img

ইসরায়েলের গণহত্যা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় প্রাণহানি এক হাজারের বেশি

প্রকাশিত :  ১৯:১৪, ১৮ জুন ২০২৬

ইসরায়েলের গণহত্যা: যুদ্ধবিরতির মধ্যেও গাজায় প্রাণহানি এক হাজারের বেশি

গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গাজায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে একটি যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও সহিংসতা পুরোপুরি থামেনি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ওই সমঝোতার পর থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সঙ্গে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় মানবিক সংকট দিন দিন আরও গভীর ও ভয়াবহ আকার ধারণ করছে।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি চুক্তি হওয়ার পর থেকে গাজাজুড়ে ইসরায়েলি হামলায় এক হাজার পাঁচজন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।

যুক্তরাজ্যের দাতব্য প্রতিষ্ঠান মেডিকেল এইড ফর প্যালেস্টানিয়ানসের গাজাবিষয়ক পরিচালক ফিকর শালতুত বলেন, ‘গাজা আরও একটি মর্মান্তিক মাইলফলকে পৌঁছানোয় আমরা শোকাহত। সেখানকার হাজার হাজার মানুষকে বলা হয়েছিল, সবচেয়ে খারাপ সময়টা কেটে গেছে। কিন্তু তাঁরা এখনও তাঁদের প্রিয়জনদের দাফন করছেন।’

যুদ্ধবিরতি গাজায় বড় পরিসরে লড়াই হয়তো থামিয়েছে, কিন্তু এর পরবর্তী স্তরে যেতে দুই পক্ষ এখনও চূড়ান্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি। অথচ এর পরবর্তী পর্যায়ে গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের কথা ছিল। হামাসকে নিরস্ত্রীকরণের কথাও ছিল। এসব অধরা রয়ে গেছে।

অক্টোবরের পর থেকে বিভিন্ন সময় গাজা উপত্যকায় নিজেদের সামরিক উপস্থিতি জানান দিয়েছে ইসরায়েল। হামলা চালানো হয়েছে। বলা হচ্ছে, বর্তমানে গাজা উপত্যকার প্রায় ৬৪ শতাংশ ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে।

গত শুক্রবার পূর্ব গাজা সিটির কয়েক ডজন পরিবারকে বাড়িঘর ছাড়তে বাধ্য করা হয়। জাতিসংঘের অফিস ফর দ্য কো-অর্ডিনেশন অব হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ওসিএইচএ) জানিয়েছে, ইসরায়েলি বাহিনী হলুদ সিমেন্ট ব্লক বসিয়ে পশ্চিম দিকে ‘ইয়েলো লাইন’ আরও বিস্তৃত করার পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির সংখ্যা আরও বেড়েছে।

এ মাসের শুরুর দিকে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য হুসাম বদরান আলজাজিরাকে বলেছিলেন, হামাস এখনই অস্ত্র সমর্পণ করবে না। অন্য ফিলিস্তিনি দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার পরই অস্ত্র ভান্ডারের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা হবে। সেই সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি গাজায় ভঙ্গুর স্বাস্থ্যব্যবস্থার পুনর্গঠন শুরু করার একটি সুযোগ এনে দেবে বলেও আশা করা হয়েছিল। 

জাতিসংঘের মানবিকবিষয়ক সমন্বয় অফিসের (ওসিএইচএ) তথ্য অনুযায়ী, গাজা উপত্যকায় ৩৭টি হাসপাতালের মধ্যে মাত্র ২০টি আংশিক কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। উপত্যকাটিতে বর্তমানে একটি হাসপাতালও পুরোপুরি কার্যক্রম পরিচালনা করার মতো অবস্থায় নেই।

ফিকর শালতুত আরও বলেন, যুদ্ধ চলাকালে বোমাবর্ষণ অব্যাহত ফেলা এবং গাজা প্রায় সম্পূর্ণ অবরোধে ছিল। তিনি বলেন, বিশ্বনেতারা ভেবেছিলেন একটি কাগজের চুক্তি দিয়ে দায়বদ্ধতা, অবরোধ প্রত্যাহার কিংবা ওষুধ পৌঁছানোর প্রয়োজনীয়তা পূরণ করা সম্ভব। তিনি আরও অভিযোগ করেন, এখনও গাজায় প্রবেশ কঠোরভাবে সীমিত এবং সহায়তা ক্ষুধার্ত মানুষের বিরুদ্ধে ব্যবহার করা হচ্ছে, আর আন্তর্জাতিক নীরবতা অব্যাহত রয়েছে।

গাজার সরকারি তথ্য বলছে, ২০২৩ সালের ২৩ অক্টোবর গাজায় সর্বাত্মক যুদ্ধ শুরু করে ইসরায়েল। এর পর থেকে উপত্যকাটিতে ৭৩ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গাজার বেশির ভাগ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। সেখানকার প্রায় ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। 


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দরে বন্দুক হামলা, নিহত ৩৫

প্রকাশিত :  ০৭:৫৫, ১৯ জুন ২০২৬

আফ্রিকার দেশ নাইজারের বৃহত্তম বিমানবন্দর দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে ২২ জন হামলাকারী, ১১ জন সেনাসদস্য এবং দুইজন বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।

নাইজারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানী নিয়ামেতে অবস্থিত বিমানবন্দরটিতে এ হামলা চালানো হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে চার হামলাকারী আহত হয়েছেন এবং ২০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাস্থল ও আটক ব্যক্তিদের কাছ থেকে আরপিজি-৭ রকেটচালিত গ্রেনেড লঞ্চার, একে-৪৭ রাইফেল, বিস্ফোরক, গ্রেনেড, ওয়াকিটকি এবং কয়েক হাজার রাউন্ড গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। হামলার দায় স্বীকার করেছে আল-কায়েদা-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী জামা’য়াত নুসরাত আল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন (জেএনআইএম)। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সংগঠনটি হামলার দায় স্বীকার করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ফজরের নামাজের পরপরই বিমানবন্দর এলাকায় বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। স্থানীয় বাসিন্দা লাওয়ালি সালহা বিবিসিকে বলেন, প্রথমে তারা বিস্ফোরণের শব্দকে কোনো যানবাহনের টায়ার ফেটে যাওয়ার ঘটনা মনে করেছিলেন। পরে টানা গুলির শব্দে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে পারেন।

দিওরি হামানি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর নাইজারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা স্থাপনা। বেসামরিক বিমান চলাচলের পাশাপাশি সেখানে দেশটির সেনাবাহিনীর একটি ঘাঁটিও রয়েছে। এছাড়া সাহেল অঞ্চলের তিন দেশ-নাইজার, মালি ও বুরকিনা ফাসোকে নিয়ে গঠিত অ্যালায়েন্স অব সাহেল স্টেটস (এইএস)-এরও বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে বিমানবন্দরটিতে।

কৌশলগত গুরুত্বের কারণে বিমানবন্দরটিতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু রয়েছে। পুরো এলাকা নজরদারির জন্য ৩৫০টিরও বেশি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, কট্টরপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে লড়াই করছে নাইজারের সরকার ও সেনাবাহিনী। চলতি বছরের জানুয়ারিতেও বিমানবন্দরটিতে হামলা চালিয়েছিল আইএস-সমর্থিত একটি গোষ্ঠী। ওই হামলায় একজন সেনাসদস্য ও ২০ হামলাকারী নিহত হয়েছিলেন। বর্তমানে সামরিক সরকারের অধীনে থাকা নাইজারে হামলার পরপরই জেএনআইএমের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী অভিযান শুরু করেছে নিরাপত্তা বাহিনী।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর