img

ধন্যবাদ অর্থমন্ত্রী, আশার আলো যেন ফিরছে আবার —করিম চাচার পুঁজিবাজারের গল্প

প্রকাশিত :  ১৯:৩৯, ০২ জুন ২০২৬

ধন্যবাদ অর্থমন্ত্রী, আশার আলো যেন ফিরছে আবার —করিম চাচার পুঁজিবাজারের গল্প

প্রিয় বিনিয়োগকারী ভাই-বোনেরা,

করিম চাচা বলছি। অনেক বছর পুঁজিবাজারের চড়াই-উতরাই দেখেছি। চোখে পড়েছে উচ্ছ্বাসের দিন, আরও পড়েছে দুঃসহ হতাশা। কিন্তু আজ বেশ কিছুদিন পর আমার মনে হচ্ছে—যেন সত্যি সত্যি নতুন এক রাস্তার মুখে দাঁড়িয়েছি আমরা।

সম্প্রতি অর্থমন্ত্রী যে রোডম্যাপ দিয়েছেন, সেটা নিছক কাগজে-কলমের পরিকল্পনা নয়। বরং আমার চোখে তাতে স্পষ্ট এক অঙ্গীকার ধরা পড়ে—পুঁজিবাজারকে নতুন করে গড়ে তোলার। তাই একজন পথচারী বিনিয়োগকারী হিসেবে আমি তাঁকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে রাখছি।

আমার কাছে সবচেয়ে বড় আশার খবরটি হলো: আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই নতুন বিএসইসি চেয়ারম্যান ও চারজন কমিশনার আসছেন। আর বিশেষ কথাটি হচ্ছে, তাঁদের নিয়োগ দেওয়া হবে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশের বাইরে—যোগ্যতা ও পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে। পুঁজিবাজারে আস্থা ফেরাতে এর চেয়ে জরুরি পদক্ষেপ আর কী থাকতে পারে?

কতদিন হলো, মুখে মুখে ফিরছে কথাটা—‘পুঁজিবাজার তো ক্যাসিনো হয়ে গেছে, বিনিয়োগের জায়গা নেই।’ ঠিক সেই অভিযোগের মাঝে অর্থমন্ত্রী যখন স্পষ্ট ঘোষণা দিলেন, “পুঁজিবাজারকে ক্যাসিনো নয়, বরং কার্যকর অর্থায়নের প্ল্যাটফর্ম করতে চাই,” তখন লক্ষ বিনিয়োগকারীর মনের অন্ধকারে যেন এক ঝলক আলো পড়ল।

আমার পুরোনো অভিজ্ঞতা বলে—যেখানে স্বচ্ছতা, সেখানে ভালো কোম্পানির আনাগোনা বাড়ে। ভালো কোম্পানি এলে টাকা আসে দীর্ঘমেয়াদের জন্য। আর দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ যেখানে জমে, বাজার সেখানে পায় স্থিতিশীলতার ভিত্তি। অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনায় সেই স্বচ্ছতা ও সংস্কারের বার্তা পরিষ্কার।

আরেকটি দিক আমাকে টেনেছে—বন্ড মার্কেটকে শক্তিশালী করার পরিকল্পনা। উন্নত বিশ্বের দিকে তাকান, সেখানে বন্ড মার্কেট কত বড়। আমাদের দেশেও যদি প্রতিষ্ঠানগুলো পুঁজিবাজার থেকে সরাসরি অর্থ তুলতে পারে, তাহলে ব্যাংক খাতের চাপ কমবে, শিল্প দ্রুত গড়ে উঠবে, আর অর্থনীতির ভিত হবে মজবুত।

এখন দেশীয় গাড়ি উৎপাদনে সরকারি সমর্থনের কথাও শুনছি। এটা তো দারুণ ইতিবাচক। নতুন শিল্প মানেই নতুন চাকরি, নতুন বিনিয়োগ। আর সেটা সফল হলে তার ছোঁয়া পুঁজিবাজারেও লাগবেই।

