img

পাঠ্যবই: তিন শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে তিনটি বিষয়

প্রকাশিত :  ০৭:৪৬, ১৩ মে ২০২৬

পাঠ্যবই: তিন শ্রেণিতে যুক্ত হচ্ছে তিনটি বিষয়
সরকার আগামী ২০২৭ সালের শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে তিনটি নতুন বিষয় যুক্ত করার প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে । চতুর্থ শ্রেণিতে যোগ হচ্ছে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’, ষষ্ঠ শ্রেণিতে ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ এবং সপ্তম শ্রেণিতে ‘জীবন ও কর্মমুখী শিক্ষা’। একই সঙ্গে ইতিহাস, তথ্যপ্রযুক্তি, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও মানসিক স্বাস্থ্য শিক্ষায় নতুন নতুন অধ্যায় সংযোজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এসব পরিবর্তন আনতে এবং পাঠ্যবইয়ে পরিমার্জনের জন্য প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরে আলাদা কর্মশালার আয়োজন করেছে এনসিটিবি। এরই মধ্যে চার দিনব্যাপী কর্মশালার মাধ্যমে মাধ্যমিক স্তরের বিভিন্ন শ্রেণির ৯৯টি বই পরিমার্জন করা হয়েছে। আর মঙ্গলবার শুরু হয়েছে প্রাথমিক স্তরের ৩৬টি বই পরিমার্জনের কাজ। আগামী দুই মাসের মধ্যে এই কাজ শেষ করতে চায় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)। এবার এনসিটিবির সঙ্গে যৌথভাবে কাজটি করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের কয়েকজন শিক্ষাক্রম বিশেষজ্ঞ। 

ইতিহাসের বইয়ে নতুন অধ্যায়
মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে কয়েকটি নতুন বিষয় সংযোজন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর ও ফোর্সগুলোর বিস্তারিত বর্ণনা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা এবং নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ভূমিকা।
এ ছাড়া জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধকালীন ভূমিকা এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অবদান সম্পর্কেও নতুন অধ্যায় যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ইতিহাসের উপস্থাপনাকে আরও তথ্যনির্ভর ও ভারসাম্যপূর্ণ করতে কাজ করা হচ্ছে, যাতে শিক্ষার্থীরা জাতীয় ইতিহাসের বিভিন্ন অধ্যায় সম্পর্কে সম্যক ধারণা পায়।

আইসিটি বইয়ে এআই ও রোবটিকস
ষষ্ঠ থেকে নবম শ্রেণির তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বইয়েও বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের পুরোনো কনটেন্ট বাদ দিয়ে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিকস, সাইবার নিরাপত্তা, হার্ডওয়্যার এবং আধুনিক প্রযুক্তিভিত্তিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। শিক্ষাবিদরা বলছেন, বর্তমান প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে শিক্ষার্থীদের দক্ষ করে তুলতেই এই পরিবর্তন আনা হচ্ছে।

খেলাধুলা ও সংস্কৃতিতে বাড়ছে গুরুত্ব
নতুন পাঠ্যক্রমে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। চতুর্থ শ্রেণিতে ‘ক্রীড়া এবং সংস্কৃতি’ নামে আলাদা বিষয় চালুর পাশাপাশি মাধ্যমিক স্তরেও খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমকে পাঠ্যক্রমের অংশ করা হচ্ছে। এতে ফুটবল, ক্রিকেট, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার, অ্যাথলেটিকস, দাবা ও দেশীয় সংস্কৃতিভিত্তিক বিভিন্ন বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।  সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এসব বিষয়ের মূল্যায়ন হবে শিক্ষার্থীদের সরাসরি অংশগ্রহণ ও ব্যবহারিক কার্যক্রমের ভিত্তিতে।

ভাষা, ছবি ও অলংকরণেও পরিবর্তন
এনসিটিবি জানিয়েছে, শুধু বিষয়বস্তু নয়; পাঠ্যবইয়ের ভাষা, শব্দচয়ন ও বানানেও সংশোধন আনা হচ্ছে। পাশাপাশি বইয়ের প্রচ্ছদ, ছবি, মানচিত্র ও অলংকরণে নান্দনিক পরিবর্তন আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
শিক্ষার্থীদের বয়স ও মানসিক বিকাশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ছবি, বাণী, প্রবাদ ও ক্যাপশন ব্যবহারের দিকেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

জুন থেকে শুরু হচ্ছে নতুন শিক্ষাক্রমের কাজ
২০২৮ সাল থেকে নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। আগামী জুন মাস থেকে নতুন শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে। 

শিক্ষা এর আরও খবর

img

পাঠ্যবইয়ে যুক্ত হচ্ছে খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন’ রাজনৈতিক অধ্যায়

প্রকাশিত :  ০৬:৫৬, ১৩ মে ২০২৬

জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) আগামী শিক্ষাবর্ষের পাঠ্যবইয়ে নতুন কিছু বিষয় সংযোজন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ভূমিকা ইতিহাসের পাঠ্যবইয়ে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

এনসিটিবি সূত্রে জানা গেছে, মাধ্যমিক স্তরের বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় এবং বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা বইয়ে এ পরিবর্তন আনা হবে। পাশাপাশি মহান মুক্তিযুদ্ধের সেক্টরভিত্তিক বিস্তারিত বর্ণনা এবং ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনাও নতুনভাবে যুক্ত করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণির বইয়ে বিষয়গুলো সংক্ষিপ্তভাবে উপস্থাপন করা হলেও নবম শ্রেণির বইয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা থাকবে। বিভিন্ন পর্যায়ের যাচাই-বাছাই শেষে পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করা হবে।

এনসিটিবির চেয়ারম্যান মো. মাহবুবুল হক পাটওয়ারী (অতিরিক্ত দায়িত্বে) বলেন, পাঠ্যবই প্রতিবছরই কমবেশি পরিমার্জন হয়। এবার যেহেতু নতুন সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বিবেচনা করে পরিমার্জনের কাজটি হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগিতায় সারা দেশের প্রায় ৩২০ জন শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞ নিয়ে কর্মশালার মাধ্যমে কাজটি করা হচ্ছে। এর মধ্যে মাধ্যমিকের বইগুলো পরিমার্জন করা হয়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার প্রাথমিকের বইগুলো পরিমার্জনের কাজ শুরু হবে।

এর আগে, অন্তর্বর্তী সরকার সে সময় বিদ্যমান নতুন শিক্ষাক্রম থেকে সরে এসে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রমের আলোকে বই পরিমার্জন শুরু করে। একইসঙ্গে ২০২৫ সালের পঞ্চম থেকে নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ও ইংরেজি বইয়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থান বিষয়ে কবিতা, প্রবন্ধ ও গদ্য সংযোজন করা হয়। পরে চলতি বছরের পাঠ্যবইয়ে ইতিহাসের অংশ হিসেবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়বস্তু ষষ্ঠ, সপ্তম, অষ্টম এবং নবম-দশম শ্রেণির বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয় পাঠ্যবইয়ে যুক্ত করা হয়। একইসঙ্গে নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের বিষয়টিও পাঠ্যসূচিতে স্থান পায়।