img

বিনিয়োগ কমলেও বেড়েছে জিডিপি, মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলার

প্রকাশিত :  ০৯:২৮, ১১ জুন ২০২৬

বিনিয়োগ কমলেও বেড়েছে জিডিপি, মাথাপিছু আয় বেড়ে ৩ হাজার ২০ ডলার

মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি চলতি অর্থবছরে বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। একই সময়ে জিডিপির আকার, মাথাপিছু আয় এবং সেবা ও কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিতে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। তবে বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমেছে। অর্থনীতির প্রধান সূচকগুলোর এই বিপরীতমুখী প্রবণতা সামষ্টিক অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত পরিবর্তন ও সীমাবদ্ধতার একটি জটিল চিত্র তুলে ধরছে।

বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) প্রকাশিত জিডিপির সাময়িক হিসাবে এ তথ্য উঠে আসে।

সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে যেখানে জিডিপি প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৪৯ শতাংশ, সেখানে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে হয়েছে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশ। অর্থাৎ প্রবৃদ্ধিতে শূন্য দশমিক ৬৫ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে চলতি মূল্যে জিডিপির আকার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১ লাখ ২০ হাজার ২০৯ কোটি টাকা, যা ডলারে ৫০১ বিলিয়নের সমান। আগের অর্থবছরে জিডিপির আকার ছিল ৫৫ লাখ ১৫ হাজার ২৬ কোটি টাকা বা ৪৫৬ বিলিয়ন ডলার। এক বছরে জিডিপির আকারে উল্লেখযোগ্য এই বৃদ্ধি অর্থনীতির পরিধি সম্প্রসারণের ইঙ্গিত দেয়।

খাতভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, কৃষি খাত প্রবৃদ্ধির একটি স্থিতিশীল উৎস হিসাবে কাজ করছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কৃষি খাতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ২ দশমিক ৭৮ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ২ দশমিক ৪২ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৩৬ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। খাদ্যশস্য উৎপাদনের ধারাবাহিকতা, গ্রামীণ অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা এবং কৃষিভিত্তিক কার্যক্রমের বিস্তার এই খাতকে ইতিবাচক রেখেছে। অন্যদিকে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। সাময়িক হিসাবে শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ২ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৭১ শতাংশের তুলনায় শূন্য দশমিক ৮৫ শতাংশ পয়েন্ট কম। শিল্প খাতের এই মন্থরতাকে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, জ্বালানি সরবরাহের সীমাবদ্ধতা, আমদানিনির্ভর কাঁচামালের সংকট এবং বেসরকারি বিনিয়োগের ধীরগতির প্রতিফলন হিসাবে দেখা হচ্ছে। শিল্প খাতের এই ধীরগতি সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সেবা খাতে প্রবৃদ্ধি কিছুটা বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ৫৯ শতাংশ, যা আগের অর্থবছরের ৪ দশমিক ৩৫ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ২৪ শতাংশ পয়েন্ট বেশি। অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য, পরিবহণ, ব্যাংকিং ও যোগাযোগ খাতের কার্যক্রমে ধীরে গতি আসার ফলে এই খাতে প্রবৃদ্ধি বেড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে জিডিপির প্রবৃদ্ধি বাড়লেও বিনিয়োগের হার কমেছে। জিডিপির সঙ্গে মোট বিনিয়োগের অনুপাত কমে ২৭ দশমিক ৯৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ২৮ দশমিক ৫৪ শতাংশ। অর্থাৎ এক বছরে বিনিয়োগ অনুপাত কমেছে শূন্য দশমিক ৬১ শতাংশ পয়েন্ট। বিনিয়োগের এই নিম্নগতি ভবিষ্যৎ উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও শিল্পায়নের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। একইসঙ্গে সঞ্চয়ের হারেও পতন দেখা গেছে। দেশজ সঞ্চয় কমে দাঁড়িয়েছে ২১ দশমিক ৩৮ শতাংশে, যা আগের বছরের তুলনায় কম। জাতীয় সঞ্চয়ও কমে ২৬ দশমিক ৯৩ শতাংশে নেমে এসেছে। সঞ্চয়ের এই নিম্নমুখী প্রবণতা বিনিয়োগের জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদের প্রাপ্যতা কমিয়ে দিতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির সক্ষমতাকে সীমিত করে। অন্যদিকে মাথাপিছু আয় বেড়েছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮৭৩ টাকা বা ৩ হাজার ২০ মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরে যা ছিল ৩ লাখ ৩৪ হাজার ৫১১ টাকা বা ২ হাজার ৭৬৯ ডলার। অর্থাৎ এক বছরে মাথাপিছু আয় বেড়েছে ৩৪ হাজার ৩৬২ টাকা। তবে মূল্যস্ফীতির প্রভাব বিবেচনায় প্রকৃত আয় কতটা বেড়েছে, সেটি পৃথকভাবে বিশ্লেষণের দাবি রাখে।

