img

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে ১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের; প্রতিহত করলো বিজিবি

প্রকাশিত :  ১৩:৪২, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে ১০-১২ জনকে পুশ-ইনের চেষ্টা বিএসএফের; প্রতিহত করলো বিজিবি

ঢাকা, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬: বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে সাতক্ষীরার কালিন্দী নদী সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জনকে অবৈধভাবে বাংলাদেশে পুশ-ইন করার চেষ্টা করে। প্রচন্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়া উপেক্ষা অত্যন্ত সফলভাবে বিএসএফের এই অপচেষ্টা প্রতিহত করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।

আজ (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে প্রচন্ড বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার সুযোগে বিজিবির নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি)-এর দায়িত্বপূর্ণ খুরমী বিওপি থেকে দক্ষিণ দিকে আনুমানিক ৩.৫ কিলোমিটার দূরে কালিন্দী নদীর মধ্যস্থ চর এলাকায় (ছোট) বাঁশঝাড়িয়া মিনি ফরেস্ট নামক স্থানে ভারতের ৭৭ বিএসএফ ব্যাটালিয়নের চর সাহেবখালী বিএসএফ ক্যাম্পের সদস্যরা ০১টি কান্ট্রি বোট ও ০১টি স্পিড বোটযোগে অজ্ঞাতনামা ১০-১২ জন ব্যক্তিকে বাংলাদেশে পুশ-ইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি খুরমী বিওপির টহলদলের নজরে আসলে প্রচন্ড বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে স্পিড বোটযোগে ঘটনাস্থলে পৌঁছে উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা প্রদান করে। বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বিএসএফ সদস্যরা উক্ত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে প্রবেশ করাতে ব্যর্থ হয়। আনুমানিক সকাল ১১.০০ টার দিকে বিএসএফ সদস্যরা উক্ত ১০-১২ জন ব্যক্তিকে ভারতের অভ্যন্তরে ফিরিয়ে নিয়ে যায়।বিজিবির তাৎক্ষণিক ও দৃঢ় অবস্থানের ফলে বিএসএফ কর্তৃক অবৈধ পুশ-ইনের চেষ্টা কার্যকরভাবে প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে।

এ ব্যাপারে নীলডুমুর ব্যাটালিয়ন (১৭ বিজিবি) এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল খন্দকার আবু সহল আব্দুল্লাহ বলেন, “দেশের সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ১৭ বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্কতা, পেশাদারিত্ব ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে অবৈধভাবে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আন্তর্জাতিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা নীতিমালা, প্রচলিত আইন এবং বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সমঝোতার পরিপন্থী যেকোনো পুশ-ইনের অপচেষ্টা ১৭ বিজিবি কর্তৃক কঠোরভাবে প্রতিহত করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন, “পুশ-ইন প্রতিরোধে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির গোয়েন্দা নজরদারি, টহল ও অপারেশনাল কার্যক্রম বহুগুণে জোরদার করা হয়েছে। দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষায় এবং যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় ১৭ বিজিবি সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।”

-প্রেস বিজ্ঞপ্তি


বাংলাদেশ এর আরও খবর

img

মাদ্রাসায় তিন মাস ধরে নিয়মিত শিক্ষকের ধর্ষণের শিকার ছাত্র

প্রকাশিত :  ১৩:৪৯, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে ১০ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে নিয়মিত যৌন নিপীড়নের অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক আল আমিনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী ওই ছাত্র নাজেরা বিভাগে পড়াশোনা করত বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হলে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকালে ক্ষুব্ধ স্বজন ও স্থানীয় লোকজন অভিযুক্ত শিক্ষককে মারধর করেন। পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা ও প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান এবং শিক্ষক আল আমিনকে আটক করে।

ঘটনাটি নিয়ে আইনগত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

অভিযুক্ত আল আমিন মির্জাপুর উপজেলার ভাওড়া ইউনিয়নের শ্বশ্বধরপট্টি গ্রামের আব্দুল মালেক মিয়ার ছেলে। তিনি প্রায় তিন বছর আগে ওই মাদরাসায় শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন।

ভুক্তভোগীর পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মির্জাপুর উপজেলা সদরের বাইপাস বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি মার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা ভাড়া নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে ফতেপুর ইউনিয়নের পারদিঘী গ্রামের হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান মারকাজুল উম্মাহ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জামুর্কী ইউনিয়নের পাকুল্যা সদরের ওই শিশুকে নাজেরা বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে সে মাদ্রাসার আবাসিক ব্যবস্থায় থাকত।

