img

গ্যাস সংকট: বেশির ভাগ ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ

প্রকাশিত :  ০৭:১৭, ১৪ আগষ্ট ২০২৬

গ্যাস সংকট: বেশির ভাগ ভারী শিল্পে উৎপাদন বন্ধ

দেশে প্রায় তিন সপ্তাহ ধরে তীব্র গ্যাস সংকট চলছে। এতে বাসাবাড়ির রান্না থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন ও শিল্পকারখানাসহ সব খাতেই বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সবচেয়ে বেশি চাপে পড়েছে ভারী শিল্প। গ্যাস ও এলএনজি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় স্টিল, সিরামিক ও কাচের মতো গ্যাসনির্ভর শিল্পগুলোর উৎপাদনক্ষমতা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দেশের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলের অধিকাংশ ভারী শিল্পকারখানা বন্ধ ছিল। স্থানীয় ভোগ্যপণ্য উৎপাদন ও সরবরাহকারী কয়েকটি বড় শিল্পগোষ্ঠীর প্রায় সব কারখানাও বন্ধ হয়ে গেছে।

খাত-সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অর্থনীতিতে এ পরিস্থিতি গভীর সংকট তৈরি করতে পারে। রপ্তানি আয় কমে আসবে। স্থানীয় পণ্য সরবরাহব্যবস্থা বিপর্যস্ত হতে পারে। 

দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী মেঘনা গ্রুপের সব কারখানা গত বুধবার থেকে বন্ধ রয়েছে। এতে সারাদেশে ভোগ্যপণ্যের সরবরাহ বিঘ্নিত হচ্ছে। জানতে চাইলে মেঘনা গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোস্তফা কামাল বলেন, গ্রুপের কারখানাগুলোতে উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো ন্যূনতম গ্যাস মিলছে না। নতুন করে বিদ্যুৎ সংকটও যুক্ত হয়েছে। এ কারণে গ্রুপের সব মিল-কারখানা বন্ধ রয়েছে। 

মোস্তফা কামাল জানান, উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার মতো গ্যাস-বিদ্যুতের সরবরাহ চেয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ও বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদিরের কাছে চিঠি লিখেছেন তিনি। বিদ্যুৎমন্ত্রী একটু অপেক্ষা করতে বলেছেন। 

খাদ্য ও ভোগ্যপণ্য হিসেবে ভোজ্যতেল, আটা, ময়দা, সুজি, চিনি উৎপাদন ও বাজারজাত করে থাকে মেঘনা গ্রুপ। এ ছাড়া সিমেন্ট, পেপার, এলপিজি, ফিড, কেমিক্যালসহ গ্রুপের মালিকানাধীন শিল্প ইউনিট রয়েছে ৫৭টি। ফ্রেশ, নাম্বার ওয়ান, অ্যাক্টিফিট, পিউর ইত্যাদি নামে এসব পণ্য বাজারে পাওয়া যায়। এর বাইরে সেবা খাতে শিপিং, বীমা ও রিয়েল এস্টেটের ব্যবসা রয়েছে মেঘনা গ্রুপের। মেঘনা গ্রুপ বলছে, দেশের মোট পরিবারের অর্ধেকের কাছে এসব পণ্য ও সেবা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। অভ্যন্তরীণ বাজারের বাইরে ৫২টি দেশে নিজেদের উৎপাদিত পণ্য রপ্তানি করে থাকে তারা। 

মোস্তফা কামাল আরও বলেন, জ্বালানি সংকটে তারা পণ্য উৎপাদন করতে পারছেন না, কিন্তু সরবরাহকারী ও গ্রাহকরা তাদের কাছে পণ্যের জন্য চাপ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে সারাদেশে পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থাও বিপর্যস্ত হতে পারে। 

এক দিন উৎপাদন বন্ধ থাকলে গ্রুপের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ কত হতে পারে– এ প্রশ্নের জবাবে মোস্তফা কামাল জানান, সঠিক তথ্য এ মুহূর্তে দেওয়া সম্ভব নয়, তবে ক্ষতির পরিমাণটা বেশ বড়। বর্তমানে গ্রুপের কর্মকর্তা ও কর্মীর সংখ্যা ৬৫ হাজারের বেশি।

কাঁচামাল সহজে আনা-নেওয়ায় সুবিধার জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ঘিরে অনেক ভারী শিল্প ইস্পাত, সিমেন্ট ও কাচ কারখানা গড়ে ওঠে। গ্যাস সংকটের কারণে সেগুলোও বিপদে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জ অঞ্চল ঘিরে গড়ে ওঠে ভারী শিল্পেও একই পরিস্থিতি। জানতে চাইলে ফতুল্লা স্টিল রি-রোলিং মিলসের স্বত্বাধিকারী মোহাম্মদ আলী বলেন, ভারী শিল্পের অবস্থা ভালো না। তাঁর কারখানায় উৎপাদন প্রায় এক মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। 

টি কে গ্রুপের উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি অচল 

টি কে গ্রুপের পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তাদের কেমিক্যাল, ভোজ্যতেল ও সিমেন্ট কারখানাগুলো পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ ও গজারিয়ায় তাদের এসব কারখানায় দুই দিনের বেশি সময় ধরে উৎপাদন বন্ধ। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন, সার আমদানির সুযোগ আছে। আমদানিও হয়ে আসছে। তাহলে কয়েকটি সার কারখানা চালাতে গিয়ে সরকার কেন শত শত কারখানায় গ্যাস সংকট তৈরি করছে?

৫০ শতাংশের নিচে আরএফএল গ্রুপের উৎপাদন  

আরএফএল গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আর এন পাল বলেন, তাদের কারখানাগুলোতে উৎপাদন বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। বিশেষ করে হবিগঞ্জ, নরসিংদী ও গাজীপুরের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্পাঞ্চলগুলোতে, যেখানে তাদের মোট উৎপাদনের ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ সম্পন্ন হয়, সেখানে গ্যাসনির্ভর পাওয়ার সিস্টেম অচল হয়ে পড়ায় উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প হিসেবে ডিজেল বা পল্লী বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করতে গিয়ে উৎপাদন খরচ প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যাচ্ছে। এই সংকটের প্রভাব নন-ফুড আইটেম যেমন– প্লাস্টিক, পিভিসি পাইপ, ফুটওয়্যার ও ইলেকট্রনিকস পণ্যের ওপর সবচেয়ে বেশি পড়ছে।

হবিগঞ্জে ১৭১ কারখানায় গ্যাস সরবরাহ বন্ধ

দেশের অন্যতম প্রধান শিল্পাঞ্চল এখন হবিগঞ্জ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ, স্কয়ার গ্রুপ, যমুনা ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক, ট্রান্সকম গ্রুপ, বাদশা গ্রুপ, সায়হাম গ্রুপ, বেঙ্গল গ্রুপসহ বড় শিল্পগোষ্ঠীর ১৭১টি কারখানা রয়েছে এখানে। গত বুধবার থেকে কারখানাগুলোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। দেড় লক্ষাধিক শ্রমিক অলস সময় পার করছেন। 

গাজীপুরে ৫২৫টি কারখানার উৎপাদন বন্ধ 

৫ আগস্টের এক দিন সরকারি ছুটির সঙ্গে বাড়তি ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিন পর গাজীপুরের শিল্পকারখানায় ফেরেন শ্রমিকরা। কিন্তু কর্মস্থলে ফিরেও কাজে ফিরতে পারছেন না অনেকেই। গ্যাস সংকটে বন্ধ হয়ে গেছে উৎপাদন। কোথাও অর্ধেক, আবার কোথাও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম। ফলে অলস সময় পার করছেন কোনো কোনো কারখানার শ্রমিকরা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় সময়মতো পণ্য সরবরাহ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন মালিকরা। তৈরি হচ্ছে বায়ার হারানোর আশঙ্কাও।

গাজীপুর শিল্প পুলিশ-২-এর পুলিশ সুপার মো. আমজাদ হোসাইন  বলেন, গাজীপুর জেলা ও মহানগরে প্রায় সাড়ে ৩ হাজার শিল্পকারখানা আছে। এর মধ্যে গ্যাস সংকটের কারণে ১২-১৫ শতাংশ কারখানায় উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। সে হিসাবে গাজীপুরে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে ৫২৫টি কারখানায়। বড় কারখানাগুলো নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সেসব কারখানাতেও উৎপাদন প্রায় ৪০ শতাংশ কমে গেছে।

শিল্প এলাকার কারখানাগুলো ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও মেশিন বন্ধ, কোথাও সীমিত পরিসরে চলছে উৎপাদন। কর্মস্থলে উপস্থিত থেকেও অনেক শ্রমিককে কাজ না থাকায় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো কারখানায় শ্রমিকদের ছুটি দেওয়া হয়েছে। 

শফিপুর আনসার একাডেমির ৩ নম্বর গেট এলাকায় অবস্থিত গোমতী টেক্সটাইল কারখানাটির প্রশাসনিক কর্মকর্তা ফরহাদ হোসেন উজ্জ্বল বলেন, বুধবার থেকে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। 

একই এলাকার এস এ স্পিনিং মিলস লিমিটেডেও গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কারখানাটির ডিজিএম আজিজুল হক বলেন, বুধবার বিকেল ৫টার পর থেকে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। 

