img

ছেলে কুনিয়ার গোল দেখে কাঁদলেন মা

প্রকাশিত :  ১৩:২৮, ২০ জুন ২০২৬

ছেলে কুনিয়ার গোল দেখে কাঁদলেন মা

ফিলাডেলফিয়ার রাতটা মাথিয়াস কুনিয়ার জন্য মনে রাখার মতোই। বিশ্বকাপ ক্যারিয়ারে গোলের খাতা খুলেছেন। তাও একটা নয়, হাইতির বিপক্ষে করেছেন জোড়া গোল। ছেলেকে গোল করতে দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি মা লুজিয়ানা কুনিয়া।

বাংলাদেশ সময় শনিবার সকালে ব্রাজিল-হাইতি ম্যাচ হলেও ফিলাডেলফিয়াতে রাতেই হয়েছে। ২৩ ও ৩৬ মিনিটে ব্রাজিল ২-০ গোলে এগিয়ে যায়। এই দুটি গোলই করেছেন কুনিয়া। ২৭ বছর বয়সী ফরোয়ার্ডের গোলের পর ক্যামেরার লেন্স ঘুরে গিয়েছিল গ্যালারির দিকে। ছেলের গোলের পর আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন মা লুজিয়ানা। সামাজিক মাধ্যমে কুনিয়ার মায়ের কান্নার ঘটনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।

কুনিয়ার জন্য এটা প্রথম বিশ্বকাপ হলেও তিনি খেলতে পারতেন ২০২২ কাতার বিশ্বকাপেই। তৎকালীন কোচ তিতে জাতীয় দলে কুনিয়াকে ডেকেছিলেন ঠিকই। কিন্তু শেষ মুহূর্তে এসে বিশ্বকাপ দল থেকে জায়গা হারিয়েছিলেন কুনিয়া। এমনকি ফিলাডেলফিয়ায় হাইতির বিপক্ষে ম্যাচের আগে ২৪ ম্যাচে মাত্র ১ গোল ছিল।

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের আগের বিবর্ণ পরিসংখ্যানই নয়, মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিষেকে কুনিয়াকে অনেকেই শুরুর একাদশে আশা করেছিলেন। কিন্তু ইগর থিয়াগো সেই ম্যাচে শুরুর একাদশে ছিলেন। শনিবার কুনিয়াকে কোচ কার্লো আনচেলত্তি খেলিয়েছেন শুরুর একাদশেই। জোড়া গোলে কোচের আস্থার প্রতিদান দিয়েছেন ব্রাজিলের এই ‘নাম্বার নাইন’ ফুটবলার। যার মধ্যে মাঝমাঠে হাইতির এক খেলোয়াড়ের পা থেকে দারুণ চতুরতায় বল কেড়ে নিয়ে কুনিয়া আক্রমণের সূচনা করেছেন। সতীর্থদের মধ্যে পাস আনা নেওয়া করে শেষ পর্যন্ত জালে বল জড়ান ২৭ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ড।

কুনিয়ার ৩৬ মিনিটের গোলটাও অসাধারণ। ভিনি জুনিয়রের পাস রিসিভ করে বক্সের মধ্যে ঢুকে ভারসাম্যহীন হয়ে পড়লেও হাল ছাড়েননি কুনিয়া। ব্রাজিলকে তিনি (কুনিয়া) এনে দিলেন দ্বিতীয় গোল। ৪০ মিনিটে চোটে পড়ে রাফিনিয়া মাঠ ছাড়ার আগে যে গোল মিস করেছেন, সেটা দারুণভাবে পুষিয়ে দিয়েছেন দারুণভাবে।

কুনিয়াকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে গোল করেন ভিনিসিয়ুসও। ৪৫ মিনিটের পর অতিরিক্ত ৩ মিনিটে লুকাস পাকেতার অ্যাসিস্টে লক্ষ্যভেদ করেন ভিনি। কুনিয়ার জোড়া গোলের পর ভিনির গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল করতে পারেনি সেলেসাওরা। এমনকি কোনো গোলও হজম করেনি।

