img

মার্জিন ঋণে বড় পরিবর্তন, একক শেয়ারে সর্বোচ্চ ২০ শতাংশ অর্থায়ন

প্রকাশিত :  ১৮:৪৯, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদক: মার্জিন অর্থায়নের নিয়মে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। নতুন সংশোধিত বিধিমালায় মার্জিন অর্থায়নের জন্য পৃথক ব্যাংক হিসাব, গ্রাহকের ন্যূনতম ইক্যুইটি, অর্থায়নের সীমা, মার্জিন কল এবং ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় একাধিক নতুন শর্ত যুক্ত করা হয়েছে।

বিএসইসি আইন, ১৯৯৩-এর ২৪(১) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (মার্জিন) বিধিমালা, ২০২৫ সংশোধন করে এসব পরিবর্তন আনা হয়েছে। কমিশনের আদেশে সংশোধিত বিধিমালার বিস্তারিত শর্ত তুলে ধরা হয়েছে।

নতুন বিধান অনুযায়ী, মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে নিজ নামে একটি পৃথক ব্যাংক হিসাব পরিচালনা করতে হবে। শুধু মার্জিন অর্থায়নসংক্রান্ত কার্যক্রমেই ওই হিসাব ব্যবহার করা যাবে। কোনো শাখা বা ডিজিটাল বুথের নামে এ ধরনের ব্যাংক হিসাব খোলা যাবে না। আগে শাখা বা ডিজিটাল বুথের নামে পরিচালিত কোনো হিসাব থাকলে ২০২৭ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারির পর কমিশনের অনুমোদন ছাড়া তা পরিচালনা করা যাবে না।

সংশোধিত বিধিমালায় একজন গ্রাহক একই মার্জিন অর্থায়নকারীর কাছে একই সময়ে একটি নগদ হিসাব ও একটি মার্জিন হিসাব রাখতে বা খুলতে পারবেন।

মার্জিন চুক্তির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে এক বছর। কোনো পক্ষ চুক্তি বাতিল না করলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে নবায়ন হবে। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত ১৫ দিন আগে লিখিত নোটিশ দিয়ে মার্জিন অর্থায়নকারী বা সংশ্লিষ্ট গ্রাহক চুক্তি বাতিল করতে পারবেন।

মার্জিন অর্থায়নের পরিমাণের ক্ষেত্রেও সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কোনো মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের ইক্যুইটির চেয়ে বেশি অর্থায়ন করা যাবে না। অর্থাৎ, গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত ১:১-এর বেশি হতে পারবে না।

এ ছাড়া কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার প্রকৃত মূলধন বা নিট সম্পদের চার গুণের বেশি মার্জিন অর্থায়ন করতে পারবে না।

৫০ শতাংশ ইক্যুইটি না থাকলে মার্জিন কল

সংশোধিত বিধিমালায় গ্রাহকের ইক্যুইটি ও মার্জিন অর্থায়নের অনুপাত বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোনো মার্জিন হিসাবে গ্রাহকের ইক্যুইটি মার্জিন অর্থায়নের ৫০ শতাংশের নিচে নামতে পারবে না।

ইক্যুইটি নির্ধারিত সীমার নিচে নেমে গেলে সংশ্লিষ্ট গ্রাহককে দ্রুত মার্জিন কল দিতে হবে। লিখিতভাবে অথবা গ্রাহকের ই-মেইল ও নিবন্ধিত মোবাইল নম্বরে বার্তা পাঠিয়ে এ বিষয়ে জানাতে হবে। প্রয়োজন হলে ফোনেও গ্রাহকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাবে।

মার্জিন কল দেওয়ার তিন ট্রেডিং দিনের পরও গ্রাহক প্রয়োজনীয় অর্থ জমা দিতে ব্যর্থ হলে ওই হিসাবে নতুন করে অর্থায়ন করা যাবে না। তবে ইক্যুইটি নির্ধারিত ৫০ শতাংশে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক সিকিউরিটিজ বিক্রি করতে পারবে মার্জিন অর্থায়নকারী।

ইক্যুইটি যদি মার্জিন অর্থায়নের ২৫ শতাংশের নিচে নেমে যায়, তাহলে গ্রাহককে কোনো নোটিশ না দিয়েই সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিজ বিক্রি করে হিসাব সমন্বয় করার ক্ষমতা থাকবে মার্জিন অর্থায়নকারীর।

সব শেয়ারে মার্জিন ঋণ নয়

সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত শেয়ার ছাড়া অন্য কোনো সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একই সঙ্গে ‘G’, ‘N’ ও ‘Z’ শ্রেণির সিকিউরিটিজে মার্জিন অর্থায়ন নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

স্টক এক্সচেঞ্জের এসএমই, এটিবি ও ওটিসি প্ল্যাটফর্ম বা বোর্ডে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজও মার্জিন অর্থায়নের আওতার বাইরে থাকবে।

মার্জিন অর্থায়ন নেওয়ার সময় গ্রাহকের হিসাবে স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত সিকিউরিটিজে অন্তত ৩ লাখ টাকার বিনিয়োগ থাকতে হবে। এর কম বিনিয়োগ থাকলে ওই হিসাবে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