পরিবারের অভিযোগ, গত তিন মাস ধরে বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রলোভন দেখিয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিলেন শিক্ষক আল আমিন। এতে তার পেটে ব্যথা এবং পায়খানার রাস্তা দিয়ে রক্তপাতসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দেয়। অসুস্থতার কথা জানালে তার মা তাকে ছুটিতে বাড়িতে নিয়ে যান।

বাড়িতে থাকার সময় একদিন সকালে শিশুটির নানা আজিজুর রহমান বাড়ির টয়লেটে রক্ত দেখতে পান। বিষয়টি তিনি শিশুটির মাকে জানান। তবে ভয়ে তখনও ধর্ষণের বিষয়টি পরিবারের কাছে প্রকাশ করেনি শিশুটি।

পরে তাকে জামুর্কী, মির্জাপুর ও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। চিকিৎসা শেষে ১১ দিন আগে শিশুটিকে আবার মাদরাসায় রেখে যান তার মা। পরিবারের দাবি, ওই ১১ দিনের মধ্যে আট দিনই তাকে ধর্ষণ করা হয়। একপর্যায়ে শিশুটির প্রচুর রক্তক্ষরণ হলে সে বিষয়টি মাকে জানায়। পরে মা তাকে আবার বাড়িতে নিয়ে আসেন।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) মির্জাপুর সদরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে শিশুটির বিভিন্ন পরীক্ষা করানো হয়। পরিবারের দাবি, পরীক্ষার পর চিকিৎসক শিশুটির শারীরিক অবস্থা দেখে ধর্ষণের বিষয়টি জানান এবং তার স্বজনদের কাছে বিষয়টি বিস্তারিত তুলে ধরেন।

এরপর শুক্রবার সকালে শিশুটির মা, নানা ও মামা মাদরাসায় গিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকের বিচার দাবি করেন। এ সময় শিক্ষক ও প্রিন্সিপালের সঙ্গে তাদের কথা-কাটাকাটি হয়। পরে বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় লোকজন মাদরাসায় জড়ো হয়ে শিক্ষক আল আমিনকে মারধর করেন।

এদিকে অভিযোগ উঠেছে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল গেট বন্ধ করে শিক্ষার্থীদের হাতে লাঠি তুলে নিয়ে জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেন। এ নিয়ে সেখানে উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। খবর পেয়ে বেলা ১১টার দিকে মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুনের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় নেওয়া হয়।

ভুক্তভোগীর নানা বলেন, এত ছোট একটি শিশুর সঙ্গে এমন আচরণ মেনে নেওয়া যায় না। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

ভুক্তভোগী শিশুটিও অভিযোগ করে, গত তিন মাস ধরে শিক্ষক আল আমিন তাকে ভয় দেখিয়ে ও বিভিন্নভাবে ফুসলিয়ে ধর্ষণ করেছেন। অসুস্থ হয়ে পড়ার পর সে মাকে মাদ্রাসা থেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করেছিল বলেও জানায়।

শিশুটির মা অভিযোগ করেন, ছেলে অসুস্থ থাকার কথা জানিয়ে মাদ্রাসা থেকে বাড়িতে নিতে গেলে শিক্ষক আল আমিন তাকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দেন। পরে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। তিনি অভিযুক্ত শিক্ষকের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন।

তবে ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিক্ষক আল আমিন। তিনি বলেন, ‘আমি নির্দোষ। উপরে আল্লাহ আছেন, তিনি বিচার করবেন। ছাত্ররা তো মিথ্যা কথা বলেই, ওই ছাত্রও মিথ্যা বলছে।’

পেটব্যথার কারণে শিশুটিকে গ্যাস্ট্রোলিভারের চিকিৎসক দেখানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন বলে জানান তিনি।

মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা মনিরুজ্জামান বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষক আল আমিনকে আর প্রতিষ্ঠানে রাখা হবে না। জনতার ওপর হামলার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, কয়েকজন তার গলা চেপে ধরেছিলেন, সে কারণেই তিনি এমন নির্দেশ দিয়েছেন।

মির্জাপুর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল ও অভিযুক্ত শিক্ষককে আটক করে থানায় আনা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটির মা বাদী হয়ে মামলা করবেন বলে জানিয়েছেন।