img

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৬৩

প্রকাশিত :  ১৩:৫৭, ৩১ আগষ্ট ২০২৬

ডেঙ্গুতে আরও ৪ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১১৬৩

দেশে ডেঙ্গুর সংক্রমণ উদ্বেগজনকভাবে বাড়ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ১৬৩ জন, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ। একই সময়ে ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ৯৭ জনের মৃত্যু হলো। এর মধ্যে শুধু আগস্ট মাসেই মারা গেছেন ৪৩ জন। এ ছাড়া জুলাইয়ে ৩৬ জন, জুনে ১৩ জন, মে মাসে একজন এবং জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে দুজন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (৩১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক নিয়মিত বুলেটিনে জানানো হয়, শনিবার সকাল ৮টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ১ হাজার ১৬৩ জন ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩৫ হাজার ৮৪৬ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে ছাড় পেয়েছেন ১ হাজার ১৭ জন। এ পর্যন্ত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৩৩ হাজার ২০৫ জন।

গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে, ৪৬৪ জন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৮৩ জন, বরিশালে ১৩২, চট্টগ্রামে ১২০, ময়মনসিংহে ৬৯ এবং রাজশাহীতে ৮৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

জাতীয় এর আরও খবর

img

নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

প্রকাশিত :  ০৭:৪৭, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নতুন জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের পাশাপাশি সাংবাদিকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।

তিনি বলেছেন, সাংবাদিকদের চাকরি ও জীবিকার নিশ্চয়তা দিতে না পারলে ভালো সাংবাদিকতা পাওয়া সম্ভব নয়। এ কারণে নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নসহ সাংবাদিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে সরকার দ্রুত কাজ করবে।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি জানাতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

বেসরকারি সংবাদপত্র ও টেলিভিশনে কর্মরত সাংবাদিকদের জন্য সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা এবং নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড বাস্তবায়নের বিষয়ে জানতে চাইলে জাহেদ উর রহমান বলেন, সাংবাদিকদের বিষয়টি ‘রিয়েল প্রবলেম’। ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংকটসহ এসব বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

একপর্যায়ে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে বলা হয়, অষ্টম ওয়েজ বোর্ডের পর নবম ওয়েজ বোর্ডের আলোচনা হলেও এর বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে দাবি থাকা দশম ওয়েজ বোর্ডও বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। জবাবে উপদেষ্টা বলেন, অবশ্যই বাস্তবায়ন..., আমি আপনার সঙ্গে দ্বিমত করছি না।

নবম ও দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন করা হবে কিনা? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, একসঙ্গে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, নিশ্চয়ই করবো এবং আমি এটা একেবারেই একমত নীতিগতভাবে। আমরা যদি সাংবাদিকদের চাকরি এবং তাদের জীবিকাকে সঠিকভাবে নিশ্চয়তা দিতে না পারি, আমরা বেটার জার্নালিজম পাবো না। এ বিষয়ে দ্রুত কাজ করার কথাও জানান তিনি।

ব্রিফিংয়ে মূল্যস্ফীতি ও নতুন বেতন কাঠামো নিয়েও কথা বলেন জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি ৫ থেকে ৬ শতাংশের মধ্যে থাকলে তা সহনীয় ও ভালো বলা যায়। কিন্তু দেশের মূল্যস্ফীতি দীর্ঘদিন ধরে দুই অঙ্কে ছিল এবং তা ডাবল ডিজিট অতিক্রম করেছে। বর্তমানে অবশ্য কিছুটা কমেছে।

নতুন পে-স্কেলের কারণে মূল্যস্ফীতি বাড়ার আশঙ্কা আছে কিনা? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, বিপুলসংখ্যক মানুষের বেতন বাড়লে কিছুটা মূল্যস্ফীতির ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তবে নতুন বেতন কাঠামোয় সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে বিষয়টি এমন নয়।

তার ভাষ্য, দীর্ঘদিন নতুন বেতন স্কেল না হওয়ায় অনেক সরকারি কর্মচারীর নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের মাধ্যমে বর্তমান বেতন নতুন স্কেলের কাছাকাছি চলে গেছে। ফলে নতুন স্কেল কার্যকর হলে অনেকের বেতন প্রত্যাশিত হারে বাড়বে না।

তিনি বলেন, নতুন স্কেলে বেতন ১০০ শতাংশ বাড়ার বিষয়টি দেখে মনে হতে পারে সবার বেতন দ্বিগুণ হয়ে যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সেরকম নয়। অনেক জ্যেষ্ঠ কর্মচারী নিয়মিত ইনক্রিমেন্টের কারণে নতুন স্কেলের বেতনের কাছাকাছি পর্যায়ে পৌঁছে গেছেন।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে এই উপদেষ্টা বলেন, মূল্যস্ফীতির কারণগুলো মোকাবিলায় বাংলাদেশ ব্যাংক তার হাতে থাকা বিভিন্ন নীতিগত উপকরণ ব্যবহার করে কাজ করবে। পাশাপাশি সরকারও প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণমূলক পদক্ষেপ নেবে।

মূল্যস্ফীতিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে সরকারের সামাজিক সহায়তা বাড়ানোর উদ্যোগের কথাও জানান তিনি। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা বলেন, বছরের শেষ নাগাদ ৪০ লাখ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনার লক্ষ্য রয়েছে। বর্তমানে এ নিয়ে নিবিড়ভাবে কাজ চলছে এবং প্রায় নিখুঁত একটি তালিকা তৈরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

৪০ লাখ পরিবারে গড়ে পাঁচজন সদস্য ধরলে প্রায় দুই কোটি মানুষ এই সহায়তার আওতায় আসবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দুই কোটি মানুষের কাছে প্রতি মাসে এই সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

এছাড়া খাদ্য সহায়তা কর্মসূচি, ওএমএস ও টিসিবির পণ্য বিক্রির আওতাও বাড়ানো হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মাধ্যমে মূল্যস্ফীতির চাপ থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষকে সুরক্ষা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা।

জাতীয় এর আরও খবর