ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতি ইউকে’র উদ্যোগে বনভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত
সব ব্যস্ততা দূরে ঠেলে বনভোজনে মিলেছে সবাই সাগর পাড়ে
প্রতিবারের ন্যায় গত ৯ই আগস্ট রবিবার ২০২৬ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির উদ্যোগে বাৎসরিক বনভোজন ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ক্লাক্টন অন সিই’র পাড়ে সকল সদস্যদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংস্কৃতি, সংগীত, সাহিত্য এবং ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের জন্য বিখ্যাত। এটি সুরসম্রাট উস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ, মীর আলতাফ হোসেন এবং অদ্বৈত মল্লবর্মণের মতো গুণীজনদের জন্মস্থান। ঐতিহ্যবাহী ছানামুখী মিষ্টি, তিতাস নদীর তীরবর্তী সংস্কৃতি, নৌকা বাইচ এবং পুতুল নাচ এই জেলার বিশেষ পরিচিতি। প্রবাসে বসবাস করেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা সমিতির সদস্যরা তাদের ঐতিহ্য ও শেকড় আঁকড়ে ধরে আছেন।
গত রোববার সংগঠনের সদস্যদের পরিবার-পরিজনদের অংশগ্রহণে পিকনিক বা বনভোজন পরিণত হয়েছিল এক আনন্দঘন ও অবিস্মরণীয় দিনে। পিকনিকের যাত্রীদের কলরবে মুখরিত হয়ে উঠেছিল লন্ডনের রেড ব্রিজ স্টেশনের কার পার্ক। সকাল সাড়ে ৯ টার মধ্যে লন্ডনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সদস্যরা যান্ত্রিকতা ছেড়ে ক্লান্তি ভুলে সমুদ্রের মিষ্টি বাতাসে প্রাণ জুড়ানোর আশায় সমবেত হয়েছিলেন।
যাত্রার প্রাক্কালে গাড়িতেই প্রাতঃরাশ দেয়া হয়। যাত্রাপথে স্মৃতিচারণ, গান, কৌতুক পরিবেশন করেন পিকনিকে অংশগ্রহণকারীরা। কোচে আসা যাবার পথে প্রাঞ্জল উপস্থাপনায় ছিলেন সৈয়দ হামিদুল হক, মেসবাহ উদ্দিন ইকো ও ফারুক আহমদ। ফেরার পথে আকর্ষণীয় পর্ব ছিল বাবা মায়ের সাথে আগত সন্তানেরা তাদের নিজের সম্পর্কে অর্থাৎ তারা কে কোথায় লেখাপড়া করছে, সবার সাথে পিকনিকে এসে তাদের কেমন লাগছে তা তুলে ধরেছে।
নতুন ও পুরাতন সদস্যদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সফল এই আয়োজনের সার্বিক তত্বাবধানে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মেসবাহ উদ্দিন ইকো, সৈয়দ হামিদুল হক, ফারুক আহমদ, ইন্জিনিয়ার সাদেকুল আলম, ব্যারিষ্টার নজরুল ইসলাম, বিশিষ্ট সামাজিক ব্যক্তিত্ব ও সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খুররম মতিন, উপদেষ্টা মোঃ আব্দুল হাদি, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুর রহমান বাদল, মোঃ বাহার উদ্দিন ও বীর মুক্তিযোদ্ধা বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ও আরো অনেকে।
শাখাওয়াৎ খসরুর তত্ত্বাবধানে গোল্ডেন কারী রেস্টুরেন্টে দুপুরের সুস্বাদু খাবারের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। বিকেলে সাগর পাড়ে বাচ্চাদের নাচ গান কবিতা আবৃত্তি ছিল একটি মনোমুগ্ধকর পরিবেশনা।
যুক্তরাজ্যের এসেক্স কাউন্টিতে অবস্থিত ক্ল্যাকটন-অন-সী একটি ঐতিহ্যবাহী এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় সৈকত। এটি যুক্তরাজ্যের অন্যতম বৃহত্তম বিনোদন পিয়ার। এখানে রয়েছে বিভিন্ন রাইড। এখানকার সোনালী বালুকাময় সৈকতটি পরিবার ও শিশুদের নিয়ে সময় কাটানোর জন্য দারুণ। বিশেষ করে পিয়ারের ডানদিকের সৈকতটি অগভীর, যা শিশুদের জন্য নিরাপদ। তাইতো অনেকেই সাঁতারের পোশাক পরে নীল জলে সাঁতার কেটেছে। সমুদ্রের ঠান্ডা বাতাস গায়ে মেখে হাঁটার জন্য এখানকার দীর্ঘ বাঁধ বা প্রমোনাড চমৎকার। সৈকতের পাশেই রয়েছে সুন্দর করে সাজানো ফুলের বাগান। ফুল বাগানে চাদর বিছিয়ে সবাই বসে গল্প আড্ডায় মেতেছিল।
নারী ও শিশুদের জন্য বিভিন্ন ধরনের খেলাধুলা ও কার্যক্রমের আয়োজন করা হয়। সবাই অত্যন্ত উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আনন্দের সঙ্গে এসব প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। শিশু কিশোর ও মহিলাদের পিলো পাসিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কন্যা’ এবং ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বধূ’ দুটি গ্রূপের মধ্যে চলে অন্তাক্ষরী গানের প্রতিযোগিতা। তার মধ্যে ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বধূ’ মিসেস ফেরদৌসীর মিষ্টি গানের সাথে ডঃ হাসনীন চৌধুরী এবং নিলুফা হাসানের নৃত্য পরিবেশনা ছিল উপভোগ্য। সাগর পাড়ের এই সংগীত সন্ধা স্মৃতিময় হয়ে থাকবে।
আকর্ষণীয় পর্ব ছিল সাবেক প্রেস মিনিস্টার ও বিশিষ্ট সাংবাদিক আবু মুসা হাসান ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আঞ্চলিক শব্দ ভান্ডারের কুইজ প্রতিযোগিতা করেছেন। সকলে আনন্দের সাথে কুইজে অংশগ্রহণ করে উত্তর দিয়েছেন। সর্বশেষে ছিল প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠান।
সাগর পাড়ে উপস্থিত সকলে ছবি তোলেন, সমুদ্রের নির্মল বাতাস উপভোগ করে হাসি-আনন্দে সময় কাটান এবং একে অপরের সঙ্গে মূল্যবান সময় ভাগ করে নেন। সমুদ্রতীরের এই সময়টি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে বন্ধুত্ব, সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করার ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখে।
ব্রাহ্মণবাডিয়ার জেলা সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খুররম মতিন আয়োজকদের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচী শেষ হয়। আনন্দঘন পরিবেশে চমৎকার একটি উপভোগ্য পিকনিক অনুষ্ঠিত হলো।
-সংবাদ বিজ্ঞপ্তি



















