img

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১৯:১২, ০৩ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৯:১৯, ০৩ এপ্রিল ২০২৬

ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ

টান টান উত্তেজনা শেষে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টাইব্রেকার শুটে ভারতকে ৪-৩ গোলের ব্যবধানে হারিয়েছে বাংলাদেশ। যে রোনান সুলিভান মোহময় এক ফ্রি কিকে স্বপ্নের শুরুটা গড়ে দিয়েছিলেন, ফাইনালের মঞ্চে সেই তার শটেই জয়টা এল। ভারতকে পেনাল্টি শ্যুটআউটে ৪-৩ ব্যবধানে হারিয়ে অ-২০ সাফের চ্যাম্পিয়ন হলো বাংলাদেশ। 

শটটা যে ঢঙে এল, সেটাও একটা ঢঙ বটে! 'অরা ফার্মিং' নামে একটা শব্দ আছে জেনজিদের অভিধানে, পেনাল্টি শ্যুট আউটের শেষ শটে রোনান যা করলেন, তাকে অরা ফার্মিংই বলা যায়। 

আগে জানা যাক বিষয়টা কী। অরা ফার্মিং বলতে বোঝায় এমন এক ধরনের সচেতন বা অচেতন আচরণ, যেখানে কোনো ব্যক্তি নিজের উপস্থিতি, ভঙ্গি, সিদ্ধান্ত ও মুহূর্তকে এমনভাবে ব্যবহার করেন যাতে তাকে অন্যদের চোখে আলাদা, আত্মবিশ্বাসী ও প্রভাবশালী মনে হয়, গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, তিনি এই কাজটা এমনভাবে করেন, যেন তা তার কাছে একেবারেই ডালভাত।

রোনান আজ ম্যাচের শেষ দৃশ্যে ঠিক তাই করলেন। পেনাল্টিটা নিলেন পানেনকা শটে। তা গিয়ে জালে জড়াতেই মালের ন্যাশনাল স্টেডিয়ামে আনন্দের বাধ ভেঙে গেল যেন৷ ভারতকে হারিয়ে যে চ্যাম্পিয়ন বনে গেল বাংলাদেশ!

অথচ ম্যাচের আগে ইতিহাসটা বাংলাদেশের বিপক্ষেই কথা বলছিল। ছেলেদের জুনিয়র পর্যায়ে বাংলাদেশ আজকের আগ পর্যন্ত তিন বার ফাইনালে খেলেছে ভারতের বিপক্ষে। ২০১৯, ২০২২ আর ২০২৫ সালের সেই তিন ফাইনালে হার নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে বাংলাদেশকে।

সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে মানসিক চ্যালেঞ্জটাও ছিল বেশ বড়। তার ছাপ ফাইনালে দলের খেলাতে পড়েছে বেশ। গ্রুপপর্বে যে ভারতকে হেসে খেলে হারানো গিয়েছিল, সেই ভারতের বিপক্ষেই যখন ফাইনালে খেলতে হয়েছে দ্বিতীয় সেরা দল হয়ে, তখন তো মনে হবেই যে, ভারত জুজুটা বুঝি আরও একবার পেয়েই বসল বাংলাদেশকে।

রোনান সুলিভানরা সুযোগ অবশ্য তৈরি করেছিলেন বেশ। তার ভাই ডেকলান সুলিভান সুযোগ পেয়েছিলেন ম্যাচের শেষ দিকে। শেষ মুহূর্তে তার বাঁড়ানো বল রোনানকে খুঁজে পেয়েই যাচ্ছিল বক্সে, শেষমেশ তাকে ঠেকান ভারত গোলরক্ষক। 

ভারতও সুযোগ তৈরি করেছে বটে, তবে সেসবও মোক্ষম কাজটা করে দিতে পারেনি। ফলে খেলাটা গিয়ে গড়ায় পেনাল্টি শ্যুট আউটে। 

সেখানেও কি কম নাটকীয়তার দেখা মিলেছে? টসে জিতে ভারত প্রথমে শট নেয়, তবে বাংলাদেশ গোলরক্ষক মাহিন সেটি ঠেকিয়ে দেন। মোর্শেদ, চন্দন ও ফাহিম গোল করে বাংলাদেশের লিড ধরে রাখেন।

চতুর্থ শটে স্যামুয়েল আসার আগে ভারতের গোলরক্ষক চোটের অজুহাতে সময় নষ্ট করেন। শেষ পর্যন্ত স্যামুয়েলের শট ক্রসবারে লেগে ফেরে। চার শট শেষে স্কোর দাঁড়ায় ৩-৩। মনে হচ্ছিল ডার্ক আর্টের হাত ধরে বুঝি সাফল্যটা পেয়েই যেতে চলল ভারত, আরও একবার তীরে এসে তরি ডুবতে বসল বাংলাদেশের। 

পরিস্থিতি আবারও বদলে যায় পঞ্চম শটে। ভারতের সর্বোচ্চ গোলদাতা বল পাঠান পোস্টের উপর দিয়ে। এরপর আমেরিকান প্রবাসী রোনান তার জাদুর ঝাঁপি থেকে বের করে বসেন সেই অরা ফার্মিং মুহূর্তটা। 

বাংলাদেশও তাতে ইতিহাস গড়ে বসে। যুব সাফের ফাইনালে প্রথমবারের মতো হারায় ভারতকে। ২০২৪ সালের পর আরও একবার দক্ষিণ এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন বনে যায় বাংলাদেশ। 


img

ইতিহাস গড়ে নিউজিল্যান্ডকে হারাল বাংলাদেশ

প্রকাশিত :  ১১:৪৯, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:৩২, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

