img

চীনা মুদ্রার কাছে কোণঠাসা মার্কিন ডলার

প্রকাশিত :  ১৬:৫৬, ০২ মে ২০২৬

চীনা মুদ্রার কাছে কোণঠাসা মার্কিন ডলার

মার্কিন ডলারের আধিপত্য কমিয়ে বিশ্ব বাণিজ্যে নিজেদের মুদ্রা ইউয়ানের ব্যবহার বাড়ানোর ক্ষেত্রে চীন আরেকটি বড় সাফল্য অর্জন করেছে। দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে খনিজ লোহার বাজার সম্পূর্ণভাবে ডলারের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও এবার সেখানে বড় ধরনের ফাটল ধরালো বেইজিং। বিশ্বের সর্ববৃহৎ খনি কোম্পানি অস্ট্রেলিয়ার বিএইচপি-এর সঙ্গে প্রায় সাত মাস ধরে চলা একটি কঠিন বিরোধের অবসান ঘটিয়ে এই সাফল্য অর্জন করেছে চীন।

এতদিন পর্যন্ত বিএইচপি চীনের কাছে যত লৌহ আকরিক বিক্রি করতো তার সবটুকুই ডলারে লেনদেন হতো। তবে নতুন চুক্তি অনুযায়ী, এখন থেকে এর একটি অংশ চীনা মুদ্রা ইউয়ানে পরিশোধ করা হবে। চীনের জন্য এটি একটি বিশাল প্রতীকী জয়, কারণ দশকের পর দশক ধরে তারা অন্য দেশগুলোর কাছ থেকে খনিজ সম্পদ কেনার ক্ষেত্রে নিজেদের মুদ্রার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে আসছিল। 

লোহার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের বাজারেও এখন ডলার সরিয়ে চীনা মুদ্রার লেনদেন বাড়ছে। এমনকি গত সপ্তাহে আন্তর্জাতিক ব্যাংকগুলোর মধ্যেও চীনা মুদ্রায় ঋণ নেওয়ার হার রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছেছে। স্বল্প সুদের হারের কারণে গোল্ডম্যান স্যাক্সের মতো শীর্ষস্থানীয় মার্কিন ব্যাংকগুলোও চীনের অফশোর ঋণ বাজারের দিকে ঝুঁকছে। এছাড়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা করার অনিশ্চয়তা এড়াতে অনেক বিনিয়োগকারী ও প্রতিষ্ঠান এখন ডলারের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে দিচ্ছে।

খনিজ বাজারগুলোতে এই পরিবর্তনের পেছনে মূল ভূমিকা রেখেছে চীন সরকারের তৈরি করা নতুন প্রতিষ্ঠান ‘চায়না মিনারেল রিসোর্সেস গ্রুপ’ (সিএমআরজি)। এই সংস্থাটি চীনা কোম্পানিগুলোর জন্য আকরিক লোহা আমদানির ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালন করে। বিএইচপি শুরুতে সরাসরি চীনা ইস্পাত কারখানাগুলোর সঙ্গে মার্কিন ডলারে চুক্তি করতে চাইলেও সিএমআরজি ক্রমাগত চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। 

একপর্যায়ে তারা বিএইচপি-এর জিম্বলবার আকরিক লোহা আমদানি নিষিদ্ধ করে দেয়। এই অচলাবস্থা নিরসনে সম্প্রতি বিএইচপি-এর বিদায়ী প্রধান নির্বাহী মাইক হেনরি এবং নতুন প্রধান ব্র্যান্ডন ক্রেগ বেইজিংয়ে চীনা কর্মকর্তাদের সাথে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকেই নতুন একটি চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে বিএইচপি চীনের মূল্য নির্ধারণ ব্যবস্থা মেনে নেয় এবং কিছুটা ছাড় দিতে বাধ্য হয়।

অস্ট্রেলিয়ার অন্যান্য শীর্ষ আকরিক লোহা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান যেমন রিও টিন্টো এবং ফোর্টেস্কু অনেক আগে থেকেই চীনের এই অভ্যন্তরীণ মূল্য সূচক মেনে নিয়ে আসছিল। তবে এবার বিএইচপি-এর মতো সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠানের নতি স্বীকারের ঘটনাটি বিশ্ব খনিজ বাজারে এই স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে এই ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ এখন পুরোপুরি চীনের হাতে চলে গেছে।

লোহা আকরিকের দাম নির্ধারণের ক্ষেত্রে এতদিন ধরে মার্কিন সংস্থা এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ‘প্ল্যাটস ইনডেক্স’ সবচেয়ে বেশি প্রভাবশালী ছিল। কিন্তু চীন সেই সূচকের পরিবর্তে তাদের নিজস্ব ‘বেইজিং আয়রন ওর পোর্ট স্পট প্রাইস ইনডেক্স’ চালু করার দাবি জানিয়ে আসছিল। 

নতুন চুক্তির আওতায় বিএইচপি শুধু এই চীনা সূচক মেনে নেয়নি, বরং চীনের ইস্পাত কারখানাগুলোর জন্য অতিরিক্ত ১ দশমিক ৮ শতাংশ মূল্যছাড়ও দিয়েছে। চীনা সংবাদমাধ্যম কাইসিন জানায়, বিএইচপি-এর জিম্বলবার আকরিকের মূল্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে এখন ৫১ শতাংশ চীনা মুদ্রা ইউয়ান এবং বেইজিংয়ের মূল্য সূচক ব্যবহার করা হবে। 

চীনের এই ধারাবাহিক সাফল্যের পর ধারণা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে তাদের অন্যান্য খনিজ আমদানির ক্ষেত্রেও রেনমিনবিতে লেনদেনের সুযোগ আরও বৃদ্ধি পাবে।

সূত্র: ফোর্বস


img

যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে পাঠানো নতুন প্রস্তাবে যা বলেছে ইরান

প্রকাশিত :  ১৭:৫৬, ০২ মে ২০২৬

ইরান এবার যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে  সংশোধিত একটি নতুন প্রস্তাব পাঠিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার  মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তানের মাধ্যমে এই প্রস্তাব ওয়াশিংটনের কাছে পৌঁছে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

আজ শনিবার (২ মে ) বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ইরানি কর্মকর্তা জানান, নতুন প্রস্তাবে হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করা এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরবর্তী ধাপে নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

ইরানের ওই কর্মকর্তা বলেন, একটি সম্ভাব্য সমঝোতার পথ সুগম করতেই পারমাণবিক ইস্যুকে আলোচনার শেষ পর্যায়ে রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, \'জটিল বিষয়গুলো পরে আলোচনা করলে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সহজ হয়।\'

প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, চলমান সংঘাত বন্ধে শক্তিশালী গ্যারান্টি থাকতে হবে—যেখানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ভবিষ্যতে আর কোনো হামলা চালাবে না বলে নিশ্চয়তা দেবে। এর বিনিময়ে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দেবে এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদের নৌ অবরোধ তুলে নেবে।

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেন নৌসাবাদী যুক্তরাষ্ট্রের কড়া সমালোচনা করে দেশটিকে \'বিশ্বখেকো\' বলে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তি ও উন্নয়নের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব কমানো জরুরি।

শনিবার ইসনা নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন,\' ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক সম্পদের প্রতি বিদেশিদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ রয়েছে, যা আমাদের ইতিহাস ও পরিচয়ের অংশ।\' 

তিনি আরও বলেন, অতীতে যেমন পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস ও ইংল্যান্ডকে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির বিরুদ্ধেও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে।