img

চট্টগ্রামে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

প্রকাশিত :  ১৯:৫২, ১০ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামে ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি, ৭ উপজেলায় সেনা মোতায়েন

চট্টগ্রামে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সৃষ্ট আকস্মিক বন্যায় অন্তত ৪ লাখ মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার-এর আওতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জেলার সাতটি উপজেলায় মোতায়েন করা হয়েছে।

শুক্রবার (১০ জুলাই) রাতে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তরের (আইএসপিআর) পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের জরুরি অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১০ পদাতিক ডিভিশন ও ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সদস্যরা বন্যাদুর্গত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া, সাতকানিয়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালী উপজেলা ব্যাপকভাবে প্লাবিত হয়েছে। এতে এসব এলাকার প্রায় ৪ লাখ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন এবং পানিবন্দি হয়ে আছেন। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১০ পদাতিক ডিভিশনের উদ্ধারকারী দল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম দ্রুত দুর্গত এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে।

এদিকে, ভারী বর্ষণের কারণে বোয়ালখালী, হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি উপজেলাতেও ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। এসব এলাকায় জরুরি উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য ২৪ পদাতিক ডিভিশনের সেনাসদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, দুর্গত এলাকায় আটকে পড়া মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে ২৪ পদাতিক ডিভিশন ইতোমধ্যে বন্যাকবলিত এলাকায় তিনটি ক্যাম্প স্থাপন করেছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেসামরিক প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে সাধারণ মানুষের জানমাল রক্ষায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। দুর্গত এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত সেনাবাহিনীর উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

এই দুঃসাহস তাদের হওয়ার কথা ছিল না, এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: তাজুল ইসলাম

প্রকাশিত :  ২০:১২, ১১ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তার ভাষ্য, যাদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা এখন প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সময়সূচি ঘোষণা করছে এবং তাদের সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন এ কথা বললেন তাজুল ইসলাম।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ ‘অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, দিল্লি থেকে দিনক্ষণ জানিয়ে দেশে আসার ঘোষণা দেওয়া স্বৈরাচারদের জন্য আমরা বিশেষ দড়ির মালা নিয়ে প্রস্তুত আছি। 

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন। 

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলা। জুলাই সনদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নয়, আওয়ামী লীগকেও এখন আর মানুষ গ্রহণ করবে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জুলাই শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি প্রমুখ।

জাতীয় এর আরও খবর