হাইতির বিপক্ষে ৩-০ গোলে জয়ের পর ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে এখন ব্রাজিল। দুই ম্যাচে তাদের পয়েন্ট ৪। মরক্কোর পয়েন্ট ৪ হলেও গোল ব্যবধানের কারণে দলটি দুইয়ে। ১৪ জুন নিউজার্সিতে ব্রাজিল-মরক্কো ম্যাচ গোলশূন্য ড্র হয়েছিল। তিন পয়েন্ট নিয়ে তিনে স্কটল্যান্ড। আর দুই ম্যাচের দুটিতে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিল হাইতি।

খেলাধূলা এর আরও খবর

খুলনাকে হারিয়ে প্রথম জয়ের স্বাদ নিল সিলেট

img

ইব্রাহিমোভিচের মতে বিশ্বকাপ জিততে পারে যে দল

প্রকাশিত :  ১৬:০৩, ২০ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপ এলেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা ইংল্যান্ডের মতো ফুটবল পরাশক্তিগুলো। তবে এবার সেই চিরচেনা আলোচনায় ভিন্ন সুর তুলেছেন ফুটবল কিংবদন্তি জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ। তাঁর মতে, এবারের বিশ্বকাপে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রও শিরোপা জয়ের স্বপ্ন দেখতেই পারে।

গ্রুপ ‘ডি’-তে অস্ট্রেলিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে টানা দ্বিতীয় জয় তুলে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এই জয়ে নকআউট পর্বও নিশ্চিত করেছে তারা। আর দলটির এমন পারফরম্যান্সই মুগ্ধ করেছে ইব্রাহিমোভিচকে।

ম্যাচ-পরবর্তী আলোচনায় জ্লাতান বলেন, ‘আগে যদি বিশ্বাস না করে থাকেন, তাহলে এখন বিশ্বাস করতে শুরু করুন। পুরো দেশ তাদের পেছনে আছে। এমন সমর্থন থাকলে কোনো দলকে হারানো কঠিন হয়ে যায়। আজ তারা দারুণ খেলেছে। সত্যি বলতে, অস্ট্রেলিয়া তাদের জন্য কোনো হুমকি হয়ে উঠতে পারেনি।’

শুধু তাই নয়, যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান ছন্দকেও বিশ্বকাপে অনেক দূর যাওয়ার বড় অস্ত্র হিসেবে দেখছেন তিনি।

জ্লাতান আরও বলেন, ‘আমি আগেও বলেছিলাম, বিশ্বকাপের আগে কী হয়েছে সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো এখন কী হচ্ছে। এই মুহূর্তে তাদের যে গতি ও আত্মবিশ্বাস আছে, সেটাই সবচেয়ে বড় বিষয়। ম্যাচ থেকে ম্যাচে এই আত্মবিশ্বাস ধরে রাখতে পারলেই তারা আরও এগিয়ে যাবে।’

তার মতে, বিশ্বকাপের আগে কী হয়েছে তা এখন আর গুরুত্বপূর্ণ নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো টুর্নামেন্টে বর্তমান পারফরম্যান্স। আর সেই জায়গায় যুক্তরাষ্ট্র দারুণ ছন্দে আছে।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথমে আত্মঘাতী গোলে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে অ্যালেক্স ফ্রিম্যানের হেডে ব্যবধান দ্বিগুণ করে স্বাগতিকরা। এর মাধ্যমে ১৯৩০ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচ জয়ের কীর্তিও গড়েছে মার্কিনরা।

ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা বা ইউরোপের বড় দলগুলোর নাম না নিয়ে ইব্রাহিমোভিচের এমন প্রশংসা নতুন করে আলোচনায় এনে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রকে। স্বাগতিকদের এই ছন্দ শেষ পর্যন্ত কত দূর নিয়ে যায়, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।