১৮৩ রান তাড়া করতে দুই ওপেনারের মন্থর গতির ব্যাটিংয়ে শুরুতেই ব্যাকফুটে পড়ে বাংলাদেশ। বলার মতো সুবিধা করতে পারেননি দলনেতা লিটন কুমার দাসও। অর্ধেক ইনিংস শেষে বাংলাদেশের সমর্থকদের চোখে-মুখে ছিল হতাশার ছাপ। এরপর দুটি সফল জুটিতেই কঠিন ম্যাচ সহজ করে জিতে নিল স্বাগতিকরা। তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডকে ৬ উইকেটে হারিয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেল টাইগাররা।

এই জয়ের মাধ্যমে একটি রেকর্ড করেছে ফিল সিমন্সের শিষ্যরা। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার কীর্তি গড়েছে বাংলাদেশ। এর আগে কিউইদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ ১৩৫ রান তাড়া করে জিতেছিল টাইগাররা। এদিকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জেতার রেকর্ডটি শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। ২০১৮ সালে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নেমে ২১৫ করে জিতেছিল টাইগাররা।

রান তাড়া করতে নেমে কিউই বোলারদের সামনে ভুগতে থাকেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার সাইফ হাসান ও তানজিদ হাসান তামিম। ৫.৩ বলে ৪১ রানে ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। বাংলাদেশের প্রথম উইকেটটি নেন নাথান স্মিথ। আর আউট হওয়ার আগে ১৬ বলে ১৭ রান করেন সাইফ। আরেক ওপেনার তানজিদ করেন ২৫ বলে ২০ রান। এদিকে ১৫ বলে ২১ রানে থামেন দলনেতা লিটন দাস।

১০.১ ওভারে ৭৭ রান তুলতে ৩ উইকেট হারিয়ে খানিকটা ব্যাকফুটেই পড়ে বাংলাদেশ দল। এমতাবস্থায় চতুর্থ উইকেটে দলের ভরসা জোগায় চতুর্থ উইকেট জুটি। মাত্র ২৮ বলে ৫৬ রান তোলেন তাওহীদ হৃদয় ও পারভেজ হোসেন ইমন। মাত্র ১৪ বলে ২৮ রান করে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান ইমন।

শামীম হোসেন পাটোয়ারিকে নিয়ে পঞ্চম উইকেটে তাওহীদ হৃদয়ের গড়া জুটিটা ছিল দুর্দান্ত। মাত্র ১৯ বলে ৪৯ রানের অপ্রতিরোধ্য পার্টনারশিপ গড়েন হৃদয়-শামীম। তাতেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় স্বাগতিক বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৫১ রান করে অপরাজিত থাকেন তাওহীদ হৃদয়। মাত্র ২৯ বলে খেলা তার এই ইনিংসটি দুটি চার ও তিনটি ছয়ে সাজানো। আর মাত্র ১৩ বলে তিনটি চার ও দুটি ছয়ে ৩১ রানের একটি ক্যামিও ইনিংস খেলেন শামীম।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে দুটি উইকেট পেয়েছেন ইশ সোধি। আর একটি করে উইকেট নেন নাথান স্মিথ ও জশ ক্লার্কসন।

এর আগে চট্রগ্রামে টস জিতে নিউজিল্যান্ডকে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশের অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই উইকেট হারায় কিউইরা। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই রান আউট হয়ে সাজঘরে ফেরেন ওপেনার টিম রবিনসন।

তবে দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে শুরুর চাপ সামলে নেন ওপেনার কেতেন ক্লার্ক ও ড্যান ক্লেভার। এসময় দুজন মিলে গড়েন ৮৮ রানের জুটি। আর এই দুই কিউই ব্যাটারই ফিফটির দেখা পেয়েছেন। মজার ব্যাপার আউট হওয়ার আগে দুজনই করেন ৫১ রান। ৩৭ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রান করেন ক্লার্ক। আর মাত্র ২৮ বলে সাতটি চার ও একটি ছয়ে ৫১ রানে থামেন ক্লেভার।

এই দুই ব্যাটার সাজঘরে ফেরার পর খানিকটা চাপে পড়ে নিউজিল্যান্ড। দ্রুত কয়েক উইকেট হারানোর পর রানের গতিও কিছুটা কমে যায়। প্রথম ১০ ওভারে ১০০ রান করা নিউজিল্যান্ড পরের ৫ ওভারে করেছেন মাত্র ৩০ রান। এর মাঝেই বেভন জ্যাকবস ১ রানে ও ড্যান ফক্সক্রফট ৩ রানে আউট হন।

এরপর ফের একবার রানের চাকা সচল করেন অধিনায়ক নিক কেলি। কিন্তু ইনিংস শেষ করে ফিরতে পারেননি তিনি। শরিফুল ইসলামের করা বলে আউট হওয়ার আগে কিউই অধিনায়ক করেন ২৭ বলে ৩৯ রান। এছাড়া জশ ক্লার্কসন ৩০ ও নাথান স্মিথ ৪ রান করেন। নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ১৮২ রানে।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ দুটি উইকেট নেন রিশাদ হোসেন। এছাড়া একটি করে উইকেটের দেখা পেয়েছেন তিনজন বোলার।