img

গল্প গানে আড্ডায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বার্ষিক বনভোজন ‘গ্রেট ইয়ারমাউথে বন্ধুত্ব, আনন্দ ও স্মরণীয় একদিন’

প্রকাশিত :  ০৮:০৬, ১২ আগষ্ট ২০২৬
সর্বশেষ আপডেট: ০৯:২৭, ১২ আগষ্ট ২০২৬

গল্প গানে আড্ডায় ঢাকা ইউনিভার্সিটি অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের বার্ষিক বনভোজন ‘গ্রেট ইয়ারমাউথে বন্ধুত্ব, আনন্দ ও স্মরণীয় একদিন’

সৌহার্দ্যের ডালি সাজিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ‍্যা ইউকের উদ্যোগে যুক্তরাজ্যের নরফোক উপকূলের মনোরম সমুদ্রতীরবর্তী শহর গ্রেট ইয়ারমাউথে অনুষ্ঠিত হয়েছে বাৎসরিক পিকনিক। ১৫ মাইল দীর্ঘ সোনালী বালুকাময় গ্রেট ইয়ারমাউথ একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনপ্রিয় সমুদ্র সৈকতের শহর। সংগঠনের  সদস্যদের পরিবার-পরিজন, উপদেষ্টা এবং অতিথিদের  অংশগ্রহণে পিকনিক পরিণত হয় এক আনন্দঘন ও অবিস্মরণীয় দিনে।

আটই আগস্ট শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল লন্ডনের রেড ব্রিজ স্টেশনের কার পার্ক। সকাল ৯ টার মধ্যে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ্য ইউকের সদস্যরা সমবেত হয়েছিলেন সামারট্রিপে বা বার্ষিক পিকনিকে যোগদানের জন্য।

অনুষ্ঠানকে প্রাণবন্ত ও সফল করার জন‍্য একটি ‘পিকনিক টিম’ তৈরি করা হয়। সকাল ৯টায় পিকআপ পয়েন্ট ছিল রেডব্রিজ ষ্টেশন। সেখানে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে কোচ প্রস্তুত থাকবে বলে পিকনিক কমিটির পক্ষ থেকে সকলকে আগেই জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। পিকনিকের আয়োজনকে নিখুঁত করার তাড়ণায় আগের থেকেই কমিটির পক্ষ থেকে পিকনিকে অংশগ্রহণকারীদের সকলকে প্রয়োজনীয় আনুষাংগিক জিনিষপত্র যেমন সান লোশন, বসার জন্য চেয়ার, ছাতা, সানগ্লাস, সাঁতারের পোষাক আনার পরামর্শ দেয়া হয়েছিল। তাঁদের সার্বিক তত্বাবধানে পিকনিক সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হয়েছে। রেডব্রিজ টিউব স্টেশন থেকে যাত্রা শুরুর প্রাক্কালে অংশগ্রহণকারীরা নাম নিবন্ধন করেন। ক্রাউড কন্ট্রোল টিম শুরুতে উপস্থিতি নিশ্চিত করেন এবং সেফটি পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। 

ব্রেকফাস্ট অ্যান্ড স্ন্যাকস টিমের তত্বাবধানে সকালের নাস্তা পরিবেশন করা হয়। কোচভর্তি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের নিয়ে চালক ছুটেছিলেন আকর্ষণীয় গন্তব্যের দিকে। প্রায় তিন ঘণ্টা একনাগাড়ে ড্রাইভ করে পৌঁছলেন ঐতিহ্যবাহী সমুদ্র সৈকতে।

যাত্রাপথে স্মৃতিচারণ, গান, কৌতুক ও আবৃত্তি পরিবেশন করেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা। কোচে আসা যাবার পথে প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় ছিলেন মোঃ কামরুল হাসান, নিলুফা ইয়াসমিন হাসান, মিজানুর রহমান ও এরিনা সিদ্দিকী। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা তাদের ভার্সিটি জীবনের মজার স্মৃতি রমোন্থন করেন। উপস্থিত সকলে তাঁদের প্রাণবন্ত স্মৃতিচারণ দারুণভাবে উপভোগ করেছেন।

২০২৬ সালের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই ইন দ‍্যা ইউকের পিকনিক কেবল একটি সামাজিক অনুষ্ঠান নয়, বরং এটি ছিল সম্প্রীতি, বন্ধুত্ব ও স্মৃতির উৎসব। আয়োজক, স্বেচ্ছাসেবক ও সক্রিয় অংশগ্রহণকারীদের কল্যাণে অনুষ্ঠানটি হয়েছিল এক বিরাট সফলতা! কমিটির অক্লান্ত পরিশ্রমে আনন্দঘন পরিবেশে চমৎকার একটি উপভোগ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত হলো অনুষ্ঠানে সংগঠনের সদস্য, উপদেষ্টা, পরিবার, বন্ধু ও অতিথিসহ মোট ৫৩ জন অংশগ্রহণ করেন। দিনটি ছিল বন্ধুত্ব, পরিবার, বিনোদন, খাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড এবং পারস্পরিক সম্প্রীতিতে পরিপূর্ণ একটি স্মরণীয় দিন।

বার্ষিক বনভোজনটি ১২ সদস্যের একটি সাবকমিটির মাধ্যমে আয়োজন করা হয়। কমিটির সমন্বয় করেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসান, আর সার্বিক নেতৃত্বে ছিলেন সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী। আয়োজক দলকে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করেন সৈয়দ জাফর, ইসমাইল হোসেন ও সৈয়দ হামিদুল হক।

গ্রেট ইয়ারমাউথের উদ্দেশ্যে যাত্রা: কোচ যাত্রা শুরু করার পর সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসান সবাইকে স্বাগত জানান এবং দিনের কর্মসূচি সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত পরিচিতি তুলে ধরেন। এরপর তিনি জাকির হোসেনকে পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াত করার জন্য আমন্ত্রণ জানান। পবিত্র কোরআনের তেলাওয়াতের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রার শুভসূচনা হয়। সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী উষ্ণ অভ্যর্থনা বক্তব্য প্রদান করেন এবং সবাইকে একটি আনন্দময় ও স্মরণীয় দিন উপভোগ করার জন্য শুভকামনা জানান।

এ সময় সংগঠনের কয়েকজন উপদেষ্টা ও সিনিয়র সদস্য সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করে অংশগ্রহণকারীদের শুভেচ্ছা ও শুভকামনা জানান। এরপর কোচে সকালের নাশতা পরিবেশন করা হয়। গ্রেট ইয়ারমাউথের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে সবাই একসঙ্গে নাশতা উপভোগ করেন। 

সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের প্রাণবন্ত অংশগ্রহণ, হাসি-আনন্দ, বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক সহযোগিতা পুরো দিনটিকে অত্যন্ত আনন্দময় করে তোলে। এই আয়োজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের পুরোনো বন্ধুত্বকে আরও দৃঢ় করার পাশাপাশি নতুন সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং তাঁদের প্রিয় Alma Mater ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সম্পর্ক ও বন্ধন উদযাপনের একটি চমৎকার সুযোগ সৃষ্টি করে।

গ্রেট ইয়ারমাউথের উদ্দেশ্যে যাত্রাপথে অংশগ্রহণকারীদের জন্য সুস্বাদু সকালের নাশতার আয়োজন করা হয়। 

নাশতা ও পুরষ্কারে সহযোগিতা করেন - সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, মোঃ কামরুল হাসান, সৈয়দ জাফর, মাহফুজা রহমান, মিজানুর রহমান, এরিনা সিদ্দিকী, মির্জা আসহাব বেগ, আবু মুসা হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী ও ড. বি এম রাজ্জাক।

সমুদ্রতীরে মধ্যাহ্নভোজ: গ্রেট ইয়ারমাউথে পৌঁছানোর পর অংশগ্রহণকারীদের জন্য একটি স্থানীয় রেস্টুরেন্টে সুস্বাদু মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়। মধ্যাহ্নভোজের সার্বিক ব্যবস্থাপনা তদারকি করে লাঞ্চ টিম। মধ্যাহ্নভোজের পর সদস্যরা সমুদ্রতীরের কাছে সুন্দর মনোরম পরিবেশে সমবেত হন। সেখানে বিভিন্ন খেলাধুলা ও বিনোদনমূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

পুরুষ, নারী ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। সবাই অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দের সঙ্গে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন।

পুরুষদের জন্য আয়োজন করা হয় ফিট ব্যালান্স রেস ও বিন ব্যাগ টস। খেলাগুলো আয়োজন করেন মোঃ কামরুল হাসান। পরিচালনায় সহযোগিতা করেন সৈয়দ জাফর, মির্জা আসহাব বেগ এবং দেওয়ান গৌস সুলতান।

ফিট ব্যালান্স রেস-এর বিজয়ীরা হলেন প্রথম পুরস্কার দেওয়ান গৌস সুলতান, দ্বিতীয় পুরস্কার সৈয়দ হামিদুল হক এবং তৃতীয় পুরস্কার পেয়েছেন সিরাজুল বাছিত চৌধুরী।

বিন ব্যাগ টস-এর বিজয়ীরা হলেন প্রথম পুরস্কার মিজানুর রহমান, দ্বিতীয় পুরস্কার মারুফ চৌধুরী, তৃতীয় পুরস্কার মির্জা আসহাব বেগ।

নারীদের জন্য আয়োজন করা হয় ব্লাইন্ডফোল্ড চ্যালেঞ্জ এবং হেড, শোল্ডার অ্যান্ড টোজ। এই কার্যক্রমের তত্বাবধানে ছিলেন এরিনা সিদ্দিকী। তাঁকে  সহযোগিতা করেন আসমা খাতুন, খালেদা জামান পূর্ণি, নুসরাত জাহান ও আইরিন আনসারি। ব্লাইন্ডফোল্ড চ্যালেঞ্জ-এ প্রথম পুরস্কার তামান্না সৈয়দা, দ্বিতীয় পুরস্কার সুলতানা আক্তার ও তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন রিভা রেইনা। হেড, শোল্ডার অ্যান্ড টোজ-এ প্রথম পুরস্কার আসমা আক্তার, দ্বিতীয় পুরস্কার বদরুন নাহার ও তৃতীয় পুরস্কার লাভ করেন খাদিজা আহমেদ বর্ণা।

শিশুদের কার্যক্রম: শিশুদের জন্য আয়োজন করা হয় দৌড় প্রতিযোগিতা। এ কার্যক্রম পরিচালনায় ছিলেন ড. বিএম রাজ্জাক, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান এবং অন্যান্য স্বেচ্ছাসেবক। শিশুরা অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও ক্রীড়াসুলভ মনোভাব নিয়ে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। পরিবারের সদস্যদের উৎসাহ ও করতালিতে শিশুদের প্রতিযোগিতার পরিবেশ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। শিশুদের দৌড় প্রতিযোগিতায় প্রথম পুরস্কার রাফিডা জান্নাত, দ্বিতীয় পুরস্কার শ্রেয়শী ও তৃতীয় পুরস্কার লাভ করে তাসকিন সৈয়দা।

পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান: বিকেলের পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি পুরো আয়োজনের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও অংশগ্রহণকারীদের স্বীকৃতি হিসেবে DUAUK-এর সদস্য ও সিনিয়র সদস্যরা বিভিন্ন পুরস্কার ও উপহার প্রদান করেন। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন কোষাধ্যক্ষ সৈয়দ জাফর। তাঁর প্রাণবন্ত উপস্থাপনা ও দক্ষ সমন্বয় অনুষ্ঠানটিকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলে। পুরস্কার প্রদানকারীদের মধ্যে ছিলেন ড. সেলিম জাহান, কবি শামীম আজাদ, দেওয়ান গৌস সুলতান, আবু মুসা হাসান, সিরাজুল বাছিত চৌধুরী, মোঃ কামরুল হাসান, নাজির উদ্দিন চৌধুরী, মেজবাহ উদ্দিন ইকো, নিলুফা ইয়াসমীন হাসান, মির্জা আসহাব বেগ,  মারুফ চৌধুরী, ইসমাইল হোসেনও  ড. বিএম রাজ্জাক।

বিশেষ পুরস্কার: খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রম আয়োজন ও পরিচালনায় মূল্যবান অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সৈয়দ জাফরের সৌজন্যে সংগঠনের পক্ষ থেকে বিশেষ পুরস্কার প্রদান করা হয়।

সংগঠনের সভাপতি সিরাজুল বাছিত চৌধুরী বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মোঃ কামরুল হাসান এবং সাংস্কৃতিক সম্পাদক এরিনা সিদ্দিকীর হাতে বিশেষ পুরস্কার তুলে দেন।

সমুদ্রের তীরে এসে গা ভেজাবেনা তা কি হয়! সাঁতারের পোশাক পরে অনেকেই নেমে পরলেন সমুদ্রে। প্রায় ঘন্টাখানেক সমুদ্রে সাঁতার, জলকেলি উপভোগ করেন তাঁরা। সাঁতারের আনন্দঘন মুহূর্তগুলো ছবি ও ভিডিওতে ধারণ করা হয়, যা ভবিষ্যতের জন্য সুন্দর ও স্মরণীয় স্মৃতি হয়ে থাকবে।

সমুদ্র তীরে সমন্বয়কারী ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ কামরুল হাসান-এর সঞ্চালনায় একটি প্রাণবন্ত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রতিভাবান সদস্য ও শিশুরা নাচ ও গান পরিবেশন করেন। সদস্য ও তাঁদের সঙ্গীরাও গানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে পুরো পরিবেশ হয়ে ওঠে আনন্দময়, প্রাণবন্ত ও বিনোদনপূর্ণ।

সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে নাচ ও গান পরিবেশকদের মধ্যে ছিলেন: শিশু শিল্পী শ্রেয়শী, শিশু শিল্পী তাসকিন সৈয়দা, রওশন জাহান সিমি, তামান্না সৈয়দা, এরিনা সিদ্দিকী, ইসমাইল হোসেন, মারুফ চৌধুরী, খালেদা জামান পূর্ণি। সদস্য ও তাঁদের পরিবারের সদস্যরা ছবি তোলেন, সমুদ্রের নির্মল বাতাস উপভোগ করেন, হাসি-আনন্দে সময় কাটান। সমুদ্রতীরের এই সময়টি DUAUK পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।

সবচেয়ে উপভোগ্য ছিল সমুদ্রের পাড়ে বসে সংগঠনের উপদেষ্টা আবু মুসা হাসানের বানানো আচারি ঝাল মুড়ি চানাচুর সবাই মিলে খাওয়া।

সমুদ্রের নোনাজলে গা ভিজিয়ে সৈকতে আড্ডা দিয়ে কেউ আর বাড়ী ফেরার তাগিদ অনুভব করছিলেননা। তারপরও নীল জল পেছনে ফেলে লন্ডন ফেরার যাত্রা শুরু হলো। ফেরার পথে ক্লান্ত শরীর নিয়ে অনেকে ভেবেছিলেন কোচে ঘুমাবেন, কিন্তু সেই সুযোগ হয়নি। কোচে আবার শুরু হলো খাওয়া দাওয়া ও সাংস্কৃতিক পর্ব। তবে, এই পর্বে প্রশংসার বাণীই উচ্চারিত হয়েছে বেশী। সকলে এক বাক্যে পিকনিকের সার্বিক আয়োজনে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি

কমিউনিটি এর আরও খবর

img

ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল ফিরে আসছে আবারো: বাঙালি ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও স্বাদের উৎসবে মাতবে পূর্ব লন্ডন

প্রকাশিত :  ২০:০৭, ১০ আগষ্ট ২০২৬

পূর্ব লন্ডনের প্রাণকেন্দ্র ব্রিক লেন আবারও প্রস্তুত হচ্ছে বর্ণিল এক সাংস্কৃতিক উৎসবের জন্য। গত বছরের সফল আয়োজনের ধারাবাহিকতায় ব্রিক লেন কারি ফেস্টিভ্যাল ফিরে আসছে ২০ সেপ্টেম্বর, রোববার, যেখানে এক ছাদের নিচে মিলিত হবে টাওয়ার হ্যামলেটসের সেরা খাবার, সংগীত, সংস্কৃতি এবং কমিউনিটিগুলোর প্রাণবন্ত উপস্থিতি।

দুপুর ১২টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত চলা এই সম্পূর্ন ফ্রি পারিবারিক উৎসবে ব্রিক লেন পরিণত হবে এক উচ্ছ্বসিত মিলনমেলায়। দিনব্যাপী আয়োজনের মাধ্যমে উদযাপন করা হবে সেই সমৃদ্ধ বাংলাদেশি ঐতিহ্য, যা বহু দশক ধরে পূর্ব লন্ডনের পরিচয় ও সংস্কৃতিকে সমৃদ্ধ করেছে এবং ব্রিক লেনকে বিশ্বব্যাপী কারিপ্রেমীদের অন্যতম গন্তব্যে পরিণত করেছে।

বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় শুরু হবে উৎসব

উৎসবের শুরুতে ব্রিক লেনজুড়ে অনুষ্ঠিত হবে একটি আকর্ষণীয় ও বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, যেখানে অংশ নেবে নৃত্যশিল্পী, ঢাক-ঢোল ও ড্রামার দল, বিশালাকার পাপেট এবং ঐতিহ্যবাহী লায়ন ড্যান্সের পরিবেশনা। এরপর উৎসবের মূল মঞ্চে সারাদিন চলবে সংগীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

এবারের উৎসবে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে থাকছে জনপ্রিয় ব্যান্ড খিয়ো (Khiyo)। তাদের সঙ্গে মঞ্চে পারফর্ম করবেন ব্রিটিশ-বাংলাদেশি সংগীতশিল্পী নিশ এবং মামজি স্ট্রেঞ্জার। এছাড়াও দর্শকদের মুগ্ধ করতে থাকবে আইএমডি লিজিয়ন, বলি ফ্লেক্স, তাল তরঙ্গ, শওমি দাস ড্যান্স কোম্পানি, বলিউড ব্রাস ব্যান্ডসহ আরও অনেক শিল্পীগোষ্ঠীর পরিবেশনা।

শুধু মঞ্চেই নয়, পুরো ব্রিক লেনজুড়ে থাকবে ঘুরে বেড়ানো শিল্পীদের পরিবেশনা, ডিজে সেট এবং বিভিন্ন পপ-আপ বিনোদনমূলক আয়োজন।

পরিবারের সবার জন্য বিশেষ আয়োজন

উৎসবে শিশু ও পরিবারের সদস্যদের জন্যও রয়েছে নানা ধরনের ফ্রি কার্যক্রম। ফেস্টিভ্যালের বিশেষ পারিবারিক জোন “দ্যা গাট”-এ আয়োজন করা হয়েছে নৃত্য কর্মশালা, ঐতিহ্যবাহী শাড়ি পরানো ও লুঙ্গি বাঁধার প্রদর্শনী, ক্রীড়া কার্যক্রম, বিভিন্ন খেলা এবং বাউন্সি ক্যাসেল।

আয়োজকদের আশা, পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা দর্শনার্থীরা দিনভর আনন্দঘন পরিবেশে সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।

ব্রিক লেনের বিখ্যাত স্বাদ একসঙ্গে

ব্রিক লেনের পরিচয়ের অন্যতম বড় অংশ এর সমৃদ্ধ খাবারের ঐতিহ্য। তাই কারি ফেস্টিভ্যালে অংশ নেওয়া রেস্টুরেন্ট ও স্ট্রিট ফুড স্টলগুলো পরিবেশন করবে বিভিন্ন অঞ্চলের বিশেষ কারি, ঐতিহ্যবাহী বাংলাদেশি খাবার এবং স্থানীয় শেফদের লাইভ কুকিং ডেমোনস্ট্রেশন।

দর্শনার্থীরা পূর্ব লন্ডনের বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সমৃদ্ধ রন্ধনশৈলীর স্বাদ নেওয়ার পাশাপাশি জানতে পারবেন এসব খাবারের পেছনের গল্প ও ঐতিহ্য সম্পর্কেও।

আগাম রেজিস্ট্রেশনে বিশেষ ছাড়

উৎসবে অংশগ্রহণকারীদের জন্য রয়েছে একটি বিশেষ সুবিধা। যারা ফেস্টিভ্যালের আগে ইভেন্টব্রাইট-এর মাধ্যমে বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) করবেন, তারা একটি বিশেষ কোড পাবেন। এই কোড ব্যবহার করে ফেস্টিভ্যাল সপ্তাহান্তজুড়ে অংশগ্রহণকারী ব্রিক লেনের রেস্টুরেন্টগুলোতে বিলের ওপর ২০ শতাংশ ছাড় উপভোগ করা যাবে।

বাঙালি সংস্কৃতি, সুস্বাদু খাবার এবং সম্প্রদায়ের মিলনমেলার এই আয়োজন পূর্ব লন্ডনের ক্যালেন্ডারের অন্যতম আকর্ষণীয় উৎসব হয়ে উঠতে যাচ্ছে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। রঙ, স্বাদ এবং বিনোদনে ভরপুর এক দিন কাটাতে দর্শনার্থীদের ব্রিক লেনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

কমিউনিটি এর আরও খবর