img

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে তিন লক্ষাধিক আবেদন, শেষ সময় কাল

প্রকাশিত :  ০৬:৫২, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

খাতা পুনর্নিরীক্ষণে তিন লক্ষাধিক আবেদন, শেষ সময় কাল

চলতি বছরের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশের পর খাতা পুনর্নিরীক্ষণের আবেদনে রেকর্ড হয়েছে। গত ১১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এ আবেদন প্রক্রিয়া সোমবার (১৭ আগস্ট) শেষ হবে। এরই মধ্যে ফলাফলে অসন্তুষ্ট তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী পুনর্নিরীক্ষণের জন্য আবেদন করেছেন।

ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, এখন পর্যন্ত এসএসসির ফলাফলে অসন্তুষ্ট তিন লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী আবেদন করেছে। আগামী ১৭ আগস্ট পর্যন্ত আবেদন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।

জানা গেছে, ১৯৯৮ সালের আইন অনুযায়ী খাতা পরিদর্শনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে বর্তমান সরকার আইনটিতে সংশোধন আনে। ফলে এবার শিক্ষার্থীদের খাতা পুনর্নিরীক্ষণের পাশাপাশি পুর্নমূল্যায়নেরও সুযোগ রয়েছে।

এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য- https://rescrutiny.eduboardresults.gov.bd এই ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্ধারিত স্থানে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিতে হবে।

এরপর বোর্ডের ড্রপডাউন মেনু থেকে সংশ্লিষ্ট বোর্ড নির্বাচন করে ‘সাবমিট’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। পরবর্তী ধাপে মোবাইল ফোন নম্বর দিতে হবে। পুনর্নিরীক্ষণের ফলাফল প্রকাশিত হলে ওই নম্বরে এসএমএসের মাধ্যমে তা জানানো হবে।

পরবর্তী স্ক্রিনে শিক্ষার্থীর বিষয়ভিত্তিক ফলাফল দেখা যাবে। এক বা একাধিক বিষয়ের ফলাফল পুনর্নিরীক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নির্বাচন করে ‘ফি প্রদান করুন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে।

প্রতিটি পত্রের জন্য ১৫০ টাকা হারে ফি প্রযোজ্য হবে। দ্বিপত্রবিশিষ্ট বিষয়ের ক্ষেত্রে উভয় পত্রের জন্যই আবেদন করতে হবে। পরবর্তী স্ক্রিনে মোট প্রদেয় ফির পরিমাণ দেখা যাবে। বিকাশ, নগদ ও সোনালী সেবার মাধ্যমে ফি পরিশোধ করা যাবে। ফি পরিশোধের বিস্তারিত ধাপ জানতে সংশ্লিষ্ট পোর্টালের ‘হেল্প’ বাটনে ক্লিক করে নির্দেশনাগুলো দেখে নেওয়া যাবে।

ফি পরিশোধের পর আবেদন পোর্টালে ফিরে এসে ‘জমা দিন’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার ফি দিয়ে আবেদন জমা দেওয়ার পর অতিরিক্ত কোনো বিষয় যুক্ত করতে চাইলে একই প্রক্রিয়ায় তা করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে নতুন করে মোবাইল ফোন নম্বর দেওয়ার প্রয়োজন হবে না।

অন্যদিকে, ফি পরিশোধের আগে আবেদন পরিবর্তন বা পরিমার্জনের প্রয়োজন হলে ‘মুছে ফেলুন’ বাটনে ক্লিক করে যেসব বিষয়ের জন্য এখনো ফি দেওয়া হয়নি, সেগুলো প্রত্যাহার করা যাবে। এরপর নতুন করে প্রয়োজনীয় বিষয় নির্বাচন করা যাবে।

তবে একবার ফি জমা দেওয়ার পর আবেদন করা বিষয়গুলো আর বাতিল করা যাবে না। কোনো অবস্থাতেই পরিশোধ করা ফি ফেরত দেওয়া হবে না। এ ছাড়া ম্যানুয়ালি কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না।


img

ইসলামপুরে ৩ শিক্ষার্থীর জন্য ৯ শিক্ষক, সবাই ফেল

প্রকাশিত :  ০৭:২০, ১১ আগষ্ট ২০২৬

জামালপুরের ইসলামপুরে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নেওয়া দুটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। শতভাগ অকৃতকার্য প্রতিষ্ঠান দুটির মধ্যে একটি উচ্চবিদ্যালয় এবং অন্যটি দাখিল মাদ্রাসা।

সোমবার প্রকাশিত ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে এ তথ্য জানা গেছে। প্রতিষ্ঠান দুটির কোনো শিক্ষার্থীই কৃতকার্য না হওয়ায় সেখানে শতভাগ অকৃতকার্যের হার দেখা গেছে।

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠান দুটি হলো—ইসলামপুরের কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয় এবং বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসা।

জানা গেছে, কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ে নয়জন শিক্ষক থাকলেও মাত্র তিনজন শিক্ষার্থীকে পাঠদান করিয়ে তাদের একজনকেও এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ করাতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি। অন্যদিকে, বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসায় আটজন শিক্ষক থাকলেও দাখিল পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ১৮ শিক্ষার্থীর কেউই উত্তীর্ণ হতে পারেনি।

কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. সাইফুল্লাহ বলেন, ‘বিদ্যালয়টি গত বছর পাঠদানের অনুমতি পেয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, বিদ্যালয়টির শিক্ষার্থীদের ২০২৭ সালে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা। রেজিস্ট্রেশন ও পরীক্ষা-সংক্রান্ত বিষয় যাচাইয়ের জন্য তিনজন শিক্ষার্থীকে এবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।’

বীর মাইজবাড়ী দাখিল মাদ্রাসার সুপার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞান বিভাগের বিষয়ভিত্তিক শিক্ষক সংকট রয়েছে। এ কারণে শিক্ষার্থীদের ফলাফলে প্রভাব পড়েছে।’

ইসলামপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের একাডেমিক সুপারভাইজার মোহাম্মদ মামুন অর রশীদ বলেন, ‘কদমতলী ক্বারীপাড়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে তিনজন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তাদের কেউই পাস করতে পারেনি। বিদ্যালয়টিতে নয়জন শিক্ষক রয়েছেন।’

উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আরিফা আক্তার বলেন, ‘শতভাগ অকৃতকার্য হওয়ার বিষয়ে আমরা প্রতিষ্ঠান দুটির কাছে জবাবদিহি চাইব। পরবর্তীতে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


শিক্ষা এর আরও খবর