img

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের

প্রকাশিত :  ১১:৪৮, ০৯ মার্চ ২০২৬

উজবেকিস্তানের কাছে হেরে এশিয়ান কাপ শেষ বাংলাদেশের
নারী এশিয়ান কাপের গ্রুপ পর্বে নিজেদের শেষ ম্যাচে বড় হার দিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করল বাংলাদেশ। উজবেকিস্তানের বিপক্ষে প্রথমার্ধে দারুণ লড়াই করলেও দ্বিতীয়ার্ধে ক্লান্তির কাছে হার মানতে হয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যদের। অস্ট্রেলিয়ার পার্থে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে বিধ্বস্ত করেছে উজবেকিস্তান। এই হারের ফলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিশ্চিত হলো লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের। এর ফলে বাংলাদেশের কোয়ার্টার ফাইনালে যাওয়ার সুযোগও শেষ হয়ে গেল। অস্ট্রেলিয়া থেকে ফিরতে হচ্ছে শূন্য হাতেই।

আগের ম্যাচের একাদশ থেকে তিনটি পরিবর্তন নিয়ে মাঠে নামা বাংলাদেশ শুরু থেকেই উজবেকদের প্রবল চাপের মুখে পড়ে। বারবার রক্ষণে হানা দেওয়া উজবেকিস্তানকে শুরুর দিকে দারুণ পজিশনিংয়ে একবার নিশ্চিত গোলবঞ্চিত করেন গোলরক্ষক মিলি আক্তার। তবে এরপর একটি আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে বক্সের বাইরে প্রতিপক্ষ খেলোয়াড়কে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

ফল পেতে খুব বেশি সময় অপেক্ষায় থাকতে হয়নি উজবেকদের। ম্যাচের ১০ মিনিটেই দারুণ এক দলীয় আক্রমণ থেকে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে দেন ফরোয়ার্ড দিয়োরাখোন খাবিবুল্লায়েভা। গোল হজমের পরও উজবেকদের চাপ সামলাতে হয়েছে বাংলাদেশকে। ২৩ মিনিটে মারিয়া মান্দার অসাধারণ এক ট্যাকেলে নিশ্চিত গোল হজম থেকে বাঁচে দল।

এরপর সমতায় ফেরার দারুণ দুটি সুযোগ তৈরি করেছিল বাংলাদেশ। ৩১ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে ঋতুপর্ণা চাকমার অসাধারণ একটি শট দারুণ দক্ষতায় রুখে দেন উজবেক গোলরক্ষক মাফতুনা জনিমকুলোভা। আর ৪২ মিনিটে বক্সে ঢুকে কোহাতি কিসকুর জন্য দারুণ একটি সুযোগ তৈরি করে দিয়েছিলেন তহুরা খাতুন, কিন্তু বল জালে জড়াতে ব্যর্থ হন কোহাতি। ১-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।

বিরতির পর ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে আক্রমণের ধার বাড়ায় বাংলাদেশ। অল্প সময়ের মধ্যে কয়েকবার প্রতিপক্ষের রক্ষণে হানা দেন ঋতুপর্ণারা, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোলটি আর পাওয়া হয়নি। উল্টো দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে এসে ক্লান্তির চরম খেসারত দিতে হয় ডিফেন্ডারদের।

৬২ মিনিটে মাঝমাঠ থেকে বক্সের ভেতর উমিদা জোইরোভার বাড়ানো বল পেয়ে সহজেই ব্যবধান ২-০ করেন উজবেক ফরোয়ার্ড দিলদোরা নোজিমোভা। এই ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই ৬৬ মিনিটে বাংলাদেশের জালে তৃতীয়বার বল জড়ায় উজবেকিস্তান। এই গোলটিও আসে দিলদোরা নোজিমোভার পা থেকে। বলের পেছনে ছুটতে থাকা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের তখন বেশ পরিশ্রান্ত দেখাচ্ছিল।

৭০ মিনিটে দুর্দান্ত গোলকিপিং করা মিলির হাত থেকে বল কেড়ে নিয়ে গোল করে বসেন উজবেকিস্তানের আসালকন আমিনজোনোভা। তবে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির (ভিএআর) সাহায্য নিয়ে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করেন।

৮২ মিনিটে বক্সের বাইরে থেকে বদলি খেলোয়াড় সুরভীর নেওয়া দারুণ একটি জোরালো শট ঠেকিয়ে দেন উজবেক গোলরক্ষক জনিমকুলোভা। শেষ পর্যন্ত ৮৮ মিনিটে নিলুফার কুদ্রাতোভার গোলে কফিনের শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয় উজবেকিস্তান। বক্সের ভেতর কুদ্রাতোভার নেওয়া শট মিলি চেষ্টা করেও ঠেকাতে পারেননি। শেষ পর্যন্ত ৪-০ গোলের বড় হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় বাংলাদেশকে।

img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।