সামগ্রিকভাবে জিডিপি প্রবৃদ্ধি, অর্থনীতির আকার এবং মাথাপিছু আয়ে ঊর্ধ্বগতি দেখা গেলেও বিনিয়োগ ও সঞ্চয়ের হার কমে যাওয়ার প্রবণতা অর্থনীতির ভেতরের কাঠামোগত চাপ ও সীমাবদ্ধতার ইঙ্গিত দিচ্ছে। 

জাতীয় এর আরও খবর

img

সেই মাহদীকে মারধর, ছাত্রদলের বিরুদ্ধে অভিযোগ

প্রকাশিত :  ১২:৪৫, ১১ জুন ২০২৬

ধাওয়া খেয়ে থানায় আশ্রয় নেওয়া হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব ও সাবেক সমন্বয়ক মাহাদী হাসান মারধরের শিকার হয়েছেন।

বৃহস্পতিবার দুপুরে হবিগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে তেকে মাধর করা হয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ মাহদীর।

আগের দিনের ধাওয়ার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতেই বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার দুপুরে মাহদী হাসানের ফেসুক পেজ থেকে লাইভ ভিডিওতে এই হামলা ও মারধরের অভিযোগ করা হয়। ভিডিওতে মাহদীর পাঞ্জাবি ছেঁড়া অবস্থায় দেখা যায়। এছাড়া তাকে কান্না করতে দেখা যায়।

ভিডিওতে একজন অভিযোগ করে বলেন, বুধবার ছাত্রদল নেতাকর্মীরা মাহদীকে ধাওয়া করে। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সিসিটিভি ঢুটেজে এ দৃশ্যধরা পড়েছে। সেই ফুটেজ সংগ্রহের জন্য বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তথ্য অধিকারে আবেদন করেন। এই আবেদন করে বের হওয়ার পরই তাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা করে।

ভিডিওতে জানানো হয়, হামলায় আহত মাহদীকে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।

তবে হামলার কোন অভিযোগ এখন পর্যন্ত পাননি বলে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন।

হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমদ রিঙ্গনের দাবি, ছাত্রদলের কেউ হামলা চালায়নি।

এর আগে বুধবার ছাত্রদলের কর্মীরা ধাওয়া করছে অভিযোগ করে মাহাদী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভ করেন। এ সময় দেখা যায়, তিনি আতঙ্কে কাঁপছেন।

প্রাণ বাঁচাতে আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে রিকশায় করে ছুটছেন হবিগঞ্জ সদর থানার দিকে। লাইভের শেষ দিকে তিনি থানা কমপাউন্ডের ভেতরে ঢুকে পুলিশের কাছে সাহায্যের আবেদন জানান।

