ধ শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে অফিসের মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত চা শ্রমিকরা অফিসের সামনে অবস্থান করছেন।

দেওড়াছড়া চা বাগান সূত্রে জানা যায়, এপ্রিল মাসের প্রথম সপ্তাহে বাগানের একজন অনিয়মিত নারী শ্রমিক চিকিৎসারত অবস্থায় মারা যান। বাগানের পক্ষ থেকে ঐ নারীকে প্রায় ১১ হাজার টাকা চিকিৎসা বাবত দেওয়া হয়। এঘটনার পর থেকে বিষয়টি নিয়ে কয়েকজন শ্রমিক আন্দোলন করে। ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপকের অপসারণ চান। এঘটনার পর নিরাপত্তা জনিত কারণে ভারপ্রাপ্ত বাগান ব্যবস্থাপক কোম্পানী বরাবরে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে চলে যান। যেহেতু বাগানে ব্যবস্থাপক নেই এজন্য শ্রমিকদের মজুরি আটকা পড়েছে।

দেওড়াছড়া চা বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি সুবুধ কর্মী জানান, ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ। কয়েক শতাধিক চা শ্রমিক কষ্টে দিন কাটাচ্ছে। আমরা লিখিত আবেদন করেছে মজুরী দিতে, তারপরও দেয়া হয়নি। তাই বাধ্য হয়েই চা শ্রমিকরা আন্দোলনে নেমেছেন। বর্তমানে চা বাগান কাজ বন্ধ রেখেছে চা শ্রমিকরা।

রহিমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিতাংশু কর্মকার দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিক আন্দোলনের কথা স্বীকার করে বলেন, মজুরীর দাবীতে অফিস তালা দিয়েছে বিক্ষুদ্ধ চা শ্রমিকরা। কিছু দিন পূর্বে এক চা শ্রমিকের মৃত্যুর ঘটনার জের ধরে বাগান ম্যানেজমেন্ট ৩ সপ্তাহ ধরে তলব বন্ধ রেখেছে। অবশেষে কোম্পানীর নির্দেশে বৃহস্পতিবার বিকেলে পেমেন্ট দিলে শ্রমিকরা আন্দোলন থেকে সরে যায়।

এ ব্যাপারে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম বলেন, নারী চা শ্রমিক মারা যাওয়ার পর কয়েকজন মিলে ঘটনার দায় আমার উপর চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে আমাকে শারিরীক লাঞ্ছিত করার চেষ্টা করছে। এ ঘটনার পর আমি নিরাপত্তা নিরাপত্তাহীনতায় ছিলাম। এর পর ছুটি নিয়ে আমি চলে আসি। আগামী শনিবার পর্যন্ত আমার ছুটি আছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বাংলাদেশ টি বোর্ডের চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মো. আশরাফুল ইসলাম সমকালকে জানান, নিরাপত্তার কারণে দেওড়াছড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপক কিছুদিন পূর্বে পদত্যাগ পত্র কোম্পানীর কাছে জমা দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থাপক দ্রুত সময়ের মধ্যে নিয়োগ প্রদানের চেষ্টা চলছে। বৃহস্পতিবার বিকেলে দেওড়াছড়া চা বাগানের শ্রমিকদের মজুরী প্রদান করা হচ্ছে।

সিলেটের খবর এর আরও খবর