img

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দিনেই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা

প্রকাশিত :  ০৬:২২, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইবিতে ছাত্রদল-শিবির সংঘর্ষের দিনেই ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) শাখা শিবিরের এক নেতাকে ছাত্রদল কর্মীর চড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে জামায়াত-শিবির ও বিএনপি-ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে অন্তত দুজন আহত হয়েছেন।

একই দিনে আগামী তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ ইবি শাখার ২৮ সদস্যবিশিষ্ট নতুন আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করেছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ। এতে আহ্বায়ক করা হয়েছে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষের সাবেক শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান হাফিজকে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী উত্তেজনা পরিস্থিতির মধ্যেই রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়লী আসিফ ইনান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটির মেয়াদ শেষে সাংগঠনিক কার্যক্রম ও রাজনৈতিক সক্রিয়তা বিবেচনায় পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করা হবে।

এ কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন- যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মামুন-অর-রশিদ, আলহাজ আলী শ্রাবণ, তরিকুল ইসলাম তরুণ, রতন কুমার রায়, সামিউল ইসলাম, শাহিন আলম, মামুন রানা, সাব্বির আহমেদ আকিফ, রাব্বি হোসেন, নাছিম হাসান নাঈম, রাসেল আলী, রাকিবুল ইসলাম, সোহানুর রহমান, মেসবাহুল ইসলাম, নাবিল আহমেদ ইমন, মো. সাদিদ খান সাদি, হুসাইন তুষার, অনিক কুমার, সোহাগ শেখ, তানভীর হাসান, রাব্বি হাসান, আকিব মাসুদ, পিয়াস মুস্তাকিম, সাগর আহম্মেদ, মো. রাকিব হোসেন, শাহরিয়ার হিমেল ও পাভেল মোল্লা।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শনিবার দুপুর ১টায় কাজী জুহায়ের হলের করিডোর দিয়ে যাওয়ার সময় একটি কক্ষ থেকে বের হয়ে আলিনূর রহমান তাকে চড় দেন। তবে কী কারণে তাকে চড় দেওয়া হয়েছে, তাৎক্ষণিকভাবে এর সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। ঘটনার পর শিবিরের নেতাকর্মীরা অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে তার কক্ষ থেকে বের করে নিয়ে আসতে গেলে দুপক্ষের মধ্যে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর, ছাত্র-উপদেষ্টা ও হল প্রভোস্টের উপস্থিতিতে বিষয়টি সমাধানের জন্য উভয় পক্ষ আলোচনায় বসে।

আলোচনায় অভিযুক্ত ছাত্রদল কর্মীকে আনতে গেলে শিবিরের নেতাকর্মীরা উত্তেজনা সৃষ্টি করেন অভিযোগ করে ছাত্রদল নেতারা বের হয়ে যান। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে আবারও কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে সেখানে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে অভিযুক্তকে উদ্ধার করতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে শিবির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।

এরপর ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে বেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অবস্থান নেন। স্থানীয় জামায়াতের নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হলে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে স্থানীয় জামায়াতের দুই কর্মী শহীদুল ও বাবলু আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ ও র‍্যাব মোতায়েন করা হয়।

উভয় পক্ষকে নিয়ে প্রক্টর অফিসে আলোচনায় বসে প্রক্টরিয়াল বডি। এ সময় তদন্ত কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। পরে শহীদ জিয়াউর রহমান হলের দুজন ছাত্রের মধ্যে সংঘটিত ঘটনা তদন্তের জন্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর রহমান তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন।

সংঘর্ষের বিষয়ে কুষ্টিয়া জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) ফয়সাল মাহমুদ বলেন, ‘এখানে দুপক্ষের মধ্যে একটা ইস্যুকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়ে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। আমরা পুলিশ এসে বিষয়টা দুপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে বর্তমানে একটা স্বাভাবিক পরিস্থিতি বিরাজ করিয়েছি। তার পরও আমরা আমাদের অবস্থান এখানে রেখেছি, যাতে পরে আর উত্তপ্ত না হয়।’

সংঘর্ষের বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ কে এম মতিনুর বলেন, ‘ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলেছি। এই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এ ছাড়াও বহিরাগত প্রবেশ নিষিদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’


শিক্ষা এর আরও খবর

img

২ কোটি টাকার স্কলারশিপ পেলেন চা বাগানের শান্তা

প্রকাশিত :  ০৯:২০, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার লংলা চা বাগানের শ্রমিক লাইনের ছোট্ট একটি ঘরে জন্ম শান্তা যাদবের। সেই শান্তা এখন পড়বেন যুক্তরাষ্ট্রের হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলে। সেখানে উচ্চশিক্ষার জন্য প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি পেয়েছেন তিনি।

শান্তার বাবা-মা দুজনই চা শ্রমিক। বাবা-মায়ের মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও কম। সেই সীমিত সামর্থ্যের পরিবার থেকেই উঠে এসে হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের ‘মাস্টার অব মেডিকেল সায়েন্স ইন গ্লোবাল হেলথ ডেলিভারি’ প্রোগ্রামে পড়ার সুযোগ পেয়েছেন শান্তা।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব ও মা রীনা যাদব দুজনই চা শ্রমিক। সীমিত আয়ে সংসারের প্রয়োজন মেটানোই তাঁদের জন্য কঠিন ছিল। এমন পরিস্থিতিতে মেয়ের উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণ করা সহজ ছিল না। তবে ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি আগ্রহী শান্তা নিজের লক্ষ্য থেকে সরে যাননি।

