img

হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত :  ১১:০৮, ০৫ আগষ্ট ২০২৬

হাম ও হামের উপসর্গে আরো ৫ শিশুর মৃত্যু

হাম ও হামের উপসর্গে  সারা দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরো পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নতুন করে ১২৪ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে এবং সন্দেহজনক হাম রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৯৫৯ জন।

আজ বুধবার (৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর প্রকাশিত স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, ৪ আগস্ট সকাল ৮টা থেকে ৫ আগস্ট সকাল ৮টা পর্যন্ত এই হিসাব করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হাম উপসর্গে মারা যাওয়া পাঁচজনই ঢাকা বিভাগের বাসিন্দা। তবে এ সময়ে পরীক্ষায় কারো হামজনিত মৃত্যু নিশ্চিত হয়নি।

চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম উপসর্গে মোট ৭৫৮ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পরীক্ষায় নিশ্চিত হামে মারা গেছেন ৯৬ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ১২৪ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশে মোট নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৬৫৫ জন।

একই সময়ে সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৩২ হাজার ৯০৫ জন। 

এদিকে গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত ১২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ১ লাখ ১১ হাজার ৫ জন।

বিভাগভিত্তিক হিসাবে গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত হয়েছে ঢাকা বিভাগে, যেখানে রোগীর সংখ্যা ৩৯৪।

এ ছাড়া চট্টগ্রামে ১৯৪, সিলেটে ১১৯, বরিশালে ১১৪, খুলনায় ৬০, ময়মনসিংহে ৩৭, রাজশাহীতে ৩১ এবং রংপুরে ১০ জন সন্দেহজনক রোগী শনাক্ত হয়েছেন।


img

দিল্লিতে শেখ হাসিনাকে কথা বলতে দেওয়ায় ঢাকার তীব্র ক্ষোভ

প্রকাশিত :  ১৮:৪৭, ০৫ আগষ্ট ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের প্রক্রিয়ায় এ ধরনের আয়োজন নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে—এ মর্মে বাংলাদেশ আগে থেকেই ভারত সরকারকে উদ্বেগের কথা জানিয়েছিল। সেই উদ্বেগ উপেক্ষা করে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হওয়ায় গভীর অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

আজ বুধবার রাতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ অবস্থানের কথা জানায় সরকার। 

জুলাই অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগের সরকার পতনের দ্বিতীয় বার্ষকীতে বুধবার বিকেলে দিল্লিতে দক্ষিণ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি সাউথ এশিয়া) আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে পলাতক ও দণ্ডিত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া হয়। সেখানে তিনি এবং তার কয়েকজন অনুসারী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্‌গার করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, জুলাই বিপ্লবের দ্বিতীয় বার্ষিকী পালনের দিনে ভারতের মাটিতে শেখ হাসিনার এই মতবিনিময় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রতি অবমাননা এবং জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি গুরুতর অপমান।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে সমুন্নত রেখে দেশের জনগণ দৃঢ় সংকল্প নিয়েছে যে, জাতি আর কখনও ফ্যাসিবাদের অন্ধকার দিনগুলোতে ফিরে যাবে না। বাংলাদেশ কখনোই কোনো পরনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হবে না। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আর কোনো স্থান হবে না। সাজাপ্রাপ্ত গণহত্যাকারী শেখ হাসিনা ও তার মাফিয়া প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশের রাজনীতিতে কখনও স্থান পাবে না।  

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে শিশুদেরসহ নিরীহ বেসামরিক নাগরিকদের হত্যাকাণ্ড নিয়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠিত তথ্য অস্বীকার করা ইতিহাসের গতিপথ উল্টে দেওয়ার একটি ব্যর্থ চেষ্টা। শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীরা এ ধরনের অপচেষ্টা চালাচ্ছেন। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের জনগণ অতীতেও এ ধরনের প্রচেষ্টা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং এখনো তা-ই করছে। এতে বলা হয়, সার্বভৌম সমতা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, একে অপরের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করা এবং জাতীয় মর্যাদার ভিত্তিতে ভারতের সঙ্গে একটি গঠনমূলক, পারস্পরিক লাভজনক ও ভবিষ্যতমুখী সম্পর্ক বজায় রাখতে বাংলাদেশ আগ্রহী।

একই সঙ্গে ২০১৩ সালের বাংলাদেশ–ভারত প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভারত সরকারের কাছে বারবার অনুরোধ জানানো হলেও এখনো কোনো জবাব পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য, যেকোনো অজুহাতে তাকে গণমাধ্যমের সঙ্গে প্রকাশ্যে মতবিনিময়ের সুযোগ দেওয়া বাংলাদেশের জনগণের অনুভূতিতে গভীর আঘাত দিয়েছে এবং বাংলাদেশ–ভারতের সৌহার্দ্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বিকাশের জন্য ক্ষতিকর।