বিপর্যয়ের মুখে বস্ত্র ও তৈরি পোশাকশিল্প 

শিল্পে গ্যাস কমিয়ে বিদ্যুৎ খাতে দেওয়ায় লোডশেডিং কমলেও কারখানায় শুরু হয়েছে গ্যাসের সংকট। শিল্পোৎপাদন ব্যাপকভাবে ব্যাহত হওয়ায় চিন্তিত ব্যবসায়ীরা। তৈরি পোশাক ও অন্যান্য পণ্যের পাশাপাশি সাম্প্রতিক ভয়াবহ গ্যাস সংকটে নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। 

তৈরি পোশাক উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিজিএমইএ সূত্রে জানা গেছে, গ্যাসের পর বিদ্যুতের অভাবে শিল্পের উৎপাদন ৫০ শতাংশে নেমে এসেছে। সংগঠনের সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান জানান, এফএসআরইউ বয়লার সিস্টেমে অগ্নিদুর্ঘটনার পর যে তীব্র সংকট তৈরি হয়েছিল তা কিছুটা কমে এসেছিল। গত দুই দিন ধরে আবার একই সমস্যা শুরু হয়েছে। নতুন করে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট। অনেক কারখানাই গতকাল উৎপাদন করতে পারনি। 

তৈরি পোশাকের নিট ক্যাটেগরির পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানিকারক উদ্যোক্তাদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম আহসান  বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে গতকালই বিদ্যুতের সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করে। বিকেএমইএর সদস্য কারখানাগুলো বেশির ভাগই বন্ধ ছিল। তাঁর নিজের ফতুল্লা গ্রুপের কারখানাটিও বন্ধ রাখতে হয়েছে। তিনি জানান, ফেব্রিক্সের অভাবে বিদ্যুৎ থাকলেও কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না। তিনি জানান, ২০২৩ সালে একবার এ রকম সমস্যা হয়েছিল। তবে এত লম্বা সময় ধরে সংকট এর আগে কখনও হয়নি। 

তৈরি পোশাকের ফেব্রিক্সের বড় অংশের জোগান দেয় দেশের বস্ত্রকলগুলো। বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন-বিটিএমএ সূত্রে জানা গেছে, সংগঠনের সদস্য বেশির ভাগ বস্ত্রকলই গতকাল বন্ধ ছিল। যে কয়েকটি কারখানা খোলা ছিল সেগুলোতেও ৩০ শতাংশের বেশি উৎপাদন করা সম্ভব হয়নি। 

তীব্র গ্যাস সংকট এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের অভাবে দেশের বড় বড় টেক্সটাইল কারখানাগুলো এখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম। গত কয়েক দিন ধরে হা-মীম গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, স্কয়ার ফ্যাশনস এবং বাদশা স্পিনিংয়ের মতো শীর্ষস্থানীয় শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে ডেনিম ও ডাইং খাতের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। কারণ ডাইং, ফিনিশিং, স্ট্যান্টিং ও সাইজিংয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো গ্যাস ছাড়া পরিচালনা করা সম্ভব নয়। স্পিনিং মিলগুলো কোনোমতে বিদ্যুৎ দিয়ে চালানোর চেষ্টা করা হলেও, গ্যাস সংকটে চিলার বন্ধ থাকায় কারখানার অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা বেড়ে যাচ্ছে, যা উৎপাদিত সুতার গুণগত মান কমিয়ে দিচ্ছে। বর্তমানে অনেক কারখানা মাত্র ৩০ শতাংশ সক্ষমতায় কোনোমতে টিকে আছে।

পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষ একটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, এ সংকটময় মুহূর্তে বিকল্প হিসেবে ডিজেল ব্যবহার করে কারখানা চালানোর চেষ্টা করা হলেও তা অর্থনৈতিকভাবে টেকসই নয়। একটি বৃহৎ শিল্প গ্রুপে প্রতিদিন গড়ে ৬৫ হাজার লিটার ডিজেল লাগছে, যার দৈনিক খরচ প্রায় ৭০ লাখ টাকা। এই বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে মুনাফা করা তো দূরে থাক, কারখানা টিকিয়ে রাখাই এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

এই কর্মকর্তা বলেন, এই সংকট থেকে উত্তরণে জরুরি পদক্ষেপ হিসেবে সার কারখানায় নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ করে সেই গ্যাস শিল্প খাতে দেওয়া উচিত। সাগরের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে কয়লা সরবরাহ নিশ্চিত করে উৎপাদন পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে হবে। যদি আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তবে উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই লোকসান টানা সম্ভব হবে না, যার চূড়ান্ত প্রভাব পড়বে দেশের রপ্তানি আয়ে। সরকারকে এখনই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শিল্প খাতকে বাঁচাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

