img

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, জাহাজ অচল

প্রকাশিত :  ০৬:১০, ১২ আগষ্ট ২০২৬

হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন হামলা, জাহাজ অচল

হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, জাহাজটি যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘন করে ওমান উপসাগর থেকে ইরানের বন্দরগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছিল।

এ কারণে মার্কিন সামরিক বাহিনী জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন। ঘটনাটি ঘিরে হরমুজ প্রণালিতে চলমান উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের যুদ্ধের মধ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতিতে এ হামলা হয়েছে। গত জুলাইয়ে ১৩ দিনের উত্তেজনার পর থেকে হামলা মূলত বন্ধ রয়েছে। এর আগে জুন মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে সেটিও ভেঙে পড়ে।

মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক কার্যক্রম তদারককারী সংস্থা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নৌবাহিনীর একটি হেলিকপ্টার পানামার পতাকাবাহী ‘ভেলা নোভা’ কার্গো জাহাজটিতে দুটি হেলফায়ার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে।

সেন্টকমের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, জাহাজটি ওমান উপসাগর অতিক্রম করে একটি ইরানি বন্দরের দিকে যাওয়ার এবং দেশটির বিরুদ্ধে আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের চেষ্টা করছিল।

সেন্টকম জানিয়েছে, হামলাটি জাহাজটির ইঞ্জিন রুম লক্ষ্য করে চালানো হয়। এতে জাহাজটি অচল হয়ে পড়ে। মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, নাবিকেরা তাদের দেওয়া একাধিক সতর্কবার্তা উপেক্ষা করেছিলেন।

হামলায় কোনো নাবিক আহত হয়েছেন কি না, তা জানানো হয়নি। মঙ্গলবার দেওয়া এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানিয়েছে, ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ চলাকালে মার্কিন বাহিনী ৫৫টি বাণিজ্যিক জাহাজ অচল করেছে এবং দুটি জাহাজ জব্দ করেছে।

সাম্প্রতিক সংঘাত পুনরায় শুরু হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় আরোপ করেছে এবং ইরান হরমুজ প্রণালিতে আবারও নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে।

গত জুনের সমঝোতা স্মারকের অংশ হিসেবে এই দুটি শর্তই তুলে নেওয়া হয়েছিল। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল দীর্ঘস্থায়ী শান্তির লক্ষ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু করা এবং ইরান ও দেশটির পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করা।

অঞ্চলের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ বাব এল-মান্দেব প্রণালিতে ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিদের জাহাজে হামলার কারণে সর্বশেষ দফার সংঘাত আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

সূত্র : আল জাজিরা 

জাতীয় এর আরও খবর

img

কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন: পরশকে কাদের

প্রকাশিত :  ১১:০৩, ১২ আগষ্ট ২০২৬

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত আসামির বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক চলাকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি ফোনালাপের অডিও উপস্থাপন করা হয়। ওই কথোপকথনে যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশকে উদ্দেশ করে ওবায়দুল কাদেরকে বলতে শোনা যায়, “কাকা, তুমি খালি বাইরে বাইরে থাকলে কেন?”

মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ উপস্থাপিত ফোনালাপটিতে এরপর ওবায়দুল কাদেরকে শেখ পরশ বলেন, না, আমি আছি তো। আমি বাইরে থাকলেও সার্বক্ষণিক প্রতিটা ঘণ্টায় আমি আপনাদের সঙ্গে আছি।

এরপর ওবায়দুল কাদের পরশের বাইরে থাকা নিয়ে ইতস্তত করলে পরশ বলেন, আপনি জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। আমি তো অনেক আগে গেছি। আমি গেছি ২৫ তারিখ। কিন্তু তারপরে প্রত্যেকটা দিন আমি আপনাদের সঙ্গে ছিলাম।

এরপর ওবায়দুল কাদের তাকে মিছিলে অধিকসংখ্যক উপস্থিতির জন্য বলেন, ফিজিক্যালি থাকাটা.....কালকের র‍্যালিতে ম্যাক্সিমাম যেন প্রেজেন্স থাকে।

এর উত্তরে পরশ বলেন, হ্যাঁ। আমরা এটা প্রস্তুতি নিচ্ছি। জি, অবশ্যই। এর জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, সে জন্য তোমাকে ফোন করি।

শেষে শেখ ফজলে শামস পরশ বলেন, না, না। থ্যাংক ইউ। ঠিক আছে। জি, আমি ফোন দিচ্ছি সব জায়গায়। জি, জি, জি, চাচা। আসসালামু আলাইকুম।

ওবায়দুল কাদের ছাড়া এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।


জাতীয় এর আরও খবর