img

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

প্রকাশিত :  ০৭:৪৬, ২১ মে ২০২৬

রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ৭ দিনের মধ্যে দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন । ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারকে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) আইনমন্ত্রী নিজেই এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, দ্রুততম সময়ের মধ্যে এ হত্যাকাণ্ডের বিচার কাজ শেষ করতে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গতমঙ্গলবার সকালে পল্লবী সেকশন-১১ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় শিশুটির বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলায় রামিসাদের পাশের ফ্ল্যাটের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা, তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ও অজ্ঞাত আরও একজনকে আসামি করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর স্বপ্নাকে আটক করে পুলিশ। সোহেল আত্মগোপনে চলে গেলেও সন্ধ্যায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ দুই আসামিকে আজ আদালতে হাজির করে। অজ্ঞাত আসামি পলাতক।

মামলার পর পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যাকার কথা স্বীকার করে সোহেল। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক ওহিদুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া প্রধান আসামি ম্যাজিস্ট্রেটের সামনেও স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে সম্মত হয়েছে।

রামিসাকে হত্যার পর লাশ গুম করতে হাত-মাথা কেটে বিচ্ছিন্ন

এদিকে, সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রামিসার দেহের ময়নাতদন্ত হয়। পরে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। স্বজনরা রামিসাকে গ্রামের বাড়িতে দাফন করেছেন। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

রামিসার বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ১৫:৩৫, ২১ মে ২০২৬

রাজধানীর পল্লবীতে ধর্ষণ ও হত্যার শিকার শিশু রামিসার বাবা-মায়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে তাদের বাসায় যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

আজ বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাতে পল্লবীতে রামিসার পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন প্রধানমন্ত্রী। 

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

সূত্র জানায়, সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জনপ্রশাসন সভাকক্ষে মন্ত্রিপরিষদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই বৈঠক শেষ করে রামিসার বাসায় যাবেন প্রধানমন্ত্রী। 

এদিকে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন বলে বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।

গত মঙ্গলবার (১৯ মে) ফ্ল্যাটে ডেকে নিয়ে রামিসাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে সোহেল রানা নামের এক যুবক। এ ঘটনায় রামিসার বাবা আবদুল হান্নান মোল্লা বাদি হয়ে মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে একই ভবনের ভাড়াটিয়া সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার কৌশলে তার মেয়েকে নিজেদের কক্ষে নিয়ে যায়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মেয়েকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে অভিযুক্তদের কক্ষের সামনে মেয়ের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাডাকি করা হয়। কোনো সাড়া না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। পরে শয়নকক্ষের মেঝেতে তার মেয়ের মস্তকবিহীন লাশ ও বিচ্ছিন্ন মাথা পাওয়া যায়। 

এজাহারে বলা হয়, শিশুটিকে কক্ষে নেওয়ার সময় সোহেলের সঙ্গে অজ্ঞাতপরিচয় আরও এক ব্যক্তি ছিল।

ওই ঘটনার পরই ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। বুধবার ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাইদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, দরজা খোলার পর মেয়েটিকে দেখে তার বিকৃত যৌন লালসা জেগে ওঠে। ওই সময় ইয়াবা আসক্ত হওয়ায় মেয়েটিকে ডেকে ঘরের বাথরুমে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়। মেয়েটি তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে গোটা ঘটনা ফাঁস হওয়ার আতঙ্কে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে। একপর্যায়ে লাশ গুমে সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন রানার স্ত্রী।

আদালতে জবানবন্দিতে সোহেল রানা বলেন, তারা একই ভবনে পাশাপাশি কক্ষে থাকতেন। শিশুটির পরিবারসহ তিনটি পরিবারের বাস ছিল একই তলার পাশাপাশি। ঘটনার দিন সকাল ৯টার দিকে শিশুটিকে দেখে ইয়াবা আসক্ত সোহেলের মধ্যে বিকৃত যৌন লালসা তৈরি হয়। সুযোগ বুঝে শিশুটিকে নিজের কক্ষে ডেকে নেয় সে। পরে জোর করে বাথরুমে নিয়ে শিশুটির ওপর যৌন নির্যাতন চালিয়ে ধর্ষণ করে। 

সোহেল জানায়, ঘটনার পর শিশুটি তার মা-বাবাকে বিষয়টি জানিয়ে দেওয়ার কথা বললে আতঙ্কিত হয়ে পড়ে সোহেল। নিজের অপরাধ ফাঁস হওয়ার আশঙ্কায় একপর্যায়ে শিশুটিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডের পর সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বিষয়টি জানতে পারেন। পরে স্বামীকে বাঁচাতে লাশ গোপন করার পরিকল্পনা করেন। লাশ গুম করতে তার মাথা ধারালো ছুরি দিয়ে কেটে গলা থেকে আলাদা করে ফেলা হয়। এছাড়া তার যৌনাঙ্গ ক্ষতবিক্ষত করা হয় এবং দুই হাত কাঁধের কাছ থেকে আংশিক বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরপর লাশ বাথরুম থেকে শয়নকক্ষে এনে খাটের নিচে রাখা হয়। এ সময় মেয়েটির মা দরজায় নক করছিলেন। তখন মূল আসামি সোহেল যাতে পালাতে পারে, সেই সুযোগ করে দিতে স্ত্রী স্বপ্না দীর্ঘক্ষণ দরজা বন্ধ রাখেন। সোহেল জানালার গ্রিল কেটে পালিয়ে যাওয়ার পর স্বপ্না দরজা খোলেন। পুরো প্রক্রিয়াতেই সোহেলকে সহযোগিতা করেন তিনি।


জাতীয় এর আরও খবর