শিল্পে গ্যাসের সরবরাহ আরও কমতে পারে

গ্যাসের মধ্যে বিদ্যুতে ৬৮ কোটি ঘনফুট থেকে ধীরে ধীরে বাড়িয়ে এখন দেওয়া হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। সার উৎপাদনে ব্যবহৃত হচ্ছে ১৪ কোটি ঘনফুট গ্যাস। বাকি ৮৫ ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে কারখানা, বাসাবাড়ি ও অন্যান্য খাতে। অথচ তিন সপ্তাহ আগেও এসব খাতে দেওয়া হতে ১৬০ থেকে ১৬৫ কোটি ঘনফুট।

জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, জনরোষ সামাল দিতে বিদ্যুতের পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সরবরাহ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে। ফলে সব মিলে গড়ে শিল্পে ৫৫ থেকে ৬০ কোটি ঘনফুটের মতো গ্যাস দেওয়া হচ্ছে এখন। এই সরবরাহ আরও কমতে পারে। 

জামালপুর-ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সড়ক অবরোধ 

জামালপুর প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গ্যাস সংকটের প্রতিবাদে জামালপুর-টাঙ্গাইল আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশাসহ বিভিন্ন গাড়ির চালকরা। গতকাল সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া এ কর্মসূচির কারণে মহাসড়কের দুই পাশে কয়েক কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন সাধারণ যাত্রী ও কর্মস্থলগামী মানুষ। 

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিসন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন জামালপুরের ম্যানেজার দুর্জয় বকসী বলেন, জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বুধবার রাত ৮টা থেকে জামালপুরে পাইপলাইনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায়ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালকরা। গতকাল দুপুর ১টার দিকে সরাইল উপজেলা সদরের কুট্টাপাড়া এলাকায় এই অবরোধ করেন তারা। এতে সড়কের দুই পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। পরে হাইওয়ে পুলিশের হস্তক্ষেপে অবরোধ তুলে নেন তারা।


 


অর্থনীতি এর আরও খবর

img

চলতি মাসে আরও ৫ কার্গো এলএনজি আমদানি করবে সরকার

প্রকাশিত :  ১৪:০১, ১৩ আগষ্ট ২০২৬

চলতি আগস্ট মাসে আরও পাঁচ কার্গো তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানি করবে সরকার। এসব কার্গোতে মোট প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মিলিয়ন ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) গ্যাস থাকবে। 

বাংলাদেশ তেল, গ্যাস ও খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পরিচালক (অর্থ) একেএম মিজানুর রহমান বলেন, ‘গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে আগস্ট মাসে আরও ৫ কার্গো এলএনজি নিশ্চিত করা হয়েছে। এগুলো স্পট মার্কেট, দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় কেনা হয়েছে।’

তিনি বলেন, দেশের ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে বাংলাদেশ তিন ধরনের উৎস থেকেই নিয়মিত এলএনজি আমদানি করছে। গড়ে প্রতিটি কার্গোতে প্রায় ৩২ লাখ এমএমবিটিইউ এলএনজি থাকে।

মিজানুর রহমান আরও জানান, আগস্ট মাসে মোট ৯ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হবে। ইতোমধ্যে ৪ কার্গো দেশে পৌঁছেছে। বাকিগুলো এ মাসেই চলে আসবে। আমদানি করা ৯ কার্গোতে মোট এলএনজির পরিমাণ রয়েছে ২ কোটি ৮৮ লাখ এমএমবিটিইউ।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানিয়েছে, আগস্ট মাসের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় ১, স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় ৫ এবং স্পট মার্কেট থেকে ৩ কার্গো এলএনজি কেনা হয়েছে। বাকি চালানগুলো ১৭, ২১, ২৩, ২৭ ও ৩০ আগস্টের দেশে পৌঁছাবে।

এর আগে গত জুলাই মাসে দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্পমেয়াদি চুক্তি এবং স্পট মার্কেটের মাধ্যমে মোট ১১ কার্গো এলএনজি আমদানি করা হয়েছে। যার পরিমাণ ছিল প্রায় ৩ কোটি ৫২ লাখ এমএমবিটিইউ।

রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেডের (আরপিজিসিএল) তথ্য অনুযায়ী, কাতারভিত্তিক কাতার অ্যানার্জি এবং ওমান সরকারের জ্বালানি ও পণ্য বাণিজ্য প্রতিষ্ঠান ওকিউ ট্রেডিং দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশে এলএনজি সরবরাহ করে থাকে।

এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক ওকিউ ট্রেডিং স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় বাংলাদেশকে এলএনজি সরবরাহ করছে।

উল্লেখ্য, প্রতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত কমিটির অনুমোদন সাপেক্ষে সরকার স্পট মার্কেট থেকেও এলএনজি কার্গো সংগ্রহ করে থাকে।


অর্থনীতি এর আরও খবর