img

গত এক মাসে তেল বিক্রি করে ইরানের আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ

প্রকাশিত :  ০৭:০৩, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

গত এক মাসে তেল বিক্রি করে ইরানের আয় বেড়েছে ৪০ শতাংশ

নৌ অবরোধের কারণে ইরানের প্রতিদিন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন ভিন্ন কথা। গত এক মাসে ইরানের আয় বেড়েছে আগের চেয়ে ৪০%।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাবে তেল বিক্রি থেকে ইরানের আয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এপ্রিল ২০২৬-এর সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে দেশটির দৈনিক তেল আয় ও মোট রাজস্বে বড় ধরনের প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে।

মার্চ ২০২৬-এ ইরান প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৩৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার আয় করেছে, যা ফেব্রুয়ারির ১১৫ মিলিয়ন ডলারের তুলনায় প্রায় ২১ শতাংশ বেশি। কিছু বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে এ প্রবৃদ্ধি এক মাসে প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছানোর কথা বলা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই আয়ের পেছনে প্রধান কারণ বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি। ব্রেন্ট ক্রুড অয়েলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ায় ইরান বেশি দামে তেল বিক্রির সুযোগ পেয়েছে। ইউএস-ইসরায়েল ও ইরান সংশ্লিষ্ট উত্তেজনা এ মূল্যবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করেছে।

এছাড়া আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে আগে যে বড় অঙ্কের ছাড় দিয়ে তেল বিক্রি করতে হতো, বর্তমানে সরবরাহ সংকটের কারণে সেই ডিসকাউন্ট কমে এসেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারদরের কাছাকাছি মূল্যে তেল বিক্রি করতে পারছে তেহরান।

রপ্তানি ক্ষেত্রেও ইরান কিছুটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে। হরমুজ প্রণালীর কৌশলগত অবস্থান কাজে লাগিয়ে এবং ‘শ্যাডো ফ্লিট’ ব্যবহার করে তারা তেল রপ্তানি অব্যাহত রেখেছে। এ ক্ষেত্রে চীনের শোধনাগারগুলো ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা হিসেবে ভূমিকা রাখছে। অন্যদের জন্যে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রেখে ইরানের নিজস্ব তেল রপ্তানি আয়ের হার অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।  

যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা ও নৌ-অবরোধের চাপ সত্ত্বেও বিকল্প পথ ব্যবহার করে তেল বিক্রি সচল রেখেছে ইরান, যার ফলে দেশটির জ্বালানি খাতের আয় বাড়তে থাকছে।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

মার্কিন-ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপে ইরান

প্রকাশিত :  ০৯:৫৯, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব দ্য রেড ক্রস, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্ট এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার কাছে বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে মার্কিন ও ইসরাইলি হামলার নথিপত্র জমা দিয়েছে ইরান। 

দেশটির রেড ক্রস জানিয়েছে, এসব বিষয়ে আইনি অনুসরণও চলছে। শনিবার (২৫ এপ্রিল) পির-হোসেইন কৌলিভান্দ এই তথ্য জানান।

কৌলিভান্দ বলেন, শুরুতে আন্তর্জাতিক রেড ক্রসকে হামলাগুলোর নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছিল ইরান। তবে সংস্থাটি প্রথমে স্বাধীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে মন্তব্য করতে অপারগতার কথা জানায়।

তিনি বলেন, ধারাবাহিক লিখিত অনুসরণ ও গুরুত্বসহকারে আলোচনার পর আন্তর্জাতিক রেড ক্রস শেষ পর্যন্ত হামলার নিন্দা জানায় এবং সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেয়।

কৌলিভান্দ আরও বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমিনাল কোর্টের প্রসিকিউটর জানিয়েছে, ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সরবরাহ করা নথিগুলো আনুষ্ঠানিক প্রমাণ হিসেবে গ্রহণ করা হয়েছে। 

জেনেভা কনভেনশনের ভিত্তিতে বেসামরিকদের ওপর সব হামলার ঘটনা আইনি প্রক্রিয়ায় অনুসরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর