img

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন

প্রকাশিত :  ০৭:২৩, ০৫ জুন ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে পতন

বিদ্যমান মধ্যপ্রাচ্য উত্তেজনা, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনায় অনিশ্চয়তা এবং সুদের হার বাড়ার আশঙ্কার প্রভাবে আজ শুক্রবার (৫ জুন) বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমেছে। রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, স্পট স্বর্ণের মূল্য ০.৫ শতাংশ হ্রাস পেয়ে প্রতি আউন্স ৪,৪৫২.২০ ডলারে নেমে এসেছে। এ নিয়ে সপ্তাহজুড়ে মোট পতন দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.৮ শতাংশ।

এছাড়া আগস্ট ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচার ০.৬ শতাংশ কমে ৪,৪৭৮.৫০ ডলারে নেমে এসেছে। এবিসি রিফাইনারির গ্লোবাল হেড অব ইনস্টিটিউশনাল মার্কেটস নিকোলাস ফ্র্যাপেল বলেন, ইরান ইস্যুর সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা স্বর্ণের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। পাশাপাশি সুদের হার আরও কঠোর হওয়ার প্রত্যাশাও মূল্যবান ধাতুটির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

স্বর্ণ সাধারণত মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে একটি নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সুদের হার বেশি থাকলে সুদবিহীন এই ধাতুর আকর্ষণ তুলনামূলকভাবে কমে যায়। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুল অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা বাজারে ৫১ শতাংশ হিসেবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এ অবস্থায় বিনিয়োগকারীদের নজর এখন যুক্তরাষ্ট্রের মে মাসের নন-ফার্ম পেরোলস (NFP) তথ্যের দিকে, যা ফেডের ভবিষ্যৎ মুদ্রানীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে রুপার দাম ১.৪ শতাংশ কমে আউন্সপ্রতি ৭২.৮৯ ডলারে নেমেছে। একই সময়ে প্লাটিনামের মূল্য ১.১ শতাংশ হ্রাস পেয়ে ১ হাজার ৮৭৮.৬৮ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দাম ১.৭ শতাংশ কমে ১ হাজার ২৯৮.৪৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। এতে সপ্তাহের শেষে প্রায় সব ধরনের মূল্যবান ধাতুই ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে পুরো সপ্তাহজুড়েই ধাতব বাজারে দরপতনের প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে।

দেশে ভরির দাম কত

দেশের স্বর্ণবাজারেও এসেছে স্বস্তির খবর। ঈদের পর বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) স্বর্ণের দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ভরিতে ৩ হাজার ২৬৬ টাকা কমিয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

গত ২ জুন সকালে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য কমেছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এ দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হবে।

নতুন নির্ধারিত দামে দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেট স্বর্ণের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৩৪ হাজার ৮৫৫ টাকা। একই সঙ্গে ২১ ক্যারেট স্বর্ণের ভরি প্রতি দাম ২ লাখ ২৪ হাজার ১৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের ক্ষেত্রে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের ভরি প্রতি মূল্য ১ লাখ ৫৬ হাজার ৪৭৩ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।


img

বন্ধ কারখানা চালু করতে ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ, সুদের হার ৭%

প্রকাশিত :  ১৮:৫১, ০৪ জুন ২০২৬

বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি সচল করতে ২০ হাজার কোটি টাকার নতুন তহবিল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই তহবিল থেকে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো ঋণ সুবিধা পাবে। বর্তমানে ব্যাংকগুলোতে সুদের হার ১৪ শতাংশ ছাড়িয়ে গেছে। গ্রাহক পর্যায়ে এই ঋণের সুদের হার হবে ৭ শতাংশ, যা বর্তমান বাজার হারের তুলনায় প্রায় অর্ধেক।শিল্পোদ্যোক্তাদের উৎসাহ দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আজ বৃহস্পতিবার রাতে এক প্রজ্ঞাপনে ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত–সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’ নীতিমালা ঘোষণা করে। এর আগে গত ২৩ মে বন্ধ কলকারখানা চালুসহ অর্থনীতি চাঙা করতে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। তারই ধারাবাহিকতায় আজ ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিলের নীতিমালা ঘোষণা করা হয়েছে।

এই নীতিমালা অনুযায়ী, বন্ধ ও আংশিক সচল কারখানা পুরোপুরি চালু করতে একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা চলতি মূলধন ঋণ নিতে পারবে। এতে সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি বসাতে পারবে ব্যাংক। স্কিমের আওতায় ঋণের সদ্ব্যবহারের মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখা কোম্পানি ও ব্যাংক পাবে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা।

মূলত ঝিমিয়ে পড়া অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ জন্য প্রাক্‌-অর্থায়ন তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

এই ঋণ পাবে কারা 

নীতিমালায় বলা হয়েছে, তহবিলের প্রধান লক্ষ্য বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন প্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা করা, যারা প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকা সত্ত্বেও শুধু চলতি মূলধনের অভাবে পূর্ণ ক্ষমতায় উৎপাদন বা সেবা দিতে পারছে না। এই সহায়তার মাধ্যমে রপ্তানি বৃদ্ধি এবং নতুন কর্মসংস্থান তৈরির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। জাতীয় শিল্পনীতি অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ যে প্রতিষ্ঠানগুলো আবার চালু হতে সক্ষম, তারা এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও ঋণ পাবে। কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান যদি বন্ধ থাকা অন্য কোনো প্রতিষ্ঠানকে সচল করার উদ্দেশ্যে অধিগ্রহণ করে বা ইজারা নেয়, তবে তারাও এই সহায়তা পাওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার পাবে। ঋণগ্রহীতাকে অবশ্যই ঋণ তথ্য ব্যুরো (সিআইবি) অনুযায়ী খেলাপি হওয়া যাবে না এবং ইতিপূর্বে অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ অপব্যবহারের কোনো রেকর্ড থাকা চলবে না।

ঋণের নীতিমালা

একটি একক প্রতিষ্ঠান বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর, যা ব্যবহারের ভিত্তিতে নবায়নযোগ্য হতে পারে। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে এই তহবিল থেকে ঋণ পাবে। গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে ৭ শতাংশ। গ্রাহকদের জন্য ৬ মাসের গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা থাকবে, অর্থাৎ প্রথম ৬ মাস পর থেকে সুদের কিস্তি আদায় শুরু হবে।

শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের বেতন-ভাতা পরিশোধে এই অর্থ ব্যবহার করা যাবে। বিদ্যুৎ, গ্যাস ও অন্যান্য পরিষেবা বিল পরিশোধ এবং উৎপাদনের জন্য কাঁচামাল সংগ্রহে ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি তাঁদের ব্যাংক বা মোবাইল ব্যাংকিং সেবার হিসাবে দিতে হবে। কোনোভাবেই নগদ লেনদেন করা যাবে না। এই ঋণ দিয়ে আগের কোনো ঋণের দায় সমন্বয় বা পরিশোধ করা যাবে না।

আদায় ও তদারকি 

নির্ধারিত সময়ে অর্থ পরিশোধে ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের চলতি হিসাব থেকে টাকা কেটে নেবে বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অতিরিক্ত ২ শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ হবে। ঋণের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক থেকে সাপ্তাহিক বিক্রয় বা রাজস্ব রিপোর্ট সংগ্রহ করবে। ব্যাংকের প্রতিনিধিরা প্রতি তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করবেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও যেকোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করে ঋণের ব্যবহার যাচাই করতে পারবে।

গ্রাহকের সব ব্যবসায়িক আয়-ব্যয় একটি নির্দিষ্ট অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সম্পন্ন করতে হবে। শ্রমিকদের বেতন প্রদানের ক্ষেত্রে তাঁদের জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই বাধ্যতামূলক। নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে বড় অবদান রাখা গ্রাহক ও ব্যাংককে রাষ্ট্রীয় সম্মাননা দেওয়া হবে।