img

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৯

প্রকাশিত :  ১৩:২৮, ২৫ জুন ২০২৬

সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টা মামলা: একজনের মৃত্যুদণ্ড, খালাস ৯

সুনামগঞ্জ জেলার দিরাইয়ে সাবেক রেলমন্ত্রী সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের জনসভায় গ্রেনেড হামলা ও হত্যাচেষ্টা মামলায় একজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বর্তমান প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর এবং জাতীয় সংসদের হুইপ জি কে গউছসহ ৯ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে।

আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) দুপুরে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক স্বপন কুমার সরকার এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত হলেন হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ। তার বাড়ি সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুরে। সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত হত্যাচেষ্টার মামলা ছাড়াও আজিজ বিভিন্ন বোমা হামলা ও জঙ্গি হামলা মামলার আসামি।

এসব মামলায় তিনি প্রায় ২০ বছর ধরে জেল খাটছেন। আরিফ সুরঞ্জিত সেন হত্যার দায় স্বীকার করে আদালতে ১৪৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছিলেন।

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আবুল হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘মামলার রায়ে আজিজ নাঈম নামের একজনকে মৃত্যুদণ্ড ও বাকিদের খালাস দেওয়া হয়েছে।’

আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘মামলায় মোট ১৩ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়েছিল।

এর মধ্যে তিনজনের আগেই অন্য মামলায় মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। বাকি ১০ জনের মধ্যে ৯ জনকে বেকসুর খালাস দেওয়া হয়েছে। শুধু আসামি হাফিজ সৈয়দ নাঈম আহমেদ আরিফ ওরফে নিমুর বিরুদ্ধে তিনটি ধারায় অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে। পরে আদালত ৩০২ ধারায় তার মৃত্যুদণ্ড ঘোষণা করেন।’

মামলার নথি অনুযায়ী, চলতি বছরের এপ্রিলে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষ হয়।

পরে গত ৭ এপ্রিল ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় আসামিদের বক্তব্য নেওয়া হয়। ওই সময় তারা আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।

রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আজিজ নাঈমের ভাই সৈয়দ মারুফ আহমদ বলেন, ‘আমার ভাইকে ফাঁসানো হয়েছে। সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। আমরা রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করব।’

রায় ঘোষণার পর আদালত চত্বর থেকে কারাগারে নেওয়ার সময় আসামি আজিজ নাঈমকেও ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা যায়। তবে রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন খালাস পাওয়া বিএনপির তিন নেতা।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, ‘রাজনৈতিক হয়রানির জন্য গত ফ্যাসিস্ট সরকার আমাদের এ মামলায় আসামি করে। মামলার এজাহারে আমাদের নাম ছিল না। পরে সম্পূরক চার্জশিটে নাম ঢুকানো হয়। আজকের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’

লুৎফুজ্জামান বাবর বলেন, ‘সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী না দেওয়ায় আমাকে একের পর এক মামলায় ফাঁসানো হয়। আমি দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলাম।। যারা আমাকে হয়রানি ও নির্যাতন করেছে তারা পালিয়েছে। আমরা খালাস পেয়েছি।’

হুইপ জিকে গৌছ বলেন, ‘এই মামলায় আমাকে দেশের বিভিন্ন কারাগারে দীর্ঘদিন বন্দি থাকতে হয়। আজকে রায়ের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলো।’

এর আগে সকালে জামিনে থাকা প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বর্তমান সরকারদলীয় হুইপ জি কে গউছ এবং সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর আদালতে হাজির হন।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ জুন সুনামগঞ্জের দিরাই বাজারে একটি রাজনৈতিক সমাবেশে গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দিচ্ছিলেন সুরঞ্জিত সেনগুপ্ত। হামলায় স্থানীয় যুবলীগের এক কর্মী নিহত হন এবং অন্তত ২৯ জন আহত হন। সুরঞ্জিত সেনগুপ্তও ওই হামলায় আহত হলেও প্রাণে বেঁচে যান।

ঘটনার পর দিরাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) হেলাল উদ্দিন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২২ অক্টোবর মামলায় লুৎফুজ্জামান বাবর, আরিফুল হক চৌধুরী, জি কে গউছসহ ১০ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।

আদালত সূত্র জানা যায়, মামলার বিচারকালে ১২৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। প্রায় দুই দশক ধরে চলা বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে বৃহস্পতিবার এ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়।

সিলেটের খবর এর আরও খবর

img

লাখাইয়ে কিশোরী ধর্ষণের অভিযোগে যুবকের মাথা ন্যাড়া করে পুলিশে সোপর্দ

প্রকাশিত :  ১৫:০৭, ২৫ জুন ২০২৬

হবিগঞ্জ জেলার লাখাই উপজেলায় কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে সুমন মিয়া (৩৪) নামের এক যুবককে আটক করে গণপিটুনি দিয়েছে স্থানীয় লোকজন। পরে তার মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়।

গতকাল বুধবার (২৪ জুন) উপজেলার ভাদিকারা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সুমন মিয়া ওই গ্রামের জিতু মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তিন দিন আগে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এক কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে সুমনের বিরুদ্ধে। ঘটনার পর সামাজিক লজ্জা ও ভয়ের কারণে কিশোরী বিষয়টি পরিবারের কাউকে জানায়নি বলে জানা গেছে।

বুধবার সকালে কিশোরী পরিবারের সদস্যদের কাছে ঘটনার কথা জানালে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে তার গ্রাম থেকে আটক করে। এ সময় তাকে মারধর করা হয়। একপর্যায়ে তার মাথা ন্যাড়া করে গলায় জুতার মালা পরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তাকে লাখাই থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরীফ আহমেদ বলেন, অভিযুক্তকে পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তার বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। একই সঙ্গে ভুক্তভোগী কিশোরীকে প্রয়োজনীয় ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে তদন্ত চলছে। অভিযুক্তের মাথা ন্যাড়া করার বিষয়টিও পুলিশ খতিয়ে দেখছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সিলেটের খবর এর আরও খবর