প্রিয় বিনিয়োগকারীরা,

পুঁজিবাজারে টিকে থাকতে তিনটি জিনিস চাই—ধৈর্য, জ্ঞান আর আস্থা। বাজারের প্রতিটি ওঠানামায় বিচলিত হলে অনেক দূর যাওয়া মুশকিল। আজ যে সংস্কারের কথা হচ্ছে, তার ফল একদিনে ফুটবে না—এটা বাস্তব কথা। কিন্তু পথ ঠিক থাকলে গন্তব্যে পৌঁছতে পারব, তাতে আমার কোনো সন্দেহ নেই।

আমি বিশ্বাস করি, স্বচ্ছতা যদি প্রতিষ্ঠিত হয়, দক্ষ নেতৃত্ব যদি আসে, ভালো কোম্পানিগুলো যদি তালিকাভুক্ত হতে থাকে, আর নীতিনির্ধারকেরা যদি তাঁদের প্রতিশ্রুতির মতো সংস্কার বাস্তবায়ন করেন—তাহলে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আবারও দেশের অর্থনীতির সবচেয়ে শক্ত চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে।

আজ হতাশার চেয়ে আশার কারণই বেশি।

আজ ভয়ের চেয়ে আস্থা রাখার কারণ বেশি।

আজ গুজবের চেয়ে বাস্তব পরিবর্তনের বার্তা অনেক বেশি।

তাই আসুন, ইতিবাচক থাকি, তথ্যের আলোয় বিনিয়োগ করি, দূরের পথ দেখি, আর গড়ে তুলি এক শক্তিশালী, স্বচ্ছ ও আধুনিক পুঁজিবাজার।

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল হোক—এটাই চাচার শেষ কথা।

ধন্যবাদ অর্থমন্ত্রী।

ধন্যবাদ তাঁদের সবাইকে, যারা নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন—পুঁজিবাজারকে আবার আস্থা ও সম্ভাবনার ঠিকানায় ফিরিয়ে নিতে।

— করিম চাচা

img

গ্রাহক ও পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ালো সরকার

প্রকাশিত :  ১২:০০, ০৩ জুন ২০২৬

তাড়াহুড়া করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পাইকারি ও গ্রাহক পর্যায়ের বিদ্যুতের দাম বাড়াল সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্য ১ দশমিক ৩৯ টাকা, সঞ্চালন চার্জ ৮ পয়সা ও খুচরা পর্যায়ে ১ দশমিক ৫২ টাকা বাড়ানো হয়েছে।
এতে বিদ্যুতের দাম পাইকারি পর্যায়ে বাড়ল ১৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ, গ্রাহক পর্যায়ে ১৬ দশমিক ৬৯ শতাংশ ও সঞ্চালন চার্জ ২৩ দশমিক ৯৫ শতাংশ।

আজ বুধবার (৩ জুন) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন, বাংলাদেশ (আইইবি) ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বিদ্যুতের নতুন দাম ঘোষণা করে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

সংবাদ সম্মেলনে বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ বলেন, আলোচনা-পর্যালোচনা ও গণশুনানির পর বিদ্যুতের উৎপাদন, ক্রয়, আমদানি ব্যয়, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যয়, পাইকারি পর্যায়ে সরকারের ভর্তুকি প্রদান এবং সার্বিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এ দাম বাড়ানো হয়।

তিনি জানান, বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি পাইকারি দাম ৭ টাকা থেকে ১ দশমিক ৩৯ টাকা বাড়িয়ে ৮ দশমিক ৩৯ টাকা নির্ধারণের আদেশ প্রদান করা হয়েছে।

এছাড়া ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ দশমিক ৩১৩৫ টাকা থেকে দশমিক ০৭৫১ বাড়িয়ে দশমিক ৩৮৮৬ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুতের ইউনিটপ্রতি সঞ্চালন চার্জ ৩১ পয়সা থেকে বেড়ে হবে ৩৯ পয়সা।

গ্রাহক পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম বেড়েছে ১ দশমিক ৫২ টাকা। ৯ দশমিক ১১ টাকা থেকে বাড়িয়ে এখন গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের প্রতি ইউনিটের দাম ১০ দশমিক ৬৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, দাম বাড়ানোর পরও সরকারকে ৪১ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে।