img

খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজায় রেকর্ড উপস্থিতির আশা

প্রকাশিত :  ০৭:৫৮, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৮:১১, ০৩ জুলাই ২০২৬

খামেনির মরদেহ তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায়, জানাজায় রেকর্ড উপস্থিতির আশা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় নিহত ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মরদেহ রাজধানী তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লা মসজিদে নেওয়া হয়েছে। টানা ৩৬ বছরেরও বেশি সময় দেশটির সর্বোচ্চ নেতার দায়িত্ব পালন করা খামেনির জানাজায় প্রায় দুই কোটি মানুষের সমাগম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এমনটি হলে এটি হবে ইরানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজার আয়োজন। শুক্রবার (৩ জুলাই) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।

এতে বলা হয়েছে, জানাজার পর খামেনির মরদেহ তার নিজ শহর মাশহাদের ইমাম রেজা মাজারে দাফন করার পরিকল্পনা রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর সময় ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় খামেনি পরিবারের বেশ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে তিনি নিহত হয়েছিলেন।

এদিকে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা ও নিজের বাবা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজার নামাজ পড়ানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে নিরাপত্তাবাহিনী তাকে এ বিষয়ে অনুমতি দেয়নি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভারতে নিযুক্ত সুপ্রিম লিডারের প্রতিনিধি হাকিম ইলাহী ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডেকে এ তথ্য জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে আসতে চেয়েছিলেন মোজতবা। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী জানিয়েছে, এটি তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হবে।

হাকিম ইলাহী বলেন, গত সপ্তাহে আমি ইরানে ছিলাম এবং কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে দেখা করেছি, যারা মোজতবা খামেনির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তিনি তাদের বলেছেন, তিনি প্রকাশ্যে আসতে চান। এমনকি তিনি জানাজার নামাজও পড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু নিরাপত্তাবাহিনী তাকে এতে সমর্থন জানায়নি।

তিনি আরও বলেন, নিরাপত্তাবাহিনী বলেছে, এটি তার জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক হবে এবং তারা তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না। তাই আমার মনে হয়, তিনি প্রকাশ্যে আসবেন না।

আলি খামেনির জানাজার নামাজ পড়ানোর জন্য মোজতবা কাউকে মনোনীত করেছেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হাকিম ইলাহী বলেন, না, তিনি কারও নাম বলেননি। পরিস্থিতি অনুকূল থাকলে নতুন সর্বোচ্চ নেতাই জানাজার নামাজ পড়াতেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে পরিস্থিতি এখন অনুকূলে নেই।

সূত্র: আল জাজিরা 

img

বৈঠকে বসেছেন ইরান-বাংলাদেশের স্পিকার

প্রকাশিত :  ১৩:০৭, ০৩ জুলাই ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ১৩:১০, ০৩ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। শুক্রবার তেহরানে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বর্তমানে তেহরান সফর করছেন স্পিকার।

বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, আঞ্চলিক শান্তি এবং সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় স্পিকার গালিবাফ রাষ্ট্রীয় জানাজায় অংশ নিতে বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের তেহরান সফরকে স্বাগত জানান এবং তাদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।

বাংলাদেশের স্পিকার আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা জানান। তিনি খামেনির হত্যাকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে বলেন, জাতীয় শোকের এই সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও দেশের জনগণ ইরানের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বাংলাদেশ ও ইরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, সাংস্কৃতিক যোগাযোগ এবং জনগণের পারস্পরিক বন্ধনের কথাও তুলে ধরেন।

বৈঠকে তিনি সম্প্রতি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে স্বাক্ষরিত শান্তি বিষয়ক সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বাস্তবায়নে স্পিকার গালিবাফের ভূমিকার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা ইরান এবং পুরো অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি, স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধি প্রতিষ্ঠায় সহায়ক হবে।

বাংলাদেশ চলমান শান্তি প্রক্রিয়ার প্রতি সমর্থন অব্যাহত রাখবে উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, সংলাপ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো বাকি সমস্যাগুলোরও স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাবে বলে বাংলাদেশ আশা করে।

এ সময় তিনি ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফকে সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

এর আগে, রাষ্ট্রীয় জানাজায় বাংলাদেশ প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দিতে বৃহস্পতিবার তেহরানে পৌঁছান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। বিমানবন্দরে তাকে এবং প্রতিনিধি দলকে ইরানের ইসলামিক কনসালটেটিভ অ্যাসেম্বলির ডেপুটি স্পিকার হামিদ রেজা হাজি বাবাই স্বাগত জানান।

আন্তর্জাতিক এর আরও খবর