img

দুর্যোগে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির নিরলস প্রয়াস: নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

প্রকাশিত :  ১৭:৪৬, ১১ জুলাই ২০২৬

দুর্যোগে জনদুর্ভোগ লাঘবে বিজিবির নিরলস প্রয়াস: নাইক্ষ্যংছড়িতে ঝুঁকিপূর্ণ সেতু রক্ষায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা

টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল ও ভূমিক্ষয়ের কারণে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জনদুর্ভোগ বৃদ্ধি পেয়েছে। এ অবস্থায় জনসাধারণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং  জনদুর্ভোগ লাঘবে তাৎক্ষণিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ শনিবার বিকেল ০৩টার দিকে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর অধীনস্থ আদর্শগ্রাম চেকপোস্ট থেকে প্রায় ১০০ মিটার পশ্চিমে অবস্থিত স্টিলের সেতুর পশ্চিম পাশের মাটি ধসে যাওয়ায় সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। বিষয়টি জানতে পেরে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সার্বিক পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন এবং সেতুটি রক্ষায় জরুরি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক বিজিবি সদস্যকে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদিসহ ঘটনাস্থলে প্রেরণ করেন। অধিনায়কের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে প্রবল বর্ষণ উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা বালুভর্তি বস্তা দিয়ে ক্ষয়প্রাপ্ত অংশে অস্থায়ী প্রতিরোধব্যবস্থা গড়ে তোলেন এবং পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেতুটিকে সম্পূর্ণ নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এখনো চলমান রয়েছে।

একই সঙ্গে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনসাধারণের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা প্রদান অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির বলেন,

“সীমান্ত সুরক্ষা, চোরাচালান ও মানবপাচার প্রতিরোধ, অবৈধ অনুপ্রবেশ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দুর্যোগকবলিত মানুষের জীবন ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদান বিজিবির অন্যতম দায়িত্ব। জনগণের যেকোনো দুর্যোগ ও সংকটে পাশে থেকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণে বিজিবি সর্বদা প্রস্তুত ও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।” সীমান্তের অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতিতে জনগণের জীবন, সম্পদ এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো রক্ষায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিষ্ঠা, পেশাদারিত্ব ও মানবিক দায়বদ্ধতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণে বিজিবির এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। -প্রেস বিজ্ঞপ্তি


(বার্তা প্রেরক:
লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোঃ ফয়জুল কবির
অধিনায়ক
নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)

জাতীয় এর আরও খবর

img

এই দুঃসাহস তাদের হওয়ার কথা ছিল না, এটি রাষ্ট্রের ব্যর্থতা: তাজুল ইসলাম

প্রকাশিত :  ২০:১২, ১১ জুলাই ২০২৬

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বলেছেন, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত রাজনৈতিক শক্তিগুলোর দেশে ফেরার ঘোষণা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের ক্রমবর্ধমান সক্রিয়তা রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতারই প্রতিফলন। তার ভাষ্য, যাদের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল, তারা এখন প্রকাশ্যে দেশে ফেরার সময়সূচি ঘোষণা করছে এবং তাদের সমর্থকরাও সামাজিক মাধ্যমে সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এমন পরিস্থিতি তৈরি হওয়া উচিত ছিল না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

জুলাই অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের নিয়ে দেশে ফেরার ঘোষণা দেওয়ার পরদিন এ কথা বললেন তাজুল ইসলাম।

আজ শনিবার (১১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের বিশেষ ‘অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রকাশনা সিরিজ’ অনুষ্ঠানে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে তিনি এসব কথা বলেন। তাজুল ইসলাম বলেন, দিল্লি থেকে দিনক্ষণ জানিয়ে দেশে আসার ঘোষণা দেওয়া স্বৈরাচারদের জন্য আমরা বিশেষ দড়ির মালা নিয়ে প্রস্তুত আছি। 

তিনি আরও বলেন, ইতিহাসের এই বীরত্বগাথাকে অমর করে রাখতে এবং শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে জুলাইয়ের ওপর ভিত্তি করে মানসম্মত সিনেমা নির্মাণ করা প্রয়োজন। 

অনুষ্ঠানে জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের রক্তের ঋণ পরিশোধের অন্যতম উপায় হলো জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং একটি ন্যায়ভিত্তিক, বৈষম্যহীন দেশ গড়ে তোলা। জুলাই সনদের দ্রুত ও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের পাশাপাশি শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধাদের যথাযথ পুনর্বাসনে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, শুধু শেখ হাসিনা নয়, আওয়ামী লীগকেও এখন আর মানুষ গ্রহণ করবে না। কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে তদন্ত চলছে। খুব শিগগিরই আওয়ামী লীগকে দল হিসেবে বিচারের মুখোমুখি করা হবে। জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে প্রয়োজনে ট্রাইব্যুনালের সংখ্যা আরও বাড়ানো হবে।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন, জুলাই শহীদ জাবের ইব্রাহিমের মা রোকেয়া বেগম এমপি প্রমুখ।

জাতীয় এর আরও খবর