বুধবার (১০ জুন) নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে লাইভে এসে তিনি অভিযোগ করেন, ব্যক্তিগত মত প্রকাশের জেরে ছাত্রদলের কিছু নেতাকর্মী তাকে ধাওয়া করে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন এবং প্রাণভয়ে তিনি পুলিশের কাছে গিয়েছেন।

এ সময় তিনি প্রশ্ন তোলেন, ভিন্নমত বা ব্যক্তিগত মতামত দেওয়ার অধিকার তাঁর নেই কি না। প্রাণ রক্ষার্থে তিনি দৌড়ে ও রিকশায় চড়ে হবিগঞ্জ সদর থানায় প্রবেশ করেন এবং ডিউটি অফিসারের রুমে আশ্রয় নেন।

মাহাদী হাসান বলেন, ‘ছাত্রদল আমার ওপর সামনে এসে অ্যাটাক করতে আসতেছে। আমার কি পারসোনাল কোনো মতামত দেওয়ার অধিকার নাই? ছাত্রদলের লোকজন আমার পেছনে ধাওয়া দিচ্ছে। আমার কি পারসোনাল অধিকার নাই?’

লাইভের শেষাংশে তিনি জানান, তিনি থানার ডিউটি অফিসারের কক্ষে অবস্থান করছেন। মাহাদীর দাবি, একটি ড্রাইভিং পরীক্ষায় অংশ নিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। নিরাপত্তা নিয়ে আগেই সংশ্লিষ্টদের অবহিত করেছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

মাহাদী আরও দাবি করেন, তিনি আগে থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকির বিষয়টি জানিয়েছিলেন এবং পরীক্ষা দিতে কোনো সমস্যা হবে না বলে আশ্বাসও পেয়েছিলেন। কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নেয়।

এ বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদ হোসেন বুধবার জানান, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে মাহাদী হাসানের কিছু মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার বিরোধের তথ্য তারা জেনেছেন।

তবে হামলার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যে ভিডিওটি দেখেছি, সেখানে ছাত্রদলের কাউকে শনাক্ত করা যায়নি। মাহাদীও নির্দিষ্ট করে কাউকে দেখাতে পারেননি।’

জাহিদ হোসেন জানান, মাহদী হাসান মৌখিকভাবে অভিযোগ দিয়েছেন এবং বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তবে ভিডিওতে নির্দিষ্ট কোনো হামলাকারীকে শনাক্ত করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

উল্লেখ্য, গত ১ জানুয়ারি হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানায় এনামুল হাসান নয়ন নামে এক তরুণকে আটক করা হলে তিনি সেখানে যান। এ সময় ‘বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু জ্বালাই দিয়েছিলাম’– এমন বক্তব্য দিয়ে হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রকাশ্যে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।

ওইদিনের একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা জুলাই আন্দোলনকারীরা সরকারকে ক্ষমতায় বসিয়েছি। আপনি প্রশাসনের লোক হয়ে আমাদের ছেলেকে গ্রেপ্তার করেছেন। হবিগঞ্জে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্দোলন হয়েছিল, এখানে ১০ জন নিহত হয়েছেন। বানিয়াচং থানা আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে আমরা আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছিলাম। আমাদের এতগুলো ছেলে কি এমনি এমনি ভেসে এসেছে?’

ঘটনাটি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিলে পরদিন ৩ জানুয়ারি পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে সমর্থকদের বিক্ষোভের মুখে ৪ জানুয়ারি আদালত থেকে জামিন পান তিনি।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানের দিন বানিয়াচং থানায় হামলা, অগ্নিসংযোগ ও অস্ত্র লুটের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করা হয়। উদ্ধার অভিযানের সময় উপপরিদর্শক (এসআই) সন্তোষ চৌধুরীকে ছিনিয়ে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন থানার সামনে একটি গাছে তার মরদেহ ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। সেই ঘটনাকে ঘিরেই মাহাদীর জানুয়ারির বক্তব্য নিয়ে তীব্র বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।

জাতীয় এর আরও খবর