পারিবারি সূত্রে জানা যায়, লংলা চা বাগানের স্থানীয় স্কুলে তাঁর শিক্ষাজীবনের শুরু। পরে কুলাউড়ার ক্যামেলিয়া ডানকান ফাউন্ডেশন স্কুল থেকে মাধ্যমিক এবং শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন তিনি।

উচ্চশিক্ষার জন্য শান্তা ভর্তি হন চট্টগ্রামের এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেনে। সেখান থেকে জনস্বাস্থ্যে স্নাতক সম্পন্ন করেন তিনি।

হার্ভার্ডে পড়ার সুযোগ পাওয়ার আগে বিশ্বের আরও ১৬টি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনার প্রস্তাব পেয়েছিলেন শান্তা। নিজের অভিজ্ঞতা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত তিনি হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের প্রোগ্রামটি বেছে নেন। প্রায় ২ কোটি টাকা সমমূল্যের বৃত্তি নিয়ে সেখানে পড়ার সুযোগ তাঁর শিক্ষাজীবনের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন বলে মনে করেন শান্তা। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে জনস্বাস্থ্য বিষয়ে জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের পথও খুলছে তাঁর সামনে।

শান্তার কাছে জনস্বাস্থ্য কেবল পাঠ্যবইয়ের বিষয় নয়। চা বাগানের শ্রমিকেরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা পেতে কী ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হন, তা তিনি কাছ থেকেই দেখেছেন। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা পেতে দূরে যেতে হওয়া এবং চিকিৎসা গ্রহণের নানা সীমাবদ্ধতা তাঁর নিজের কমিউনিটির মানুষের জীবনের অংশ।

এসব অভিজ্ঞতা থেকেই জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় শান্তার। নিজের এলাকার মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা এবং তাঁদের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখার আকাঙ্ক্ষা তাঁর ভবিষ্যৎ লক্ষ্যকে আরও স্পষ্ট করেছে। হার্ভার্ডে পড়াশোনার সুযোগ তাই তাঁর কাছে শুধু ব্যক্তিগত অর্জন নয়, নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।

শান্তার বাবা লক্ষ্মী নারায়ণ যাদব জানিয়েছেন, ছোটবেলা থেকেই তাঁর মেয়ে পড়াশোনায় আগ্রহী ছিল। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে শুরুতে শান্তাকে শহরের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়ানোর সুযোগ হয়নি। তবু মেয়ের মেধা, আগ্রহ ও অধ্যবসায় দেখে তিনি আশাবাদী ছিলেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, একদিন মেয়ে নিজের যোগ্যতায় ভবিষ্যৎ গড়ে তুলবে।

শান্তার বর্তমান অর্জন সেই আশা এবং পরিবারের দীর্ঘদিনের ত্যাগের প্রতিফলন। মাসে ১০ হাজার টাকারও কম আয়ের একটি পরিবার থেকে উঠে এসে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাওয়া দেখিয়ে দিচ্ছে, সীমিত সামর্থ্য সব সময় শিক্ষার্থীর সম্ভাবনার সীমা নির্ধারণ করে না।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা নিজের শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি চা বাগানের অন্য শিক্ষার্থীদের নিয়েও ভেবেছেন। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগ নেন তিনি।

চা বাগানের অনেক শিক্ষার্থীর জন্য উচ্চশিক্ষার পথে আর্থিক সীমাবদ্ধতা, সুযোগের অভাব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে শান্তার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছানো তাঁদের সামনে নতুন সম্ভাবনার দৃষ্টান্ত তৈরি করতে পারে। তাঁর পথচলা অন্য শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের সামর্থ্য ও সুযোগ সম্পর্কে নতুন করে ভাবতে উৎসাহিত করতে পারে।

হার্ভার্ডে পড়াশোনা শেষে নিজের এলাকায় ফিরে চা শ্রমিকদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমান উন্নয়নে কাজ করতে চান শান্তা। তাঁর এই পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িয়ে আছে শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং বেড়ে ওঠা কমিউনিটির মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।

যে চা বাগানের সীমাবদ্ধতা কাছ থেকে দেখে তাঁর জনস্বাস্থ্য নিয়ে পড়ার আগ্রহ তৈরি হয়েছে, উচ্চশিক্ষার পর সেই এলাকার মানুষের জন্যই কাজ করতে চান তিনি। হার্ভার্ডের শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজের কমিউনিটির স্বাস্থ্যসেবায় কীভাবে অবদান রাখা যায়, সেটিই এখন তাঁর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় শান্তা শুধু নিজের পড়াশোনায় সীমাবদ্ধ থাকেননি। চা ছাত্র সংসদের শিক্ষা ও গবেষণাবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে কাজ করেছেন। এ সময় চা বাগানের শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষায় উৎসাহিত করার উদ্যোগও নেন।