img

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, কী আছে সেখানে

প্রকাশিত :  ১১:৪৪, ১৪ জুলাই ২০২৬

ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংসের হুমকি ট্রাম্পের, কী আছে সেখানে

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ ধ্বংস করে দেবে বলে হুমকি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে তিনি তেহরানকে সতর্ক করে বলেছেন, ওয়াশিংটন দেশটির ওপর সামনের দিনগুলোতে আরও জোরালো আঘাত হানবে।

আমেরিকান টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘দ্য হিউ হিউইট শো’-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ধ্বংস করতে যাচ্ছি। ইরানিদের প্রস্তুত থাকতে বলুন।’

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘আমরা (পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন) গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। সেখানে আমরা কোনো তৎপরতা দেখতে পাচ্ছি না। পারমাণবিক পরিস্থিতি নিয়ে তারা খুব একটা ভালো অবস্থানে নেই। আমরা যখনই এ বিষয়ে কিছু জানতে পারি, তখনই তা উড়িয়ে দিই। তাই তারা এ নিয়ে কথা বলতে পছন্দ করে না। তবে আমরা সম্ভবত খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্স-এ একটি বড় আঘাত হানব।’

‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন’ মূলত একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত সামরিক ঘাঁটি। এটি নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্রের কাছে অবস্থিত। এর ভেতরে মাটির গভীরে দুটি টানেল কমপ্লেক্স বা সুড়ঙ্গ আছে। যা যুক্তরাষ্ট্রের বাঙ্কার ব্লাস্টার বোমার নাগালের বাইরে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।

ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার পর যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় এলাকায় ইরানি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর ফের অবরোধ আরোপ করতে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট ফি’র বিনিময়ে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত রাখা হবে।

‘হিউ হিউইট শো’-তে সোমবার ট্রাম্প বলেন, ‘আজ রাতে আমরা তাদের ওপর খুব শক্ত আঘাত হানতে যাচ্ছি এবং আগামীকালও তাদের ওপর তীব্র হামলা চালানো হবে। আর এটি ঠেকানোর মতো ক্ষমতা তাদের নেই।’


আন্তর্জাতিক এর আরও খবর

img

হরমুজ প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অর্থ পাবে: ট্রাম্প

প্রকাশিত :  ১৫:৪৪, ১৩ জুলাই ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বলেছেন, প্রণালি পাহারা দেওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্র অর্থ পাবে।

সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ট্রাম্প বলেন, ওয়াশিংটন এই প্রণালির অভিভাবক হতে যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র এত দিন বিনা পয়সায় এটি পাহারা দিয়ে আসছিল। এখন ধনী দেশগুলোর কাছে থেকে এর ক্ষতিপূরণ বা খরচ তুলে নেওয়া হবে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘এটি পাহারা দেওয়ার জন্য আমরা মূল্য পাব, অনেক অর্থ। তবে এই অর্থ নেওয়া হবে শুধু নিজেদের লোককে ঝুঁকিতে ফেলার বিনিময় হিসেবে।’

গত এপ্রিল মাসে যুদ্ধবিরতি শুরুর পর সোমবার সবচেয়ে ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলার সাক্ষী হয়েছে মধ্যপ্রাচ্য। এমন সময়ে ট্রাম্প হরমুজের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মন্তব্য করলেন। নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় বর্তমানে প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ আছে।

সোমবারের সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প ইরানি আলোচকদের কৌশল নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আলোচনায় যেসব বিষয়ে সমঝোতা হয়েছিল, ইরানিরা সেগুলোতে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

বিস্তারিত ব্যাখ্যা না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ নিচ্ছি। তাদের কাছে কিছু নেই, তারা কিছুই পায়নি। গতকাল তাদের ১১ ঘণ্টার একটি বৈঠক ছিল। সবকিছুতেই সম্মত হয়েছিল। কিন্তু তারা কক্ষ থেকে বের হয়ে যাওয়ার পর আবার ফোন করে জানায়, দু-একটি বিষয় পরিবর্তন করতে হবে।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, যতবারই অপরপক্ষ তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়েছে, তেহরানও ততবার অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। তা সত্ত্বেও উত্তেজনা কমাতে কাতার, ওমান ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।