কোনো গ্রাহক মার্জিন অর্থায়নের অযোগ্য সিকিউরিটিজ কিনলে সেগুলোকে মার্জিন অর্থায়নের ক্ষেত্রে গ্রাহকের ইক্যুইটি হিসেবে গণনা করা যাবে না।

পিই অনুপাত ৪০-এর বেশি হলে মার্জিন নয়

নতুন নিয়মে কোনো সিকিউরিটির মূল্য-আয় অনুপাত বা পিই রেশিও ৪০-এর বেশি হলে তাতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না। একইভাবে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস ঋণাত্মক হলেও ওই সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন নিষিদ্ধ থাকবে।

তালিকাভুক্ত জীবনবীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে পিই রেশিওর পরিবর্তে মূল্য ও নিট সম্পদ অনুপাত বা পিবি রেশিও বিবেচনা করা হবে। পিবি রেশিও ৩-এর বেশি হলে অথবা নিট সম্পদ মূল্য ঋণাত্মক হলে সংশ্লিষ্ট সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়ন করা যাবে না।

মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি নির্ধারণে সর্বশেষ ট্রেডিং দিনের সমাপনী মূল্য এবং সংশ্লিষ্ট কোম্পানির সর্বশেষ চার প্রান্তিকের ইপিএসের ভিত্তিতে ট্রেইলিং পিই রেশিও নির্ধারণ করা হবে। জীবনবীমা কোম্পানির ক্ষেত্রে সর্বশেষ নিরীক্ষিত এনএভি বা শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বিবেচনায় নেওয়া হবে।

মার্জিনযোগ্য সিকিউরিটি নির্ধারণের সুবিধার্থে স্টক এক্সচেঞ্জগুলোকে নিয়মিতভাবে তাদের ওয়েবসাইটে পিই রেশিও এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে পিবি রেশিও প্রকাশ করতে হবে।

ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় কমিটি বাধ্যতামূলক

নতুন নিয়মে মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানকে অন্তত দুই সদস্যের একটি ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন করতে হবে। এই কমিটি বছরে অন্তত চারটি সভা করবে। সভার কার্যবিবরণী পরিচালনা পর্ষদের সভায় উপস্থাপন করতে হবে।

মার্জিন অর্থায়নকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে কমিশনের বিধিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিজেদের মার্জিন অর্থায়ন নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। তবে কমিশনের কোনো বিধান শিথিল করে নিজস্ব নীতিমালা তৈরি বা অতিরিক্ত শর্ত আরোপ করা যাবে না।

এক শেয়ারে ২০ শতাংশের বেশি নয়

সংশোধিত বিধিমালায় একক সিকিউরিটিতে মার্জিন অর্থায়নের ঝুঁকিও সীমিত করা হয়েছে। কোনো মার্জিন অর্থায়নকারী তার মোট বকেয়া মার্জিন অর্থায়নের ২০ শতাংশের বেশি কোনো একটি সিকিউরিটিতে অর্থায়ন করতে পারবে না।

এ ছাড়া গবেষণা দলের সদস্যদের বেতন-ভাতা ও আনুষঙ্গিক সুবিধা সরাসরি মার্জিন অর্থায়নকারীর ট্রেডিং কমিশন আয়ের সঙ্গে যুক্ত করা যাবে না।

ইসলামিক শরিয়াহভিত্তিক মার্জিন অর্থায়ন পদ্ধতি চালু করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট মার্জিন অর্থায়নকারীর শরিয়াহ সুপারভাইজরি বোর্ড থাকতে হবে। ওই বোর্ড বা শরিয়াহ উপদেষ্টার সুপারিশের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে।

বিএসইসির সংশোধিত বিধিমালার ফলে মার্জিন অর্থায়নে গ্রাহকের ইক্যুইটি, অর্থায়নের সীমা, সিকিউরিটি নির্বাচন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনায় আরও সুনির্দিষ্ট কাঠামো তৈরি হলো। একই সঙ্গে কোনো একটি সিকিউরিটিতে অতিরিক্ত অর্থায়নের ঝুঁকি কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

অর্থনীতি এর আরও খবর

img

ফলের দাম কমাতে আমদানি সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক

প্রকাশিত :  ১৫:৪৫, ১৬ আগষ্ট ২০২৬

ফল আমদানিতে ঋণপত্র (এলসি) খোলার ক্ষেত্রে শতভাগ মার্জিন সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এখন থেকে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে ফল আমদানির এলসি মার্জিন নির্ধারণ করতে পারবে ব্যাংকগুলো।

রোববার (১৬ আগস্ট) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করেছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, এতদিন বিলাসী পণ্য হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় ফল আমদানির এলসি খোলার সময় ১০০ শতাংশ মার্জিন সংরক্ষণ করতে হতো। তবে জনস্বাস্থ্য ও পুষ্টির চাহিদা বিবেচনায় এ শর্ত প্রত্যাহার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, শিশু, রোগী, প্রবীণ ও গর্ভবতী নারীদের দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় ফল গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। তাই জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও ফলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন নির্দেশনার ফলে ফল আমদানিতে ব্যাংকিং সুবিধা বাড়বে এবং বাজারে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। আমদানি ও সরবরাহ বাড়লে বাজারে ফলের দামও কমতে পারে। 

অর্থনীতি এর আরও খবর