img

দুই দেশের সম্পর্ক মজবুতে মোদির নির্দেশনা চাইলেন দীনেশ ত্রিবেদী

প্রকাশিত :  ১৮:০০, ১১ আগষ্ট ২০২৬

ঢাকায় বৈঠকের পর দিল্লি সফর

দুই দেশের সম্পর্ক মজবুতে মোদির নির্দেশনা চাইলেন দীনেশ ত্রিবেদী

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

বাংলাদেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের চলমান টানাপোড়েন এবং বিভিন্ন অমীমাংসিত ইস্যু নিয়ে গত দুই দিনে ঢাকার শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিনিধিদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এসব বৈঠকের পরপরই তিনি দিল্লি সফরে গিয়ে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।

সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি, দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন ইস্যু এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) অনুষ্ঠিত এই সাক্ষাতে দীনেশ ত্রিবেদী দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বহুমুখী ও দীর্ঘস্থায়ী বন্ধনকে আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্দেশনা ও পরামর্শ গ্রহণ করেন। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, দুদেশের জনগণের স্বার্থকে কেন্দ্র করে গঠনমূলকভাবে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

এর আগে গত দুই দিনে ঢাকায় উচ্চপর্যায়ের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন দীনেশ ত্রিবেদী। সোমবার তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে পৃথক সাক্ষাৎ করেন। তার আগের দিন রোববার পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে তার দীর্ঘ রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। উল্লেখ্য, ঢাকায় আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব গ্রহণের দেড় মাসের মাথায় সোমবার প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পান তিনি।

এমন এক সময়ে ভারতীয় হাইকমিশনার দিল্লি সফরে গেলেন, যখন মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলার সুযোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে ঢাকার পক্ষ থেকে তীব্র অসন্তোষ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, শেখ হাসিনাকে দ্রুত প্রত্যর্পণের জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে। পাশাপাশি ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্তদেরও ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা।

বর্তমানে দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের কারণে আগামী সেপ্টেম্বরে দিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে দ্বিপাক্ষিক সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও বাংলাদেশ সরকার এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল মঙ্গলবার সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলনে নিশ্চিত করেছেন যে, আমন্ত্রণপত্রটি ইতিমধ্যে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশে ভারতের ১৬তম হাইকমিশনার হিসেবে গত এপ্রিলে নিয়োগ পান ভারতের সাবেক কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ দীনেশ ত্রিবেদী। দুদেশের সম্পর্কের ইতিহাসে এই প্রথম ভারত কোনো সাবেক মন্ত্রী বা রাজনীতিবিদকে হাইকমিশনার হিসেবে বাংলাদেশে পাঠিয়েছে। গত ৫ জুন স্থলসীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের পর ২৫ জুন তিনি পরিচয়পত্র পেশ করেন। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একজন অভিজ্ঞ রাজনীতিককে হাইকমিশনার করে পাঠানো দুদেশের বর্তমান নাজুক পরিস্থিতি মোকাবিলায় ভারতের একটি কৌশলগত পদক্ষেপ। দীনেশ ত্রিবেদীর বর্তমান দিল্লি সফর ও মোদির সঙ্গে বৈঠকটি ঢাকা-দিল্লি সম্পর্কের আগামী দিনের রূপরেখা নির্ধারণে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতীয় এর আরও খবর

img

কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

প্রকাশিত :  ১১:০৩, ১২ আগষ্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপের অডিও উপস্থাপন করা হয়। ওই কথোপকথনে যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, “কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা.....কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।


জাতীয় এর আরও খবর