img

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর

প্রকাশিত :  ০৫:৪০, ২৮ জুন ২০২৬

ধর্ষণ থেকে বাঁচতে প্রতিবন্ধী যুবককে গলা কেটে হত্যা প্রবাসীর স্ত্রীর

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় এনায়েতুর রহমান ওরফে বাহার (৩৫) নামে এক যুবককে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে প্রতিবেশী এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। প্রাথমিকভাবে ওই নারীর দাবি, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন এবং আত্মরক্ষার জন্যই তিনি এ ঘটনা ঘটিয়েছেন।

গতকাল শনিবার (২৭ জুন) সকাল আটটার দিকে উপজেলার একটি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

লালমাই থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. নুরুজ্জামান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত এনায়েতুর রহমান ও প্রবাসী সুমন চৌধুরীর বাড়ি পাশাপাশি। কয়েক বছর আগে দুই পরিবারের মধ্যে সীমানাপ্রাচীর নির্মাণকে কেন্দ্র করে বিরোধের সৃষ্টি হয়। প্রায় এক মাস আগে ছুটিতে দেশে এসে সুমন চৌধুরী তার স্ত্রীর প্রতি এনায়েতুর রহমানের অসদাচরণের অভিযোগ তুলেছিলেন। তবে এনায়েতুর রহমান কিছুটা শারীরিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়। চার দিন আগে সুমন আবার কর্মস্থলে চলে যান।

এ বিষয়ে নিহত এনায়েতুর রহমানের মা নেহারা বেগম জানান, তার ছেলে শারীরিক প্রতিবন্ধী ছিলেন। দুই হাতের কবজি ও আঙুল কার্যকর না থাকায় স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারতেন না। 

এসময় সকালে প্রতিবেশী নারী ঘরে ডেকে নিয়ে তার ছেলেকে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান তিনি।

ওসি বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আটক নারী প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দাবি করেছেন, এনায়েতুর রহমান তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করেছিলেন। আত্মরক্ষার্থেই তিনি তাকে হত্যা করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

ভাঙ্গায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, অর্ধশতাধিক আহত

প্রকাশিত :  ০৬:০১, ২৮ জুন ২০২৬

আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায়  দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুলিশ সদস্য, সাংবাদিক, রাজনৈতিক নেতাসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের কারণে ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে প্রায় তিন ঘণ্টা যান চলাচল বন্ধ থাকায় উভয় পাশে কয়েক হাজার যানবাহন আটকা পড়ে এবং চরম ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।

আজ রোববার (২৮ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার হামিরদী ও মানিকদাহ ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত দফায় দফায় সংঘর্ষ চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলেও শুরুতে সফল হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শী ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের দুই পাশে হাজারো গ্রামবাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। এ ঘটনায় পুলিশের সার্কেল কর্মকর্তা, ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), একাধিক পুলিশ সদস্য, উপজেলা বিএনপির সভাপতি খন্দকার ইকবাল হোসেন সেলিম, সাংবাদিকসহ অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

ভাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুকুরিয়া বাসস্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে মানিকদাহ ইউনিয়নের সুলতান মাতুব্বরের সমর্থক এবং হামিরদী ইউনিয়নের সিরু মোল্লার সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে একাধিক টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি।

তিনি আরও জানান, অতিরিক্ত পুলিশ সদস্যের জন্য জেলা সদরকে অবহিত করা হয়েছে। অতিরিক্ত পুলিশ পৌঁছানোর পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। একই সঙ্গে মহাসড়কের দুই পাশে আটকা পড়া হাজারো যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।