img

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর দিল মুডিস

প্রকাশিত :  ২০:০৮, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সুখবর দিল মুডিস

রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধি এবং রেকর্ড পরিমাণ রেমিট্যান্স প্রবাহের কারণে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। এর প্রভাবে আন্তর্জাতিক ঋণমান নির্ধারণকারী সংস্থা মুডিস রেটিংস বাংলাদেশের ঋণমানের পূর্বাভাস ‘নেতিবাচক’ থেকে উন্নীত করে আবার ‘স্থিতিশীল’ করেছে।

তবে ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হার অব্যাহত থাকায় দেশটির বর্তমান রেটিং ‘বি২’-তেই অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) প্রকাশিত মুডিসের এই নতুন মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নির্বাচন-পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন এবং নতুন সরকারের প্রতি ব্যাপক জনসমর্থন থাকায় রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এখন সংস্কার কাজে বড় কোনো বাধা তৈরি করছে না। 

এছাড়া আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ধারাবাহিক সহযোগিতা দেশের অর্থায়ন ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে সাহায্য করছে। এর আগে ২০২৫ সালের মার্চে অর্থনৈতিক সংকটের কারণে বাংলাদেশের ঋণমান কমিয়ে ‘নেতিবাচক’ করেছিল এই সংস্থাটি।

খাত সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মুডিসের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের ফলে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বাড়বে। এর ফলে বিদেশি ব্যাংকগুলো দেশের ব্যাংকগুলোর জন্য ডলার বা বৈদেশিক ঋণের সীমা বাড়িয়ে দেবে, যা সহজ শর্তে আমদানি বা এলসি খোলার ক্ষেত্রে বড় ধরনের সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।

প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হার বাজারভিত্তিক করা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলে হুন্ডিমুক্ত রেকর্ড রেমিট্যান্স আসার ফলে ২০২৬ সালের মাঝামাঝি সময়ে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বেড়ে প্রায় ৩২ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে, যা দিয়ে চার মাসের বেশি সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো সম্ভব। যেখানে ২০২৪ সালে রিজার্ভ নেমে এসেছিল ২১ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে।

পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলে জানিয়েছে মুডিস। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৪ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে এবং আগামী অর্থবছরগুলোতে তা আরও বাড়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। তবে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩২ দশমিক ৮ শতাংশে পৌঁছানো এবং তা সামাল দিতে বড় অংকের মূলধন প্রয়োজন হওয়ায় সরকারের ওপর চাপ রয়েছে বলে সতর্ক করেছে সংস্থাটি। এছাড়া দেশের সর্বনিম্ন রাজস্ব আদায় ব্যবস্থা, মোট রাজস্বের বড় অংশ ঋণের সুদ পরিশোধে চলে যাওয়া এবং বিদ্যুৎ খাতের কিছু দুর্বলতার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে মুডিস।

জাতীয় এর আরও খবর

img

একনেকে অনুমোদন পেল ৩ মেট্রোরেল প্রকল্প

প্রকাশিত :  ০৯:৩৩, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর তিনটি মেট্রোরেল প্রকল্প অনুমোদন দিয়েছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক)। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত একনেকের বৈঠকে প্রকল্প তিনটির অনুমোদন দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেকের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

অনুমোদন পাওয়া প্রকল্পগুলো হলো— মেট্রো রেল লাইন-৫ সাউদার্ন রুট, মেট্রো রেল লাইন-১ এবং মেট্রো রেল লাইন-৫ নর্দান রুট।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তিনটি মেট্রো রেল প্রকল্প বাস্তবায়নে মোট ব্যয় হবে প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা।

প্রকল্পগুলোর মধ্যে জাপানের আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থার (জাইকা) অর্থায়নে এমআরটি লাইন-১ (বিমানবন্দর-কমলাপুর) ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান (হেমায়েতপুর-ভাটারা) প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রস্তাব রয়েছে।
পাশাপাশি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) ও দক্ষিণ কোরিয়ার যৌথ অর্থায়নে নতুন এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন (গাবতলী-দাশেরকান্দি) প্রকল্প অনুমোদন পেয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, শুরুতে একনেকের মূল এজেন্ডায় শুধু এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা ছিল। তবে পরে সমন্বিত অগ্রগতির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এমআরটি লাইন-১ ও এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ সংশোধনের প্রস্তাবও একই সভায় উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
জাইকার অর্থায়নে ৩১ দশমিক ২৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এমআরটি লাইন-১ বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১ লাখ ১৪ হাজার ৩৯৪ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।
২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ নর্দান প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা।

আর ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার পাতালপথসহ মোট ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এমআরটি লাইন-৫ সাউদার্ন প্রকল্পের প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি টাকা।

জাতীয় এর আরও খবর