img

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশিত :  ০৭:৪৩, ২৬ জুলাই ২০২৬

বিদায়ী রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে মামলা হবে কি না জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সদ্য বিদায়ী রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, সংবিধান ও বিদ্যমান আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আগামী ছয় মাস নিরাপত্তাসহ প্রাপ্য সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবেন মো. সাহাবুদ্দিন।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদানের বিষয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে এমনটা জানান তিনি।

সাবেক রাষ্ট্রপতিকে গ্রেপ্তারের দাবির বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, স্বৈরাচারের শেষদিকে ও অন্তর্বর্তী সরকারের পুরো সময় এবং বর্তমান সরকারের প্রায় ৬ মাস সময়ে সাংবিধানিকভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন। বিধি-বিধান অনুযায়ী তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছেন। আমরা রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা পেয়েছি।

সেই সময়টায় সংবিধান অনুসারে তিনি প্রিভিলেজড ছিলেন, তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধ কিংবা এ বিষয়ে আদালতে কোনো মামলা করা যায় না। এর বহির্ভূত কোনো সময়ে যদি কেউ কোনো বক্তব্য দিয়ে থাকে, সেটিতে তাদের স্বাধীনতা আছে। তবে আমরা আমলে নেয়ার মতো কোনো বিষয় এখানে দেখিনি।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যারা তার বিরুদ্ধে বক্তব্য দিচ্ছে, তাদের সেটির অধিকার আছে। গণঅভ্যুত্থানের পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রত্যাশা ছিল- মানুষের কথা বলার স্বাধীনতা থাকবে, সেটা আছে। এনসিপিসহ বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে কিছু অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে। তবে আমলে নেয়ার মতো কোনো বক্তব্য সেখানে নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি হিসেবে আইন অনুযায়ী সব সুবিধা পাবেন মো. সাহাবুদ্দিন এবং তার প্রটেকশনের জন্য এসএসএফ ও পিজিআরসহ ৬ মাসের একটি বিধান আছে। এ ছাড়াও পুলিশ ও অন্যান্য সংস্থা থেকে তার নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আইন অনুযায়ী যেসব সুবিধা রয়েছে, তার সব সুবিধা তিনি পাবেন।


জাতীয় এর আরও খবর

img

সাবেক রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ সরকার পর্যালোচনা করছে

প্রকাশিত :  ১৩:২৯, ২৬ জুলাই ২০২৬

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে দুদকের চেয়ারম্যান ও ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক থাকাকালে ওঠা বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ সরকার গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করছে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেন, তদন্ত শেষ হলে জনস্বার্থ বিবেচনায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।

আইনমন্ত্রী বলেন, সরকার কোনো ব্যক্তির প্রতি অবিচার করতে চায় না। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই চলছে। তদন্তে অভিযোগের প্রমাণ মিললে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সংবিধানের বিধান অনুযায়ীই পরবর্তী কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ বিষয়ে সরকার সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই অনুসরণ করবে।

অনুষ্ঠানে তিনি দাবি করেন, গত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে ২৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।

জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠিয়ে দ্রুত নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান আইনমন্ত্রী। পাশাপাশি তিনি দাবি করেন, বর্তমানে মিথ্যা মামলার প্রবণতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে।

নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আইন পেশায় সফল হওয়ার কোনো সহজ পথ নেই। নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মানসিকতা নিয়েই এগিয়ে যেতে হবে। একইসঙ্গে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি, তা নিজের রাজনৈতিক দলের কেউ হলেও।

চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রায় এক হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে আইনজীবীদের পেশাগত নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

জাতীয় এর আরও খবর